শিরোনাম:

চলতি বছরের অক্টোবর মাস পর্যন্ত দুর্ঘটনার সংখ্যা ৩১৩৩টি


স্টাফ ক‌রেসপ‌ন্ডেন্ট

২ ডিসেম্বর ২০১৮, রবিবার
প্রকাশিত: 3:01 আপডেট: 3:03
চলতি বছরের অক্টোবর মাস পর্যন্ত দুর্ঘটনার সংখ্যা ৩১৩৩টি

চলতি বছর ২০১৮ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত দুর্ঘটনার সংখ্যা ৩১৩৩টি ব‌লে জা‌নি‌য়ে‌ছে নিরাপদ সড়ক চাই।

শ‌নিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত 'নিসচা'র ২৫ বছর: প্রেক্ষিত সড়ক দুর্ঘটনা' শীর্ষক আলোচনা সভায় এ তথ্য জানানো হয়।

আলোচনা সভায় গত তিন বছরের সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র উল্লেখ করা হয়। যেখানে দেখানো ২০১৫-১৬ সালে সড়ক দুর্ঘটনা হার নিম্নগামী থাকলেও ২০১৭ সালে তা বেড়ে যায়। চলতি বছর ২০১৮ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত দুর্ঘটনার সংখ্যা ৩১৩৩টি।

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার সবচেয়ে বেশি শিকার হয় পথচারীরা। ২০১৭ সালে ১৯৬৪ টি দুর্ঘটনায় পথচারী নিহত হয়েছে ২৮০৪ জন, যা সমস্ত দুর্ঘটনার প্রায় ৫০ শতাংশের অধিক।গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করা যায়, আমাদের দেশের জনগণের মধ্যে সচেতনতা বোধের অভাব রয়েছে যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে তুলনা করা যায় না। ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার জন্য জাতিসংঘের টার্গেট পূরণ করা কখনোই সম্ভব হবে না, যদি না আমরা জনগণকে সচেতন করতে পারি।

এসব তথ্য দিয়ে আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নিসচা'র মহাসচিব এহসানুল হক। প্রবন্ধে তিনি সড়ক দুর্ঘটনা নিরসনে কিছু সুপারিশের কথা উল্লেখ করেন।

আলোচনা সভায় ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, আমরা নিজেদের দায়িত্ব কর্তব্য ঠিকমতো পালন করি না। আবার কেউ আছেন তারা দায়িত্ব পালন করতে চাইলেও করতে পারছেন না, এখানে রাজনীতির বিষয়টি আছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও আমরা আমাদের অভ্যাসে পরিবর্তন করতে পারিনি। আমাদের অন্য দিক গুলোর উন্নয়ন করতে পারলেও আমরা আমাদের মানসিক দিকটির উন্নয়ন করতে পারিনি। আমরা যদি আমাদের দায়িত্ব কর্তব্য গুলো নিজের মনের মধ্যে নিয়ে করতে পারি তবে আমি মনে করি সড়ক দুর্ঘটনা থামাতে পারবো।

বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, একটা হাইওয়ে কখনো দু'লেন দুটি কারণে হয় না। একটা হচ্ছে গাড়ি উল্টো দিক থেকে দ্রুত ছুটে আসবে। আরেকটা হচ্ছে যে মাঝখানে ডিবাইডার দিলে দুদিকে আটকে যাবে। কোনো একটা গাড়ি যদি বিকল হয়ে যায় তাহলে তিন মাইল পর্যন্ত গাড়ির লাইন হয়ে যায়। সুতরাং হাইওয়ে চার লেন হতেই হবে। আমাদের এখানে যে সমস্যাগুলো তার মধ্যে রাস্তা সমস্যা আছে রাস্তা যথেষ্ট চওড়া নয়।

তিনি আরো বলেন, দেশে একের পর এক ফ্লাইওভার হচ্ছে। ফ্লাইওভার যত বড়, তার নিচে তত টুকু রাস্তা অব্যবহৃত হয়ে আসছে। তাহলে উপরের রাস্তাটি দরকার কেন? আমরা যদি রিক্সা এবং ফুটপাতের দোকানগুলোকে কন্ট্রোল করতে পারতাম, তাহলে এভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা নষ্ট হতো না।

তিনি আরো বলেন, বাস ও ট্রাকের জন্য ট্রেন ডেভেলপ হয় নাই এদেশে। সারা পৃথিবীতে ট্রেন দিয়ে চলে। আমাদের সেই ট্রেনকে বন্ধ করে দিয়ে তারা বাস কিনতে লাগলো, রিক্সা কিনতে লাগলো, ট্রাক কিনতে লাগল। এতদিন পরে আবার এসে ট্রেনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি ট্রেনের ওপর গুরুত্ব আরো বাড়লে এক্সিডেন্ট এর সংখ্যা অর্ধেক কমে যাবে।

নিরাপদ সড়ক চাই এর ২৫ বছর উপলক্ষে নিসচা রজত জয়ন্তী পুরস্কার পান আইয়ুবুর রহমান খান এবং প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। এছাড়াও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয় স্বেচ্ছাসেবক আজহার মন্ডল এবং মৌলভীবাজার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মোঃ সালাউদ্দিন কাজলকে।

নিরাপদ সড়ক চাই এর রজত জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সড়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডক্টর শামসুল হক, অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, জিটিভি ও সারাবাংলা প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম, বিএফইউজের মহাসচিব শাবান মাহমুদ প্রমুখ।

ব্রে‌কিং‌নিউজ/এএইচএস/এমজি

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2