গভীর সমুদ্রবন্দরে প্রথম জাহাজ ভিড়ছে জানুয়ারিতে

মনির ফয়সাল, চট্টগ্রাম
১৭ নভেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০৩:১৮

গভীর সমুদ্রবন্দরে প্রথম জাহাজ ভিড়ছে জানুয়ারিতে

দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মিত হচ্ছে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে। ২০২৬ সালে পুরোদমে চালু হবে এই সমুদ্রবন্দরটি। কিন্তু তার আগেই নির্মিতব্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য তিনটি জেটি এবং জাহাজ প্রবেশের জন্য ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ চ্যানেল বা পথ ডিসেম্বরের মধ্যেই বুঝে পাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। আর ওই চ্যানেল দিয়ে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে ভিড়ছে প্রথম জাহাজ।

জানা গেছে, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে জাপানের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) বৈদেশিক ঋণ সহায়তা করবে ১২ হাজার ৮৯২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এছাড়া বাংলাদেশ সরকারের তহবিল থেকে ২ হাজার ৬৭১ কোটি ১৫ লাখ। পাশাপাশি সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে পাওয়া যাবে ২ হাজার ২১৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা। জানুয়ারি ২০২০ থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ মেয়াদে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দরে ৩০০ ও ৪৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি টার্মিনাল থাকবে। এর একটি হবে বহুমুখী টার্মিনাল ও অপরটি কন্টেইনার টার্মিনাল। এছাড়া, বন্দরের সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। একসঙ্গে ৮ হাজার কন্টেইনারবাহী জাহাজ বন্দরে ভিড়তে পারবে।

এ বিষয়ে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ও চট্টগ্রাম বন্দর সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মোহাম্মদ জাফর আলম বলেন, ‘২০২১ সালের মে মাসে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং দেড়শ মিটার প্রস্থ চ্যানেলটি আমাদের কাছে হস্তান্তর করবে জাপানী প্রতিষ্ঠান। টি বন্দর জলসীমার আওতার মধ্যে পড়ে তাই মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ফলে মে মাস থেকেই পুরোদমে চ্যানেলে জাহাজ ভিড়া শুরু হবে।’

তিনি বলেন, ‘২০২১ সালে যখন আমরা চ্যানেল আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে পাবো তখন এর গভীরতা হবে সাড়ে ১৮ মিটার। আর মাতারবাড়ীতে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৬ সাল। কিন্তু আমরা এমনভাবে পরিকল্পনা করছি যাতে ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে বন্দরের কার্যক্রম শেষ হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারিতে পরীক্ষামূলকভাবে জাহাজটি আনা হবে। গভীর সমুদ্র বন্দরের জন্য যে চ্যানেল তৈরি হয়েছে সেটার কার্যকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি আনার জন্য নির্মিত বন্দর অবকাঠামো মূলত দেশের বহুল প্রত্যাশিত গভীর সমুদ্র বন্দরের একটি অংশ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, জাহাজটি নোঙর করার মধ্য দিয়ে কার্যত দেশে গভীর সমুদ্র বন্দরের কার্যক্রম শুরু হবে। মাতারবাড়ীতে ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে  ১৫০০’ একর এলকার উপর নির্মিত কয়লা ভিত্তিক ১২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের অগ্রগতি প্রায় ৪০ শতাংশ। কয়লা ও অন্যান্য মালামাল আনা নেয়ার জন্য সেখানে নির্মিত হয়েছে নৌ চ্যানেল ও দুটি জেটি। গভীর সমুদ্রে চলাচলকারী বড় জাহাজ ভিড়তে পারবে সেখানে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম আবুল কালাম আজাদ বলেন, গভীর সমুদ্র বন্দরে পরীক্ষামূলকভাবে এই জাহাজ নিয়ে আসা হচ্ছে। মাতারবাড়ী চ্যানেলে কর্ণফুলী নদীর চেয়েও সহজে জাহাজ ভেড়ানো যাবে। সেখানে জাহাজ চলাচলের জন্য জোয়ার- ভাটার উপর নির্ভর করতে হবে না।

তিনি বলেন, বড় জাহাজ আসার জন্য সাগর থেকে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র পর্যন্ত খনন করা হয়েছে সাড়ে ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ চ্যানেল। তা প্রশস্থতায় ২৫০ মিটার। সেখানে গভীরতা ১৮ মিটারের বেশি। এখানে ১৬ মিটার গভীরতার জাহাজ অনায়াসে ভিড়তে পারবে। চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে এত বড় জাহাজ আসতে পারে না। বহিঃ র্নোঙরে বড় বড় জাহাজ আসে এবং পণ্য লাইটারিং করে ফিরে যায়। বন্দরে ৯ দশমিক ৫ মিটার গভীরতার এবং ১৮৬ মিটার দীর্ঘ জাহাজ আসতে পারে। মাতারবাড়ীতে চ্যানেলে যে কোন বড় জাহাজ ভিড়তে পারবে।

বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ সময়ের দাবি ছিল। জাপানি কনসালটেন্ট নিপ্পন কোয়েইর সঙ্গে ২৩ সেপ্টেম্বর চুক্তি সই হয়েছিল। গতকাল সোমবার (১৬ নভেম্বর) থেকে মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যে বন্দরের কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, মাদার ভেসেল (বড় বড় জাহাজ) এখান থেকে চীন, ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে সরাসরি চলাচল করতে পারবে। এতে নতুন ও উন্নত একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন হবে। তবে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি না হলে কন্টেইনার পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা ব্যবসায়ীদের। অবশ্য বন্দর কেন্দ্রীক নতুন সড়ক নির্মাণের জন্য প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

উল্লেখ, চট্টগ্রাম বন্দরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার কারণে বড় জাহাজ বা মাদার ভেসেল জেটিতে ভিড়তে পারে না। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ফিডার বা ছোট জাহাজে কনটেইনার ভর্তি রফতানি পণ্য নিয়ে প্রথমে সিঙ্গাপুর, পোর্ট কেলাং, কলম্বো ও তানজুম পেলিপাস বন্দর হয়ে ইউরোপ-আমেরিকায় যেতে হচ্ছে। তখন ইউরোপের যেকোনো বন্দর থেকে সরাসরি জাহাজ মাতারবাড়ীতে ভিড়তে পারবে। আর মাতারবাড়ী থেকে যেকোনো জাহাজ পণ্য নিয়ে আমেরিকার কোনো বন্দরে যেতে পারবে।

ব্রেকিংনিউজ/এমএইচ

bnbd-ads
breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি