শিরোনাম:

গাইবান্ধা হানাদার মুক্ত দিবস আজ

মিলন খন্দকার
৭ ডিসেম্বর ২০১৮, শুক্রবার
প্রকাশিত: 12:09
গাইবান্ধা হানাদার মুক্ত দিবস আজ

আজ ৭ ডিসেম্বর শুক্রবার গাইবান্ধা হানাদার মুক্ত দিবস। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ১৯৭১ সালের এই দিনে বিজয়ের আনন্দে ফেটে পড়ে গাইবান্ধার মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ।

রাজাকার ও পাকিস্তানীদের গাইবান্ধা শহর থেকে বিতাড়িত করতে কোম্পানি কমান্ডার বীর প্রতীক মাহবুব এলাহী রঞ্জু’র নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের কালাসোনার চর থেকে বালাসীঘাট হয়ে গাইবান্ধা শহরের উপকণ্ঠে এসে ফলিয়া ব্রিজের একপ্রান্তে অবস্থান নেয়। ৫ডিসেম্বর সকাল থেকে শুরু হয় যুদ্ধ। মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমনের মুখে হানাদাররা পিছু হটতে থাকে। বেশ কিছু রাজাকার ধরা পড়ে। ৬ তারিখেও দিন-রাত যুদ্ধ হয়। মিত্রবাহিনীর বিমান ও রেল স্টেশন এলাকায় বোমা বর্ষণ করলে পাকিস্তানীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। ৭ডিসেম্বর চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য মুক্তিযোদ্ধারা প্রস্তুতি নিয়ে জানতে পারেন শক্রুরা শহর ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এসময় হাজার হাজার মানুষ ছুটে এসে মুক্তিযোদ্ধাদের কাধে করে তৎকালিন এসডিও মাঠ বর্তমান স্বাধীনতা প্রাঙ্গনে নিয়ে আসে। সেখানে তাদের সংবর্ধনা দেয়া হয়। কমান্ডার রঞ্জু গাইবান্ধাকে হানাদারমুক্ত ঘোষণা করেন।

এর আগে ৭১’র ১৭ এপ্রিল বিকেলে পাক হানাদার বাহিনী মাদারগঞ্জ ও সাদুল্যাপুর হয়ে গাইবান্ধায় প্রবেশ করে। তারা ভিএইডের ওয়ারলেস দখল করে। পরবর্তীতে গাইবান্ধা স্টেডিয়ামে (বর্তমান শাহ আব্দুল হামিদ স্টেডিয়াম) ঘাঁটি করে। এই ঘাঁটি থেকেই তারা শহর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞ, নারী নির্যাতন চালাতে থাকে। তাদের বিভিন্ন ক্যাম্পে অসংখ্য মানুষ ধরে এনে হত্যা করার পর মাটিতে পুঁতে রখে। বিভিন্ন রাস্তা-ঘাটের পাশেও অসংখ্য লাশ সে সময় পুঁতে রাখা হয়। তাই এই স্থানগুলো পরে বধ্যভূমি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এর মধ্যে গাইবান্ধা স্টেডিয়ামের দক্ষিণ অংশে এবং স্টেডিয়ামের বাইরে অসংখ্য মানুষ হত্যা করে মাটি চাপা দেয়। প্রতি রাতেই স্টেডিয়ামের পাশে কফিল শাহ’র গোডাউন নামে পরিচিত প্রাচীর ঘেরা এই এলাকায়  দালালদের সহায়তায় অসহায় মানুষদের ধরে এনে পাকসেনারা তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করত। বিভিন্ন বয়সী মেয়েদের এখানে ধরে এনে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। পার্শ্ববর্তী রেল লাইনের ধারেও গর্ত করে লাশ পুঁতে রাখা হতো।

ব্রেকিংনিউজ/এমজি

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2