শিরোনাম:

জেএসডি’র নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

স্টাফ করেসপন্ডেট
৬ ডিসেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: 8:18
জেএসডি’র নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কে সামনে রেখে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএস‌ডি) তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন মাধ্যমে তারা এ ঘোষণা করেন

ইশতেহারটি পাঠ করেন দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, এসময় উপ‌স্থিত ছি‌লেন দ‌লের সভাপ‌তি আ স ম আব্দুর রব।

তাদের ইশতেহার হলো:

কেন্দ্রীয় সরকার হবে ফেডারেল পদ্ধতরি, রাষ্ট্রপতি থাকবেন রাষ্ট্র প্রধান, সংসদীয় ব্যবস্থা থাকবে, প্রধানমন্ত্রী সরকার প্রধান ও নির্বাহী প্রধান থাকবেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনয়ন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা দুই মেয়াদে নির্দিষ্ট করা। 

নিম্ন কক্ষ ও উচ্চ কক্ষ সমন্বয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত করা। নিম্ন কক্ষ হবে ৩০০ সদস্য বিশিষ্ট ও উচ্চক্ষ হবে ২০০সিদস্য বিশিষ্ট, উচ্চকক্ষে শ্রমিক-কর্মজীবী-পেশাজীবী ও নারীদের প্রতিনিধি, ক্ষুদ্রজাতি নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠির প্রতিনিধি ও প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। জাতীয় ঐক্যমতের সরকার গঠন।

বাংলাদেশে ৯টি প্রদেশ গঠন করা। প্রদেশে নির্বাচিত ‘প্রাদেশিক পরিষদ’ ও প্রাদেশিক  সরকার’ থাকবে। ক্ষুদ্র-জাতিসত্ত্বার সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রধান। 

উপজেলা ব্যবস্থাকে নির্বাচিত ও কার্যকর স্বশাসিত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় রূপদান করা। মেট্রোপলিটন এলকায় মেট্রোপলিটন সরকার গঠন। সকল স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন অদলীয়ভাবে অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা। স্থানীয সরকার ব্যবস্থা মন্ত্রী-এমপিদের প্রভাবমুক্ত করা। 

জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ থেক নির্বাচকালীন সরকার গঠন করা। প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত  করা। স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন। নির্বচন কমিশন হবে পৃথক ও পূর্নাঙ্গ। আস্থা-অনাস্থা ভোটের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। প্রার্থী প্রত্যাহরের ব্যবস্থা গ্রহণ করা (রি-কল চালু করা)। 

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা। সাংবিধানিক প্রশ্নে যে কোন ধরণের জটিলতা নিরসনে সাংবিধানিক আদালত গঠন। প্রতিটি প্রদেশে হাইকোর্ট গঠন করা। সাংবিধানিক ও সংবিধিবন্ধ প্রতিষ্ঠনেসমূহের গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ, সৎ-যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দানের জন্য সাংবিধানিক কমিশন গঠন করা। ন্যায়পাল নিয়োগ করা এবং দুর্নীতি বিরোধী কার্যেকর আইন প্রণয়ন করা। 

গণমুখী প্রশাসন গঠন, বৃটিশ প্রণীত শাসন-শোষণের উদ্দেশ্যে যে সব আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল তা বাতিল করে যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন করা, বৃটিশ প্রণীত প্রথম-দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীর কার্মকর্তা ও কর্মচারী অমর্যাদাকর বিভাজন বিলোপ করা, তবে কাজের সুবিধার্থে স্তর বিন্যাস নির্ধারণ করা। 

পুলিশ বিভাগে ব্যাপক সংস্কারের প্রয়োজনে মেধা ভিত্তিক নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন, চাকরি ক্ষেত্রে অন্যায়ের শিকার ও ক্ষতিগ্রস্থ পুলিশ সদস্যদের নিজ চকিরিতে পুনঃনিয়োগ ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান, গুম ও খুনের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের আইনী প্রক্ষিয়ার অধীনে বিচারের আওতায় আনা, মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আবাসিক অর্ডারলি প্রধা বিলোপ এবং জবাবদিহীতা বোর্ড গঠন করা।

বিচারবহির্ভূত ক্রসফায়ার ও এনকাউন্টারের নামে হত্যাকাণ্ডসহ গুম-খুন বন্ধ করা।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করা, সংবাদপত্র বা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং বাক ও ব্যক্তি  স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। নারীর অধিকার ও সমমর্যাদা নিশ্চিত করা। বিজ্ঞান ভিত্তিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা। গণমুখী স্বাস্থ্যনীতি ও ঔষধনীতি প্রণয়ন করা। 

পরিবেশ রক্ষায় উপযোগী নীতি প্রণয়ন করা, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা। কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ, গার্মেন্টস শ্রমিকসহ সকল শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরি ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা। 

নদী ভাঙন রোধে ক্যাপিটাল ড্রেজিংসহ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। 

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সময়সীমা যুক্তসংগতভাবে বৃদ্ধি করা ও যুক্তিসংসগত কোটা সংস্কার নীতি প্রণয়ন করা। এছাড়াও তৃতীয় ও ৪র্থ শ্রেণির সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কোটা ব্যবস্থা সংস্কার, নিয়োগের ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করা, আধুনিক বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর পদ্ধতি চালু করা। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা। 

জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠন করা। আধিুনিক সমরাস্ত্র ও প্রশিক্ষনসহ দক্ষ প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন। স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন ও অনুসরণ করা। 

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করার লক্ষ্যে উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট গঠন করা। জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিল ও উপজেলা শিল্পাঞ্চল গঠন করা। মাইক্রো ক্রেডিট ও সামজিক ব্যবসা চালু করা এবং বেকারদের প্রযুক্তিনির্ভর করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। গ্রামীণ ক্ষেত মজুর বস্তিবাসী ও অতি দরিদ্র মানুষের জন্য রেশনিং চালু করা।

‌ব্রে‌কিং‌নিউজ/এএইচএস

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2