শিরোনাম:

তাবলীগের সংঘর্ষ: বিচার বিভাগীয় তদন্ত চান সাদপন্থীরা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩ ডিসেম্বর ২০১৮, সোমবার
প্রকাশিত: 6:15 আপডেট: 7:11
তাবলীগের সংঘর্ষ: বিচার বিভাগীয় তদন্ত চান সাদপন্থীরা

সম্প্রতি টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র প্রত্যাহারকে দায়ী করেছেন মাওলানা সাদের সমর্থকরা। তারা এ সংঘর্ষের কারণ অনুসন্ধানে বিচার বিভাগীয় তদন্তেরও দাবি করেন। 

সোমবার (৩ ডিসেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনী মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটা জানান তাবলিগের মুরুব্বি মাওলানা আশরাফ আলী।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত শনিবারের (১ ডিসেম্বর) সংঘর্ষে নিহত ঈসমাইল মণ্ডল ছিলেন সা’দ অনুসারী। সংবাদ সম্মেলনে নিহতের ছেলে জাহিদ হাসান উপস্থিত ছিলেন। বাবা হত্যার বিচার দাবি করেন তিনি।

মাওলানা আশরাফ আলী বলেন, ‘মাদ্রাসার ছাত্রদের লেলিয়ে দিয়ে নির্মমভাবে হামলা চালানো হয়েছে। আগে থেকে অস্ত্র, বাঁশের লাঠি নিয়ে প্রস্তুত ছিলেন মাওলানা জোবায়ের অনুসারীরা। তারা আগে থেকেই রক্তের বন্যা বইয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল প্রতিটি ওজাহাতি জোড়ে। তারা সারা বাংলাদেশে গৃহযুদ্ধ শুরু করে দিয়েছে।’

১ ডিসেম্বর টঙ্গি ময়দানে সংঘর্ষের বিষয়ে আশরাফ আলী জানান, ‘সকাল থেকে তারা ৫ ঘণ্টা ধৈর্য নিয়ে মাঠে প্রবেশের অপেক্ষা করেন। তখন মাওলানা জুবায়েরের লোকেরা পাথর মারা শুরু করে। আত্ম-রক্ষার্থে তারা মাঠের এক নম্বর গেইট ভেঙ্গে ঢুকতে বাধ্য হন।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘বহুবার তাবলিগ জামাতের সমস্যা সমাধানের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলা হয়েছে। প্রশাসনে একশ বারেরও বেশি চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু কেউ আমলে নেয়নি।’

সরকারের কোনো এক পক্ষের অবহেলার কারণে টঙ্গীর সংঘর্ষে একজন নিহত হবার মতো ঘটনা ঘটে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এই সংঘর্ষে তৃতীয়পক্ষের অবস্থান আছে বলে ধারণা তাবলিগ জামাতের একাংশের। সেই তৃতীয় পক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেন নাই। একই সাথে ওইদিনের ঘটনায় কোনও মামলা হবে কি-না তাও স্পষ্ট করেন নাই।

তিনি বলেন, ‘প্রতিক্রিয়াশীলরা দেশকে অস্থিতিশীতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাবলিগ জামাতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ গোটা জামাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। অরাজনৈতিক এ দ্বীনি মেহনতকে তারা রাজনীতির হাতিয়ার বানিয়েছে।’

টঙ্গীর হামলার ঘটনায় নিহত তাবলীগের সদস্য ঈসমাইল মন্ডলের ছেলে মো. জাহিদ হাসান জানান, তিনি হত্যা মামলা করবেন। একইসাথে নিজেদেরকে তিনি মাওলানা সাদ গ্রুপের অনুসারী দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ৭ দফা দাবি তুলে ধরেন সা’দ অনুসারীরা। এসব দাবি প্রসঙ্গে মাওলানা আশরাফ আলী বলেন, ‘তারা (সা’দবিরোধীরা) যদি কোনও সমাধানে না আসেন, আমরা কোনও বিরোধ চাই না। তারা (সা’দবিরোধী) তাদের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করুক, আমরা আমাদের মতো করবো। ভিন্ন ভিন্ন সময়ে কার্যক্রম পরিচালনা করার সুযোগ দেওয়া হোক, যেটি সরকারের পরিপত্রে ঘোষণা করা হয়েছিলো।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘তারা তাদের পছন্দ মতো সময়ে ইজতেমার করবে, আমরা আমাদের মতো ইজতেমা করবো। আমাদের ইজতেমায় দেশ-বিদেশ থেকে মুরব্বিরা আসবেন, সেক্ষেত্রে তারা যেন বাধা না দেন।’

সংবাদ সম্মেলন থেকে ছয় দফা দাবি পেশ করা হয়। দাবি গুলো হলো-
অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টিকারীদের শনাক্ত ও বিচারবিভাগীয় তদন্ত করা; হতাহতদের ক্ষতিপূরণ ও পরিবারের দায় গ্রহণ; ইজতেমা ময়দান সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দখলমুক্ত করা ও মাদরাসা ছাত্রদের বিরোধে কোনোভাবে ব্যবহার না করা; দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রেখে ওয়াজারহাতি জোড়ের নামে সারাদেশে উসকানিমূলক সভা ও প্রোপাগান্ডা বন্ধ করা; জামাতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বহিরাগতদের অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করা এবং আগামী ১১, ১২ ও ১৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব ইজতেমা যথা সময়ে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সহায়তা করা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কাকরাইল মসজিদের মুরুব্বি মাওলানা মুনির বিন ইউসুফ, মাওলানা মুহাম্মাদুল্লাহ, মাওলানা আবদুল্লাহ, মাওলানা সাইফুল প্রমুখ।

ব্রেকিংনিউজ/টিটি/এএইচএস/জেআই

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2