অনিমেষ স্যারের দিনকাল

শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য টুটুল
২০ জানুয়ারি ২০২১, বুধবার
প্রকাশিত: ০৯:৩০

অনিমেষ স্যারের দিনকাল

লোকটা সেই সকাল থেকে চৌরাস্তার মোড়ের কদম গাছটার নিচে ঘুমিয়ে আছে। তার চারপাশে মাঝে মধ্যে লোকজন জড়ো হচ্ছে। কেউ কেউ আবার যার যার কাজে ভিড় ভেঙে চলে যাচ্ছে। আজ বৃষ্টি হয়নি। তবু আকাশে মেঘেরা বাচ্ছা ছেলে মেয়েদের মতো গোল্লাছুট খেলায়রত। কখন বৃষ্টি নামে বলা যায় না। এবার ভিড়টা বেশি মনে হচ্ছে। দূর থেকে স্পষ্ট দেখা যায়। দেখা যাচ্ছে মানুষগুলো কেমন যেন ভীত হয়ে পড়েছে। সবার মুখের মধ্যে আতংকের ছাপ। আমার জানলার পাশে একটা ছোট ডোবা। ওটার ওপাশেই সিএনবি’র বড় রাস্তাটা চলে গেছে। ভিড়ের মধ্যে আমাদের অবনীকেও দেখলাম। অবনী এবার বিএ পাস করেছে। সব কিছুর মধ্যেই সে আগ বাড়িয়ে চলে। কারো কথা শুনে না। একবার তাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছিল। দু’দল লোকের ঝগড়া থামাতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে যায়। থানার দারোগা বলেছিল ওই ছোকড়াকেই ধর।

সিপাইরা তার দুটি হাত চেপে ধরে বলেছিল, শালারা পালিয়েছে। এটাকে নিলেই বাকিদের নাম জানা যাবে। অবনীর বাবা থানায় ছুটে যান। তারপর থানার ওসি কি মনে করে তাকে ছেড়ে দেয়। অবনী বাড়ি ফিরে গেলে তার মা তাকে স্নান করিয়ে ঘরে তুলে। সেই অবনী ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে সবাইকে কি সব কথা মৃদুস্বরে বলছে। লোকজন মাথা নাড়ছে আর এদিক ওদিক তাকিয়ে কি যেন দেখছে। এবার লোকটা উঠে দাঁড়াবার চেষ্টা করছে। এক সময় অনেক কষ্টে লোকটা উঠে দাঁড়ালো। এখন ভিড় কমতে শুরু করেছে। দুই একজন কিংবা তিন চারজন লোক দাঁড়িয়ে আছে। তার মধ্যে আমাদের অবনীও আছে। লোকটা উঠে দাঁড়াতেই এবার বুঝা গেল কেন লোকটাকে দেখে ভিড় করে এতো মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। লোকটা একেবারে উলঙ্গ। শরীরের কাপড়ের চিহ্ন নেই। কেউ কেউ তাকে নিয়ে ফুর্তি করছে। কেউবা দীর্ঘশ্বাস ফেলছে। দ্বিতীয়টার দলে আমাদের অবনীও আছে। দূর থেকে দেখা যায় লোকটা কি সব বলছে। কি বলছে তা শোনা যাচ্ছে না। এতটাই মৃদুস্বরে সে কথা বলছে। হাত নাড়ছে আর বলছে। অনেকটা সভা সমিতিতে বক্তব্য দেয়ার মতো।

ভাবলাম লোকটা পাগল। এই পাগলদের নিয়ে মানুষের মনে কেন এতো প্রশ্ন থাকে। অবনীকে ডাকদিলাম। অবনী আমার ডাক প্রথমে শুনতে পেলো না। শেষে জোরে চিৎকার করে গলা ফাটিয়ে ডাক দিলাম। এবার মনে হয় সে শুনতে পেয়েছে। সে আমার দিকে ফিরে বলে, এমনভাবে চিৎকার করছো কেন? কথা দুটি বলেই অবনী আবার ভিড়ের মানুষদের কিসব কথা বুঝাচ্ছে। আমি জানলাটা বন্ধ করে দিলাম। আমার কিছুই ভালো লাগছে না কেন? মনটা হঠাৎ করে হেমন্তের দুপুরের মতো উদাস হয়ে গেল। একটা অচেনা পাগলকে নিয়ে কি প্রয়োজন এতো ভাববার। লোকটা আমার চেনা অচেনা কেউ নয়। আমার স্বজন নয়। আত্মীয় নয়। বন্ধু নয়। তারপরও কেন লোকটাকে উলঙ্গ দেখার পর মাথায় রাশি রাশি ভাবনার পোকারা জড়ো হচ্ছে? মনটা বারবার উদাসীন পাখির মতো হাহাকার করে উঠছে। কোথায় যেন একটা নিবিড় বেদনার সুর বেজে যাচ্ছে।
 
এখনো সন্ধ্যা হয়নি। জানালা আমি আবার খুললাম। দেখি উলঙ্গ লোকটা এখনো দাঁড়িয়ে আছে। মাথায় লম্বা অগোছালো সাধু সন্ন্যাসীদের মতো একরাশ ঘন কালো চুল। কত দিন লোকটা চুল কাটেনি, তা কেউ বলতে পারবে না। মনে হয় জন্মের পর থেকে যেন তার মাথায় চিরুনী লাগেনি। অবনী এখনো দাঁড়িয়ে আছে। আমি ওই যে তাকে ডেকে ছিলাম, মনে হয় তার মনে নেই। মানুষ কোথায় যে কি আনন্দ পায় বুঝা বড় কঠিন। এমনিতেই এখন দিনকাল ভালো যাচ্ছে না। রাস্তাঘাটে চোর ডাকাতের উপদ্রব। 

কোথাও আর আগের মতো আনন্দেরসুর নেই। একবার মনে হয় আমরা সুযোগ পেলে মানুষকে নিয়ে খেলা করতে ভালোবাসি। না হলে একটা উলঙ্গ পাগলকে নিয়ে এতো মানুষ দাঁড়িয়ে থাকবে কেন? অবনী আমি কিংবা কারো মনেই এখন ভালোবাসা নেই। সবাই আমরা মানুষকে নিয়ে খেলতে ভালোবাসি। আমাদের খেলার নিষ্ঠুরতার জাঁতা কলে প্রতিনিয়িতই আজ পিষে যাচ্ছে মানুষের কোমল ভালোবাসা। মানুষ হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের হৃদয় থেকে। এভাবেই আমাদের সবকিছু হারিয়ে যাবে ঘৃণার অতল সমুদ্রে। হঠাৎ লোকটার চিৎকারে আমার ভাবনায় ছেদ পড়ে। লোকটা ষাড়ের মতো গর্জন করছে। হাত নাড়ছে পা নাড়ছে। আর শুধু চিৎকার করছে। আমাদের অবনী তাকে কি বুঝবার চেষ্টা করছে। তবুও লোকটা শান্ত হচ্ছে না।

অবনী তাকে যতই বুঝাবার চেষ্টা করছে, ততই যেন তার চিৎকার আরো বাড়ছে। আশেপাশের মানুষ এসে ওর পাশে ভীড় করেছে। লোকটা খাঁচায় বন্দী বাঘের মতো হিংস্র হয়ে যাচ্ছে ক্রমান্বয়ে। কোন বাধা তাকে ঠেকাতে পারছে না। অবনী তার কাছে গিয়ে কি যেন বলছে। এতো কাছে যাওয়া অবনীর ঠিক হয়নি। পাগল মানুষ, কখন কি করে বসে। কথাটা  ভাবতে না ভাবতেই দেখি লোকটা অবনীকে লাথি মেরে রাস্তার পাশের ড্রেনে ফেলে দেয়। ভাগ্য ভাল ড্রেনে ময়লা জল ছিল না।তা না হলে অবনীর মা তাকে  সাবান দিয়ে স্নান করিয়ে ঘরে তুলতো। লাথি খেয়েও অবনী লোকটার পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। আশপাশে লোকজন তার দিকে তাকিয়ে আছে। কেউ কিছু বলছে না। সবাই কেমন বোকার মতো পাগলটার দিকে শুধুই তাকিয়ে আছে।

অবনী সন্ধ্যার পর আমাকে না পেয়ে পরের দিন সকালে এসে বলে, আমাকে ডাকছিলে কেন? কাল রাত তোমাকে একবার খোঁজে গেলাম। তোমাদের শৈবাল বলল তুমি বাড়ি নেই।

আমি অবনীর দিকে অবাক নয়নে তাকিয়ে রইলাম। এই সেই অবনী, যে কয়েক বছর আগেও বলতো মিলু দা, তোমার খালি সিগারেটের প্যাকেটগুলো জমিয়ে রেখো। কোথাও ফেলো না। আমি বলতাম, তুই খালি সিগারেটের প্যাকেট দিয়ে কি করবি। অবনী মুচকি হেসে বলতো এসব দিয়ে আমি ব্যাগ বানাবো। এখন সে কতো বড় হয়ে গেছে। আমাকে এভাবে তার দিকে চেয়ে থাকতে দেখে সে কিছুটা থমকে যায়। তারপর বলে, তুমি কিছু বলছো না কেন? কাল তোমার ডাকের সঙ্গে সঙ্গে আসিনি বলে রাগ করেছো?

আমি মুখ খুললাম অবনীর কথা শুনে। বললাম রাগ করবো কেন? তুই কি আমার সমবয়সী। তোর ওপর কি আমি বোকার মতো রাগ করবো?
-তা হলে এতক্ষণ কথা বললে না কেন?
-তোরা মানুষকে নিয়ে খেলা করতে খুবই মজা পাস, তাই না? কেন এমনভাবে মানুষ নিয়ে এতা সব করিস?
-আমি আবার কাকে নিয়ে খেলা করলাম? 
-ঐ যে কাল দেখলাম তোরা কতজনে মিলে লোকটাকে ঘিরে আমোদ প্রমোদে মেতে উঠলি। 
-কাকে নিয়ে আমরা আমোদ প্রমোদে মেতে উঠলাম। 
-কদম গাছটার নিচে পাগলটাকে নিয়ে তোরা এতো  ফূর্তি করলি। 
-তুমি তাকে পাগল বলছো। আবার বলছো তাকে নিয়ে আমরা ফুর্তি করেছি।
-তাহলে তোরা লোকটাকে ঘিরে দাঁড়িয়েছিলে কেন? এতো হাসাহাসিই বা করলি কেন?
-তুমি তাকে চিনতে পেরেছো?
-আমিতো তোদের মতো পাগলটার কাছে যাইনি। চিনবো কেমন করে? 
-তুমি কাছে গেলে অবশ্যই চিনতে। 
-কে বলতো?
-উনিতো আমাদের অনিমেষ স্যার। উনিতো তোমাদেরও শিক্ষক ছিলেন।

অবনীর কথায় আমার শরীরে যেন কিসের শিহরণ খেলে উঠে। পাগলটা আমাদের অনিমেষ স্যার। মুক্তিযুদ্ধে যার দুই ছেলে মারা গেছে।রাতুলদার মেট্রিক দেয়ার কথা ছিল। আর রতনদা আই এ পাস করে সবে মাত্র ডিগ্রীতে ভর্তি হয়েছিলেন। একদিনে তারা দুই ভাই বাড়ির কাউকে না জানিয়ে এপ্রিলের শেষের দিকে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। রাতুলদাদের ছোটআরো দুই ভাই ছিল।

অনিমেষ স্যারেরর বড় মেয়ে যমুনাদি। ছোট মেয়ে সুপ্রভা। দেশস্বাধীন হবার পর সুপ্রভা আমার সাথে হাইস্কুলে ক্লাস নাইনে ভর্তি হয়েছিল। সুপ্রভা এখন দেশে নেই। স্বামীকে নিয়ে কানাডায় থাকে। আর যমুনাদি। তার খবর এ শহরের পরিচিত মানুষজন অনেক দিন পায়নি। পরে বড়দের মুখে আমরা তখনকার ছোটরা শুনেছিলাম, যমুনাদিকে পাকিস্তানী সৈন্যরা ধরে নিয়ে গিয়েছিলো। তার ওপর অনেক অত্যাচার করা হয়। শেষে নাকি যমুনাদি গলায় দড়ি দিয়ে মরে। যমুনাদি আর তার ভাইরা এদেশের মাটির জন্যে প্রাণ দিলো। অনিমেষ স্যার যুদ্ধে দুই ছেলে এক মেয়েকে হারিয়ে কখনো শোক করেননি। উনার মনের মধ্যে একটা অহংকার ছিলো, এই দেশের মাটিতে তার সন্তানের রক্ত মিশে আছে। তিনি একজন গর্বিত পিতা। যার দুই ছেলে এক মেয়ে এই দেশের জন্যে জীবন দিয়েছে। এমন সৌভাগ্য কজনের হয়।

সুপ্রভা আর আমি যখন কলেজে ভর্তি হই, তখন অনেকেই ভেবেছিলো আমরা দুজনই কলেজের মান রাখবো। সুপ্রভা আমাকে একবার একা পেয়ে বলেছিলো, মিলু আমার বুকে হাত রেখে দেখ, এখানে কিসের শব্দ। আমাকে সবাই মিলু বলে ডাকে। আমার ভালো নাম গৌরী শংকর। সুপ্রভা একদিন নয়, পর পর কয়েকদিন এভাবে বলেছিলো, মিলু আমার বুকে হাত রেখে দেখ, এখানে কিসের শব্দ। আমি তখন কিছুই বুঝতামনা। 

আমি তাকে বলতাম দূর বোকা বুকে হাত রেখে কি কোন শব্দ শোনা যায়। কান পেতে তোর বুকের শব্দ শোনা যাবে। 
সুপ্রভা আমার হাত ধরে বলে তাহলে বুকে কান পেতেই শোন এখানে কিসের শব্দ। আমি তার বুকে কান পাতি। শুনতে পাই তার হৃদপিন্ডের শব্দ। অন্য কিছুর নয়। সুপ্রভা আমাকে বলে মিলু তুই কিশুনলি। আমি তার চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম, তোর বুকে হৃদপিন্ডের শব্দ শোনা যায়। অন্য কিছুর নয়। আমার কথা শুনে সুপ্রভা আমাকে বলে মিলু তুই একটা গাধা। এই বয়সের একটা যুবতী মেয়ের বুকে কিসের শব্দ করে তুই বলতে পারিস না। তারপর থেকে সুপ্রভা আমার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেয়। ডাকদিলে মুখ ফিরিয়ে নেয়। একদিন শীতের সকালে আমি তার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। সুপ্রভা আমাকে দেখে মুখ ঘুরিয়ে নেয়। আমি বললাম তুই আমার সাথে কথা বলিস না কেন? এভাবে এড়িয়ে চলিস কেন? সুপ্রভা হাসে। ওর সুন্দর মুখের হাসি শীতের সকালকে আরো বর্ণিল করে তোলে। আমি উদাসী পাখীর মতো প্রকৃতির সাথে তাকে মিলিয়ে নেবার চেষ্টা করি। তাকে বলি, তোর বুকের গন্ধ এখনো আমার নাকে লেগে আছে। এখন মনে হচ্ছে তোর বুকে আমি সেদিন কিসের আহবান শুনেছিলাম।

আমার কথা শুনে সে ক্ষ্যাপা বাঘিনীর মতো হিংস্র হয়ে উঠে। বলে, মিলু তুই আমাকে নিয়ে খেলতে এসেছিস। আমি তোর খেলার পাত্রী নই। 
-তুই এমনভাবে কথা বলছিস কেন? আমি তো তোকে ভালোবাসি। 
-এসব তোর ন্যাকামী। আসল কথাটি বলে ফেল। 
-আসল কথাকি আবার। 
-তুইতো এসেছিস আমাকে সুন্দর সুন্দর কথা শুনিয়ে কবিতার নোটগুলো নিতে। তোকে আমি কিছুই দেব না। 
-বিশ্বাস কর আমি কোন স্বার্থের জন্যে আসিনি। আমি তোর বুকে মাথা রেখে আবার শুনতে চাই, তোর ভিতর কেবল আমার নামই বাজছে সকল সময়। 
-মিলু তুই চলে যা । আমার কাছে আর আসবি না। 

আমি ফিরে আসি। সুপ্রভার সাথে আমার আর কোনদিন কথা হয়নি। সে চলে যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। আমার মনে হতো সুপ্রভার মন কিভাবে বিপর্যস্ত হয়ে গেছে। তারপর একদিন পড়াশুনা শেষ করার আগেই অনিমেষ স্যার সুপ্রভার বিয়ে দিয়ে দেন। ভালো ছেলে পেয়েছিলেন তিনি। ছেলে ডাক্তার কানাডা থাকে। বাবা-মা’র একমাত্র ছেলে। আমি বিয়েতে যাইনি। আমাদের বাসার সবাই গিয়েছিল। সেদিন রাতে রমনীদার হোটেলে রাতের খাবার খেয়েছিলাম। বাসার সবাই জানতো আমি বিয়েতে যাবো। একদিন বৃষ্টি¯স্নাত সকালে খবর পেলাম অনিমেষ স্যার শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। তার ছোট দুই ছেলের ভালো চাকরি হয়েছে। নিজেরও বয়স হয়েছে। এখন শরীরে এতো দখল সইবে কেমন করে। তিনি এখন ছেলেদের সাথেই থাকবেন। আনিমেষ স্যারের শহর ছেড়ে চলে যাওয়ারব্যাপারটা আমার মনে প্রচন্ড ভাবে রেখাপাত করেছিল। কেবল মনে হয়েছিল এই জীবনে হয়তো আর সুপ্রভাকে দেখতে পাবো না। উনারা এখানে থাকলে হয়তো তাকে দেখতে পেতাম। অনিমেষ স্যার যেদিন শহর ছেড়ে চলে যান, সেদিন আমার বুক ছিঁড়ে একটা দীর্ঘশ্বাস বের হয়। যেমনটি হয়েছিল সুপ্রভার বিয়ের রাত্রিতে। অনিমেষ স্যার চলে যাওয়ার পর নিজেকে বড়োই নিঃসঙ্গ ভাবছিলাম। এতো একা আমি আর কোনদিন হইনি। সেদিন আমি আবার সুপ্রভার মাংসল বুকের নরোম ঘ্রান টের পেয়েছিলাম। যেন বৃষ্টিস্নাত মাধবী লতার ঘ্রান আমার নাকে ঘুরপাক খাচ্ছে।

অনিমেষ স্যার পাগল হলেন কেন? এই একটিমাত্র প্রশ্ন আমাকে আজ সারাদিন সারারাত চিবিয়ে চিবিয়ে খাচ্ছে। রাতে আমার ভালো ঘুম হয়নি। কারো কাছ থেকে কিছু জানবো, তাও সম্ভব নয়। জানার কোন উপায় নেই। মাসখানেক পর আমাদের অরুনের সাথে দেখা। অরুন ও আমি প্রায় সমবয়সী। যদিও সে আমাদের এক ক্লাস উপরে পড়তো। অরুন একটা বিজ্ঞাপনী সংস্থায় চাকরি করে। এখানে এসেছিলো ছোট ভাইয়ের জন্যে পাত্রী দেখতে। অরুন আমাদের সাথে আপন হয়ে থাকতো।  এখন সবাই তারা ঢাকা থাকে। তাকে অনিমেষ স্যারের পাগল হওয়ার কথা বললাম। অরুনকে কথাটি বলতেই সে বললো, এই কিছু জানতি না। আমি একটা সিগারেট ধরিয়ে বললাম, না কিছুই জানতাম না। তারপর যা বলল শুনে মনকে কিছুতেই প্রবোধ দিতে পারছিলাম না। অরুনের কাছ থেকে শুনলাম সুপ্রভার সাথে তার স্বামীর ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।

সুপ্রভা বাচ্চাদের নিয়ে এখন কানাডাই থাকে। তার স্বামী যমুনাদির কথা শুনে মানসিকভাবে বিকার গ্রস্ত হয়ে পড়ে। ওর ধারণা ছিলো যুমনাদির সাথে সুপ্রভাকেও সৈন্যরা ক্যাম্পে নিয়েছিলো। তার ওপরও অত্যাচার চালানো হয়েছে। সে কয়েক লাখ টাকা সুপ্রভার নামে ব্যাংকে রেখে বলে, তোমাকে আমি আর সহ্য করতে পারছি না। তুমি আমার কাছ থেকে সরে যাও। তোমার শরীরে অন্যের স্পর্শ। অনিমেষ স্যার এসব শুনে আঁতকে উঠেন। একা একা বিড় বিড় করে কথা বলেন। একদিন একটি রাজনৈতিক দলের জনসভায় কোন এক নেতার বক্তব্য শুনে তিনি উত্তেজিত হয়ে পরনের কাপড় চোপড় ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে উলঙ্গ হয়ে চিৎকার করতে করতে বলতে থাকেন,আমাকে বুঝাবি তোরা মুক্তিযুদ্ধের কথা। যুদ্ধে আমার দুই ছেলে এক মেয়ে বলি হয়েছে। দেশ স্বাধীন হবার এত দিন পর জামাই আমার মেয়েকে ছেড়ে দিয়েছে। তোরা শিখাবি আমাকে মুক্তিযুদ্ধের কথা। তারপর অনিমেষ স্যার ঘর ছেড়ে রাস্তায়র পাগল হয়ে যান। উনার ছেলেরা তাকে আর ঘরে নিতে পারেনি। 

লেখক: কবি, গল্পকার ও আইনজীবী

ব্রেকিংনিউজ/ এমএইচ

bnbd-ads
breakingnews.com.bd
প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি