শিরোনাম:

​ইসির ‘আওয়ামী চেহারা’ উন্মোচিত হচ্ছে: রিজভী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৫ ডিসেম্বর ২০১৮, বুধবার
প্রকাশিত: 12:57 আপডেট: 2:04
​ইসির ‘আওয়ামী চেহারা’ উন্মোচিত হচ্ছে: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, নির্বাচন কমিশন খোলস ভেঙে তাদের আওয়ামী চেহারাটা ততটাই উন্মোচিত হয়ে পড়ছে। নির্বাচনের আগেই সম্ভবত ক্ষমতাসীন দলের ‘বিজয়’ নিশ্চিত করতে নানা রকম কলা-কৌশল ফন্দি-ফিকির করছে কমিশন। এর একটি ড্রেস রিহার্সেল হয়ে গেল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের মধ্য দিয়ে। বিএনপির প্রার্থী, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র কেবল যাচাই-বাছাই হয়েছে এবং বাতিল করা হয়েছে গণহারে। আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়নি। বিষয়টি এমন ছিল যে, বিএনপি হলেই অবৈধ আর আওয়ামী লীগের প্রার্থী হলেই বৈধ।’

বুধবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মীর জাফরের সকল গুণই প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের মধ্যে বিদ্যমান বলে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ব্লু-প্রিন্টের কুখ্যাত কারিগর এইচ টি ইমাম যে তালিকা সিইসিকে দিয়েছে তাই বৈধ বলে প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন জেলার রিটার্নিং অফিসাররা। এই এইচ টি ইমাম সরকারের সকল কু-কর্মের হোতা। তবে এখনও আওয়ামী লীগের বোধোদয় হচ্ছে না যে, এই এইচ টি ইমাম যেকোন মুহূর্তে চোখ উল্টে দিতে পারে, যেমন ‘৭৫ এ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবর রহমানের লাশ ডিঙিয়ে খন্দকার মোশতাকের সাথে হাত মিলিয়েছিলেন। শপথ পড়িয়েছিলেন মোশতাক সরকারকে। তিনি যদি মরহুম শেখ মুজিবর রহমান ও আওয়ামী লীগের এতোটাই অনুসারী ও ভক্ত হতেন তাহলে তো শেখ মুজিবর রহমানের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কেবিনেট সেক্রেটারির পদ থেকে পদত্যাগ করতে পারতেন, কিন্ত তিনি তা করেননি। মীর জাফরের সকল গুণই এই এইচ টি ইমামের মধ্যে বিদ্যমান।’ 

নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের ছকের মধ্য থেকেই কাজ করছেন কে এম নুরুল হুদা কমিশন এমন মন্তব্য করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে সরকারের মনোবাঞ্ছা বাস্তবায়ন করার পর এখন মাঠের নিয়ন্ত্রণ যাতে ক্ষমতাসীন দলের হাতেই থাকে, সেজন্য নির্বাচন কমিশন কখনো প্রকাশে আবার কখনো পর্দার অন্তরালে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘গাজীপুর, রাজশাহী ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমরা এমন পরিস্থিতি দেখেছি। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন এমপির দাপট তো থাকবেই। এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের প্রতিটি পদক্ষেপে ক্ষমতাসীন দল জোরালো সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে না। শুধু তা-ই নয়, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা প্রশাসনে রদ-বদলের দাবি করে এলেও মনে হয় আসহাব-কাহাবের মতো ইসি দীর্ঘকাল ঘুমিয়ে থাকবে।’

রিজভী আরও বলেন, ‘সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার জন্য রেজা কিবরিয়ার মনোনয়ন বাতিল করা হলেও এক কোটি টাকার ঋণখেলাপি হয়েও বৈধতা পেল আওয়ামী লীগ জোটের বিকল্প ধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরী। ব্যাংকের লোক গিয়ে আপত্তি জানালেও রিটানিং কর্মকর্তা তা আমলে নেননি। রিটানিং কর্মকর্তা তা গণমাধ্যমের কাছে স্বীকারও করেছেন। বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামালের আয়কর রিটার্নের নানাবিধ অসঙ্গতি থাকার পরও তার মনোনয়নপত্র বৈধ করেছে রিটার্নিং অফিসার। রিটার্নে ব্যবসায়িক আয় অপ্রদর্শিত। এ কে এম শাহজাহান কামালের আর্থিক বিবরণী দাখিলকৃত হলফনামার সাথে কোনো মিল নেই। তারপরেও তার মনোনয়নপত্র বৈধ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘জনগণের অধিকার নিয়ে এত জুলুম করার কারণে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী ইসি সচিব হেলালুদ্দীন। তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক একজন নিরাপত্তারক্ষী নিয়োজিত থাকলেও ভরসা পাচ্ছেন না। তিনি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা আরও বাড়াতে চান। সেই লক্ষ্যে পিস্তলধারী নয়, এবার শর্টগানধারী একজন নিরাপত্তারক্ষী চেয়ে পুলিশের কাছে আবেদন করেছেন। হেলালুদ্দীন সাহেব এসির মধ্যে নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে থেকে বাড়তি নিরাপত্তা দাবি করছেন ভাল কথা, কিন্তু জনগণের নিরাপত্তার কথা কী একবার বিবেচনা করছেন? কোন ভোটাররা এখনও নিরাপদ নয়। ভোটাধিকার প্রয়োগে ভোটাররা শঙ্কিত ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।’

সারাদেশে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের যে তালিকা সরবরাহ করছে সেগুলোই ইউএনও সাহেবদের মানতে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে দলটির ভাইস-চেয়ারম্যান মেজর. (অব.) হাফিজ উদ্দীন আহমেদ বীর বিক্রম, শওকত মাহমুদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দীন আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ব্রেকিংনিউজ/ এএইচ/ এসএ 

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2