১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ‘আত্মজিজ্ঞাসায়’ দুদক

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২১ নভেম্বর ২০২০, শনিবার
প্রকাশিত: ১০:০৪ আপডেট: ১০:৪৪

১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ‘আত্মজিজ্ঞাসায়’ দুদক

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, ‘প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনাসভা আত্মজিজ্ঞাসা বা আত্মসমালোচনার একটি প্লাটফরম। এর মাধ্যমে দুদকের প্রতিটি কর্মীর নিজ নিজ দর্শনের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে হবে।

শনিবার (২১ নভেম্বর) দর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ষোড়শ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ এ মন্তব্য করেন। 

ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, `আমার দীর্ঘ কর্মজীবনে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। তাতে আমার মনে হয়েছে দুদক কর্মকর্তাদের যে প্রজ্ঞা রয়েছে তা আন্তর্জাতিক মানের। আপনাদরে সকলের মননে যদি দুর্নীতিবিরোধী জাগরণ সৃষ্টি করতে পারেন, তা হলে তা দুর্নীতিবিরোধী গণজাগরণে রুপান্তরিত হবে। তাই আসুন, আমরা সবাই শপথ গ্রহণ করি, আমাদের সক্ষমতা, জ্ঞান, প্রজ্ঞা যা কিছু আছে তা দিয়ে জনগণের কল্যাণে তাদেরকে সাথে নিয়ে দুর্নীতিবিরোধী গণজাগরণ সৃষ্টি করি।'   

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনাসভা আত্মজিজ্ঞাসা বা আত্মসমালোচনার একটি প্লাটফরম। এর মাধ্যমে দুদকের প্রতিটি কর্মীর নিজ নিজ দর্শনের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে হবে। এমন সময় এ বারের প্রতিষ্ঠাবার্র্ষিকী উদযাপন হচ্ছে, যখন শুধু দুর্নীতি দমন কমিশন বা বাংলাদেশ নয় সারা বিশ্বই মহাসংকট কাল অতিক্রম করছে। এই মহাসংকট কালেও দেশের দুষ্টু চক্রের কালো হাত থেমে নেই। সে কারণেই মাস্ক কেলেঙ্কারি, করোনা টেস্ট জালিয়াতি, ত্রাণ-সামগ্রী আত্মসাৎ, চিকিৎসা জালিয়াতির মতো ঘটনা আমাদের সামনে এসেছে। আমরাও দায়িত্ব পালনে পিছপা হইনি। তাদের বিরুদ্ধে আইনি উদ্যোগ গ্রহণ করি। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই আমাদের ৭০ জনেরও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন’
   
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা আইনি দায়িত্ব পালনে অঙ্গীকারাবদ্ধ-তাই আমাদের ঝুঁকি নিতে কোনো ভয় নেই। আমরা ঝুঁকি নিয়েছি। আমরা সবাই সমন্বিতভাবেই ঝুঁকি নিয়েছি। কোনো হুমকি-ধমকি আমাদেরকে আইনি দায়িত্ব পালনে নিবৃত করতে পারেনি। আমরা সবাই একই সমতলে থেকে দায়িত্ব পালন করেছি।’ 

আলোচনা সভায় দুদক কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষিত হয়েও যারা দুর্নীতি করছেন, তারা জঘন্য অমানবিক অপরাধ করছেন। তাদের মানবিক গুণাবলি নেই বরাং পাশবিক গুণাবলি রয়েছে। সবাই সন্তানদের জজ-ব্যারিস্টার, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার, সরকারি বড় কর্মকর্তা বানাতে চান। এটা ভালো কথা। তবে সন্তানদের মানবিক গুণাবলি সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার কাজটিও একই সঙ্গে বাবা-মাকে করতে হবে।’ 

দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত বলেন, ‘লকডাউনকালে যখন সকল অফিস আদালত বন্ধ ছিল,তখনও দুদক মামলা করেছে, আসামি গ্রেফতার করেছে। সকল কার্যক্রম ডিজিটালি সম্পন্ন করা হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির কারণেই দুদকের ৯০ শতাংশেরও বেশি নথি ই-নথির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।’  

দুদক চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত অনুবিভাগের মহাপরিচালক সাঈদ মাহবুব খান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অনুবিভাগের মহাপিরচালক এ কে এম সোহেল, গোয়েন্দা অনুবিভাগের পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী, ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. আক্তার হোসেন, যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক নাজমুস সায়াদাত প্রমুখ। ভার্চুয়াল এ আলোচনাসভা দদুদকের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় কার্যায় ও সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।’

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খানের কাছে দুদকের সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে মতামত জানতে চাইলে তিনি ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘দুদকের দায়ের করা মামলার ৭৭ শতাংশ অভিযোগ প্রমাণ করে আদালতের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির মুখোমুখি করতে সক্ষম হয়েছি। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে এতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট না। আমি চাই শতভাগ মামলায় দুদকের সাফল্য আসুক।’

তবে আরেক প্রশ্নের জবাবে দীর্ঘ সময় ধরে দুদকের প্যানেল ল’ইয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই আইনজীবী বলেন, ‘পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখনকার দুদুক অনেক গতিশীল এবং শক্তিশালী। তবে অনুসন্ধাণের ক্ষেত্রে হয়ত দুদকের কিছুটা ঘাটতি রয়েছে।’  

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত মত হলো দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। অণুসন্ধানকারী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তোলা প্রয়োজন।’

সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে দুদকের তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতার কথা জানতে চাইলে খুরশিদ আলম খান বলেন, ‘আমাদের দেশে উচ্চ পদস্থ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কেউ সাক্ষী দিতে চায় না। ধরুন কোনো মন্ত্রণালয়ের সচিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠলো তখন ওই মন্ত্রণালয়ের কেউ কথা বলতে চায় না। সচিবের বিরুদ্ধে নিচের পদের কেউই সহজে কোনো কথা বলে না। এ ক্ষেত্রে দুদকের তথ্য প্রমাণ যোগাড় করতে গিয়ে বেগ পেতে হয়। এ রকম কিছু ক্ষেত্রে দুদক হয়ত স্বল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে পারে না। সামগ্রিক বিচারে দুদক অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে সফল প্রতিষ্ঠান, এটা আমি বিশ্বাস করি।’  
 
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর দুর্নীতি দমন ব্যুরো বিলুপ্ত হয়ে বর্তমান দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়। তার আগে দুর্নীতি দমন ব্যুরোর অধীনে বিচারিক আদালত ও সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ও আপীল বিভাগে মামলা পরিচালনা/মনিটর করা, অনুসন্ধান/তদন্ত পর্যায়ে আইনি মতামত প্রদান করাসহ যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতেন পরিচালক (আইন)। ব্যুরোর কোনো আলাদা প্রসিকিউশন ইউনিট ছিল না। 

ব্রেকিংনিউজ/কেআই

breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি