জলবায়ু পরিবর্তনে ৬০ লাখ বাংলাদেশি বাস্তুহারা: শেখ হাসিনা

পরিবেশ ডেস্ক
৩ এপ্রিল ২০২১, শনিবার
প্রকাশিত: ০৯:৫৭ আপডেট: ০১:২৫

জলবায়ু পরিবর্তনে ৬০ লাখ বাংলাদেশি বাস্তুহারা: শেখ হাসিনা

কার্বন নিঃসরণ কমাতে উন্নত দেশগুলো থেকে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা আশা করছেন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) নেতা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পৃথিবীকে বাঁচাতে এ বছরের শেষে গ্লাসগোতে ২৬তম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন (কপ২৬) বসার আগেই এই পরিক্ল্পনার ব্যাপারে আশাবাদী ৪৮ উন্নয়নশীল দেশ নিয়ে গঠিত সিভিএফ জোটের সভাপতি শেখ হাসিনা।
 
আসন্ন জলবায়ু সম্মেলনকে অর্থবহ করতে সিভিএফ-কপ২৬ ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ সম্মাননা জয়ী শেখ হাসিনা ডিপ্লোম্যাট ম্যাগাজিনের এপ্রিল সংখ্যায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে লিখেছেন, “প্রকৃতির রুদ্ররোষের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ না হলে আমাদের পরাজয় নিশ্চিত। যে প্রকৃতি আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে, খুব সচেতনভাবে আমরা তাকে ধ্বংস করে চলেছি।”
 
নিবন্ধের শুরুতেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইতোমেধ্যে ৬০ লাখ বাংলাদেশি বাস্তুহারা হয়েছে। তারপরও আমরা ১ কোটি ১০ লাখ রোহিঙ্গার ভার বহন করে চলেছি, আর সেজন্য আমাদেরকে পরিবেশগত মূল্যও চুকাতে হচ্ছে। এর ক্ষতিপূরণ আমাদের কে দেবে?”

শেখ হাসিনা ২০২০ সালে দ্বিতীয়বারের মত ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার কথা স্মরণ করে লিখেছেন, “গ্রেটা থুনবার্গ অথবা বাংলাদেশের কোস্টাল ইয়ুথ অ্যাকশন হাবের তরুণ পরিবেশকর্মীদের আমরা কোন পৃথিবী রেখে যাব? কপ২৬ এ তাদের ভবিষ্যত আমরা জলাঞ্জলি দিতে পারি না।”
 
অভিযোজন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের প্রেসিডেন্ট হিলডা হাইন ২০১৯ সালে ঢাকায় এসেছিলেন। সেই সম্মেলনে সাবেক জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুনের সঙ্গে শেখ হাসিনা কো-চেয়ার ছিলেন।
 
যেসব উন্নত দেশ সবচেয়ে বেশি দূষণ ঘটাচ্ছে, সেসব দেশকে সেই সম্মেলন থেকে তারা সতর্ক করেছিলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতির যে মাত্রা, তার তুলনায় বিশ্বের নেওয়া অভিযোজন পদক্ষেপ নিতান্তই অপ্রতুল। কোটি কোটি মানুষ জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হচ্ছে, যাদের কেউ আশ্রয় দিতে চায় না।
 
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তার নিবন্ধে বলেন, সেই সম্মেলনে হিলডা হাইন যখন বাংলাদেশকে সিভিএফের পরবর্তী সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব করলেন, তখন তার মনে হয়েছিল, জলবায়ু সঙ্কটে বিশ্ব যেখানে পৌঁছেছে, আর অভিযোজনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে সাফল্য দেখিয়েছে, তাতে সিভিএফের নেতৃত্ব দেওয়া বাংলাদেশের দায়িত্ব।   
 
২০০৯ সালে মালদ্বীপের নেতৃত্বে বাংলাদেশসহ ১০টি দেশ নিয়ে যাত্রা শুরু করা সিভিএফ এখন বিশ্বের শতকোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছে, যারা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে আছে।
 
প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাংলাদেশ তার জিডিপির ২ শতাংশ হারায়; এই শতকের শেষে তা পৌঁছাবে ৯ শতাংশে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা এভাবে বাড়তে থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১৭ শতাংশ চলে যাবে পানির নিচে, তাতে বাস্তুচ্যুত হবে তিন কোটি মানুষ।
 
বাংলাদেশসহ যেসব দেশ ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের সদস্য, জলবায়ু পরিবর্তনে তাদের ভূমিকাই যে সবচেয়ে কম, সে কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা লিখেছেন, “জলবায়ু অবিচার বন্ধের জন্য উদ্যোগী হওয়ার সময় এসেছে এখন।”
 
প্যারিস সম্মেলনে জলবায়ু অর্থায়নের জন্য ১০০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে তহবিল পাওয়া গেছে ঢের কম। জি টোয়েন্টিভুক্ত দেশগুলো, যারা বিশ্বের মোট কার্বন গ্যাস নিঃসরণের ৮০ শতাংশের জন্য দায়ী, তারা জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে।
 
“আর তার মধ্যেই বিনামেঘে বজ্রপাতের মত এল কোভিড-১৯ মহামারি। তাতে জলবায়ু, স্বাস্থ্য আর প্রকৃতির ত্রিমুখী সঙ্কটে পড়ল বিশ্ব। আমি হুঁশিয়ার করেছিলাম, বলেছিলাম জলবায়ু সঙ্কট আসলে বিশ্বের জন্য একটি জরুরি পরিস্থিতি, শেষ পর্যন্ত কঠোর বাস্তবতা সেই জরুরি বিষয়টি বুঝতে বিশ্বকে বাধ্য করল।”
 
২০২০ সালে খুব বেশি আইএনডিসিএস এল না, কপ২৬ স্থগিত হয়ে গেল। শেখ হাসিনা তাই সিভিএফ নেতাদের সম্মেলন ডাকলেন, বিশ্ব নেতৃত্বকে বললেন, “নেতার ভূমিকায় এখন ব্যর্থ হলে চলবে না, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বর্ধিত ‘ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কনট্রিবিউশন‘ ঘোষণা করুন। বাস্তবিক অর্থে এটা আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়সীমা।”
 
সে আহ্বানে সাড়া দিয়ে ৬০টি দেশ তাদের (কার্বন নিঃসরণ কমানোর) হালনাগাদ রূপরেখা (আইএনডিসিএস) জমা দিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের প্রতিশ্রুতি ছিল উল্লেখযোগ্য, আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে ফেরার সিদ্ধান্তও উৎসাহব্যাঞ্জক। 
 
ব্রেকিংনিউজ/এম

breakingnews.com.bd
প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি