শিরোনাম:

সোহিনী দাশগুপ্তর দুটি কবিতা

শিল্প-সাহিত্য ডেস্ক
১০ নভেম্বর ২০১৮, শনিবার
প্রকাশিত: 10:07
সোহিনী দাশগুপ্তর দুটি কবিতা


বারো বছর ও অন্যান্য


বারো বছর পর পর আমার জীবন পাল্টে যায়
বারো বছর পর পর পাল্টে যায় পাশের মানুষ

বারো বছর পর হটাৎ একটা দিন আসেই
যেই দিন দীর্ঘায়িত হয় সূর্যাস্ত
ঠিক তখন আশ্চর্য রকম ভাবে
                      আমি দাঁড়িয়ে থাকি

অনেকটা উঁচু কোথাও— ফুল ডুৎরির মাথায় বা
পুরানো বন্ধুর চিলেকোঠার ছাদে
শহর ছড়িয়ে থাকে পায়ের নিচে,
বানারিটোলার অচেনা প্রান্তর হয়ে।
শেষ লালটুকু যত মিলিয়ে যায়
আমি ততই তার পথ আঁটকে দাঁড়াই—
আজ না হয় নাই বা এলো অন্ধকার!
বারো বছর পর পর আচমকা একদিন
বাসায় ফিরে যাওয়ার সময়েও
পাখিরা শান্ত ধ্যানমগ্ন হয়ে বসে থাকে

এ শহরের কার্নিশে কার্নিশে, জলট্যাঙ্কির ওপর
এত যে চেনা আকাশ
তার দিকেই অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে,
বারো বছর পর
ওদের দুচোখ ছাপিয়ে জল আসে।


এই শহর

আমার শহরে সিগারেটের ধোঁওয়ারা মাঝে মাঝে মেঘ হয়ে যায়
তোমার চুলের ফাঁকে ফোকরে ঢুকে পড়ে
আঙুলরা ভিজে যায় তাই,
                        চোখের পাপড়ি এমন কি নাকছবিটাও।

আমার শহরে পাগলিরা পোয়াতি হয় বছর বছর,
হুবহু মানুষের বাচ্চার মতো সেই বিটকেলে ছানাগুল জন্মায়
আস্তাকুঁড়ে, ব্রীজের নিচে, বাজারের পেছনে।

এ শহরের হাইরাইস আর বস্তির মাঝখানে শান্ত গলিতে
চোরাগোপ্তা দুপুরে ঢুকে পড়ে প্রেমিক-প্রেমিকা
কাকেরা হাঁ করে ঘাড় বেঁকিয়ে দেখে আর দেখে...

কুকুরেরা গলি আগলে টানটান হয়ে শুয়ে পড়ে।
সন্ধ্যে হলে এখনো শাখ বাজে এ শহরে
                         টিভিতে শুরু হয় একটা ছেলে

আর তার চারটে বউ-এর মারকাটারি কেচ্ছা
দেখতে দেখতে কখন কে জানে লালা গড়িয়ে পড়ে,
ভিজে চটচটে হয়ে যায় জামা, জামা তলায় ছোটজামা,
                          তারও তলায় যদি কিছু থাকে, তাই

কান খুঁচিয়ে ময়লা বের করে আনার মতো
                          আনন্দ খুঁজে নিতে নিতে
আমার শহর বড় বড় দুটো স্বপ্নের চোখ মেলে,
                           পাঁচ বছরের বাচ্চা মেয়ে হয়ে উঠে বলে
“কোলকাতা একদিন কল্লোলিনী তিলোত্তলা, স্যরি, তিলোত্তমা হবে”
কাদা প্যাচপ্যাচে গড়িয়াহাটায় হটাৎ পাগলা হাওয়া ঘোরে
                                        পাতার বৃষ্টি নামে।


ব্রেকিংনিউজ/এমআর

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2