ভাইরাসে বেঁকে যাচ্ছে তরমুজ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, খুলনা
১১ এপ্রিল ২০২১, রবিবার
প্রকাশিত: ০৪:২৫

ভাইরাসে বেঁকে যাচ্ছে তরমুজ

খুলনা জেলার দাকোপ, বটিয়াঘাটা, কয়রা, ডুমুরিয়া, রূপসা ও পাইকগাছা উপজেলায় বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এ বছর তরমুজ চাষ হয়েছে। কিন্তু সেচের পানির অভাবে তরমুজ চাষিদের স্বপ্ন ফিকে হয়ে আসছে। দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। গত কয়েক মাস বৃষ্টি না হওয়ায় এবং স্থানীয় পানির উৎস নদী খালগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় তীব্র পনি সংকট। গাছের ফল শুকিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গাছ মরে যাচ্ছে, তরমুজও বেঁকে যাচ্ছে। এ নিয়ে তরমুজ চাষিদের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, খুলনা জেলায় এবার তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রাত হয়েছে। খুলনা বিভাগের মধ্যে খুলনায় সবচেয়ে বেশি তরমুজের চাষ হয়। ২০১৪ সালে জেলায় সবচেয়ে বেশি তরমুজের আবাদ হয়। সে বছর জেলায় ৩ হাজার ৪৬৮ হেক্টর জমিতে তরমুজ হয়েছিল। তবে সে বছর ফসল তোলার সময় প্রচণ্ড বৃষ্টি ও খারাপ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়ে। ফলে ২০১৫-১৬ সালে তরমুজের আবাদ কম হয়। ২০১৭ সাল থেকে তরমুজের আবাদ আবার বাড়তে থাকে। গত বছর ২ হাজার হেক্টর জমিতে ১ লাখ ২০ হাজার টন তরমুজ হয়েছিল। চলতি মৌসুমে তরমুজের ব্যাপক আবাদ হয়েছে।

জেলার মোট উৎপাদিত তরমুজের ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ উৎপাদিত হয় দাকোপ উপজেলায়। গত বছর দাকোপে ১ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছিল। এবার ৩ হাজার ৪০৭ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে বটিয়াঘাটায় ২ হাজার ১৫০ হেক্টর, কয়রায় ৬৫০ হেক্টর, ডুমুরিয়ায় ২৩০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে।

দাকোপ, বটিয়াঘাটা ও কয়রা উপজেলার স্থানীয় তরমুজ চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তরমুজ এখানকার কৃষকের দ্বিতীয় প্রধান ফসল। প্রতি বিঘায় আমন ধান উৎপাদনে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়, সময় লাগে ৫ মাস। এক বিঘা জমির ধান বিক্রি করে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার টাকা পাওয়া যায়। সেখানে তরমুজের বীজ বপন থেকে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত সময় লাগে সর্বোচ্চ ৯০ দিন। বিঘা প্রতি খরচ হয় ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা। প্রতি বিঘা তরমুজ বিক্রি হয় সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৮৫ হাজার টাকা। লাভ বেশি হওয়ার কারণে তরমুজ চাষে কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে।

বেশির ভাগ ক্ষেতের তরমুজগাছ গাছে ফল ধরেছে। কিছু ক্ষেতের তরমুজ বড় হয়ে গেছে। পানি, সার ও কীটনাশক ছিটানোয় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। প্রচণ্ড তাপে এবং দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় মাঠের ভেতরের খাল-বিল শুকিয়ে গেছে। ফলে দেখা দিয়েছে সেচের পানির তীব্র সংকট। অনেকে ছোট ছোট কুয়ো কেটে সেচ দিচ্ছেন কিন্তু সে পানির আধারগুলোও এখন শুকিয়ে গেছে।

কৃষকরা জানান, এ বছর অজানা এক ধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে তরমুজ গাছ। ফলে পাতা হলুদ হয়ে গাছ মারা যাচ্ছে। আবার অনেক গাছে তরমুজ বেঁকে যাচ্ছে। পাতা হলুদ হওয়া গাছ ও বেঁকে যাওয়া তরমুজ তারা বাধ্য হয়ে ক্ষেত থেকে তুলে ফেলছেন।

দাকোপের বাজুয়া ইউনিয়নের তরমুজ চাষি কুশল গাইন বলেন, এ বছর ১০ বিঘা জমিতে তরমুজের আবাদ করেছি। এবার এলাকায় প্রচুর পরিমাণে তরমুজ আবাদ হয়েছে। এ জন্য পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেতে গাছ মরা শুরু করেছে। অধিকাংশ খাল এখন শুকনা। তরমুজ ক্ষেত থেকে দূরবর্তী কচা ও ভাইজুড়ি খালে পাম্প মেশিন বসিয়ে কোনোমতে পানি তোলা হচ্ছে। গাছ বাঁচাতে দূর থেকে পানি আনতে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

দাকোপ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান খান বলেন, তরমুজ চাষে পর্যাপ্ত সেচের প্রয়োজন হয়। প্রচণ্ড খরায় উচ্চ তাপ ও পানির সংকট গাছের ডগা শুকিয়ে যাওয়া, ফল ঝরে যাওয়া ও ফল বড় না হওয়ার প্রধান কারণ। এছাড়া মাত্রা অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে মৌমাছি না আসায় পরাগায়ন ব্যাহত হওয়ায় ফল কম ধরে।

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, স্বল্প সময়ে লাভজনক ফসল হওয়ায় এ বছর খুলনা জেলায় তরমুজের ব্যাপক আবাদ হয়েছে। গতবার কৃষকেরা তরমুজ চাষ করে লাভ করেছিলেন।

ব্রেকিংনিউজ/এমএইচ

breakingnews.com.bd
প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি