শিরোনাম:

অপহরণ নয়, প্রেমিকের সঙ্গে স্বেচ্ছায় ভারতে ছিলেন মনিকা: পুলিশ

জীবন মুছা, চট্টগ্রাম করেসপন্ডেন্ট
৮ নভেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: 4:37 আপডেট: 4:50
অপহরণ নয়, প্রেমিকের সঙ্গে স্বেচ্ছায় ভারতে ছিলেন মনিকা: পুলিশ
উদ্ধারের পর মনিরা বড়ুয়া রাধা (ডানে)

অপহরণ নয়, ফেসবুকের মাধ্যমে পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হয়ে কম বয়সী প্রেমিকের হাত ধরে ৭ মাস আগে ঘর ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন নগরীর লালখান বাজারের বাসিন্দা ও গানের শিক্ষিকা মনিকা বড়ুয়া রাধা (৪৫)।

চট্টগ্রামে আলোচিত মনিকা বড়ুয়া রাধা (৪৫) নিখোঁজ ও অপহরণ নাটকের রহস্য উদঘাটন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।

বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে নগরীর দামপাড়া পুলিশ সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মনিকা রাধার কথিত অপহরণ নাটকের বিস্তারিত তুলে ধরেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম।

পুলিশ জানায়, মণিকা রাধার স্বেচ্ছায় ভারতে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি পরিবারের একাধিক সদস্য জানা সত্ত্বেও তারা পুলিশকে সহযোগিতা না করে উল্টো মনিকা রাধার উদ্ধারের দাবি জানিয়ে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় কয়েক দফা মানবন্ধন করে। এমনকি পরিবারের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘আন্তরিকতা’ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চট্টগ্রামের দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকার ক্রীড়া সাংবাদিক দেবাশীষ বড়ুয়া দেবুর স্ত্রী মনিকা বড়ুয়া (৪৫) গত ১২ এপ্রিল নগরীর লালখান বাজার হাই লেভেল রোডের বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। 

ঘটনায় পরদিন ১৩ এপ্রিল নগরীর খুলশী থানায় পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে বিভিন্ন সময় মনিকা অপরহণ হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। 

এর পর ২৮ এপ্রিল মনিকা অপহরণ হয়েছে এমন অভিযোগ করে থানায় অপহরণ মামলা করেন মনিকার স্বামী সাংবাদিক দেবাশীষ বড়ুয়া দেবু।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার আমেনা বেগম জানান, মনিকা বড়ুয়া নিখোঁজ হওয়া এবং অপহরণের অভিযোগ পুলিশ গুরুত্বের সাথে নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। পুলিশি অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ অনুসন্ধানে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে জানতে পারে মনিকা অপহরণ হননি। তিনি স্বেচ্ছায় বাসা থেকে বেরিয়ে ভারতের চলে গিয়েছিলেন প্রেমিকের হাত ধরে।

আমেনা বেগম আরও জানান, সেখানে ভারতীয় নাগরিক ব্যবসায়ী কমলেশ কুমার মল্লিককে তিনি বিয়ে করে নাম বদল করে (অনামিকা মল্লিক) নতুন সংসার শুরু করেন। কিন্তু মনিকা বড়ুয়ার বোন ও পরিবারের অনেক সদস্য সত্যি ঘটনা জেনেও, মণিকার সাথে যোগাযোগ থাকা সত্ত্বেও অপহরণের অভিযোগ তুলে তাকে উদ্ধারের দাবি জানান। এ নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রামে মানবন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে তার পরিবার ও সাংস্কৃতিক-সামাজিক কর্মীরা।

পুলিশ জানায়, ভারতীয় নাগরিক ব্যবসায়ী কমলেশ কুমার মল্লিকের সাথে মনিকার পরিচয় হয়েছিলো ফেসবুকের মাধ্যমে। যিনি মনিকার চেয়ে বয়সে প্রায় ১০ বছরের ছোট। এই পরিচয় এক সময় প্রেমে রূপ নেয় এবং তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে কমলেশ বাংলাদেশে এসে গত ১২ এপ্রিল মণিকাকে বাসযোগে প্রথমে বেনাপোল নিয়ে যান। কিন্তু মনিকার ভিসা না থাকায় তাকে কৌশলে অবৈধভাবেই ভারতে প্রবেশ করান কমলেশ। পরে তারা কলকাতায় একটি মন্দিরে বিয়ে করে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাসও শুরু করেন।

পুলিশ তদন্তের সূত্র ধরে এক সময় কমলেশের খোঁজ পান। গত ৩ নভেম্বর কমলেশ তার ব্যবসায়িক কাজে কলকাতা থেকে ঢাকায় আসলে পুলিশ ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকা থেকে কমলেশকে গ্রেফতার করে। 

গ্রেফতারের পর কমলেশ মনিকাকে ভারত নিয়ে যাওয়া থেকে বিয়ে পর্যন্ত যাবতীয় ঘটনার স্বীকারোক্তি দেয়ার পর কমলেশের মাধ্যমে কৌশলে মনিকাকেও বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেফতার করে পুলিশ।

উল্লেখ্য, মনিকা রাধা চট্টগ্রামের সঙ্গীতাঙ্গনেও একজন পরিচিত মুখ। তিনি সাংবাদিক দেবাশীষ বড়ুয়া স্ত্রী এবং চট্টগ্রাম লিটল জুয়েলস স্কুলের সঙ্গীত শিক্ষক। তিনি দুই কন্যা সন্তানের জননী। বড় কন্যা একাদশ শ্রেণিতে ও ছোট কন্যা অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।

ব্রেকিংনিউজ/জেএম/এমআর

সংশ্লিষ্ট আরো খবর
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2