শিরোনাম:

জার্মানির ভয়ঙ্কর যত সিরিয়াল কিলার

রকমারি ডেস্ক
৮ নভেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: 7:45 আপডেট: 11:42
জার্মানির ভয়ঙ্কর যত সিরিয়াল কিলার

সিরিয়াল কিলাররা শুধু মানুষই খুন করেন না, তারা ধর্ষণ, শিশু উৎপীড়ন কিংবা নরমাংস ভক্ষণের মতো ভয়ঙ্করতম অপরাধগুলোর অনেকগুলোই করেন৷আসুন, জার্মানির কিছু ভয়ঙ্কর সিরিয়াল কিলারের সঙ্গে পরিচিত হই৷

বার্লিনের কসাই

কার্ল গ্রসমানকে বলা হয় বার্লিনের কসাই৷ তিনি মানুষ মেরে তাদের মাংস বিক্রি করতেন কালোবাজারে৷ একবার চিৎকার শুনে পুলিশ তার বাড়িতে হানা দিয়ে এক নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করে৷ ঠিক কতজনকে গ্রসমান হত্যা করেছেন তার সঠিক হিসেব না থাকলেও অন্তত ২৩ জন নারী তার শিকার বলে ধারণা করা হয়৷ এছাড়া সে সময় আশেপাশে আরো ১০০ জনের নিখোঁজ সংবাদ পাওয়া যায়৷ মৃত্যুদণ্ড দেয়ার আগেই ১৯২২ সালে তিনি আত্মহত্যা করেন৷

এস-বান খুনি

১৯৪০ থেকে ১৯৪১ সালের মধ্যে নাৎসি যুগের বার্লিনে ৩১টি ধর্ষণ, ৮ জন নারীকে হত্যা এবং আরো ৬ জনকে হত্যার চেষ্টা করেন পাওল অগরসো৷ জার্মানির যাত্রীবাহী রেলের কর্মচারী ছিলেন অগরসো৷ মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়ার দু’দিনের মাথাতেই তার শিরশ্ছেদ করা হয়৷

মৃত্যুর কারিগর

১৯৪৬ ও ১৯৪৭ সালে হার্ৎস মাউন্টেনে বর্ডার গার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রুডলফ প্লাইল৷ তখন পূর্ব থেকে পশ্চিম জার্মানিতে অবৈধ নারী পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি৷ তার দুই সঙ্গী নারীদের ফাঁদে ফেলে নিয়ে আসতেন৷ তার বিরুদ্ধে আদালতে একজন দালাল ও নয় নারীকে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়৷ তবে তিনি ২৫ জনকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেন৷ তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হলেও আট বছর পর আত্মহত্যা করেন৷

ডুইসবুর্গের মানুষখেকো

ইওয়াকিম গেরো ক্রোল একজন সিরিয়াল কিলার, ধর্ষক, শিশু নিপীড়নকারী ও নরখাদক ছিলেন৷ ১৯৫৫ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত তিনি ১৪ জনকে হত্যা করেছেন৷ এদের প্রায় সবাই তরুণী৷ ১৯৭৬ সালে যখন তাকে গ্রেফতার করা হয়, তখন তার ফ্রিজে মানুষের অঙ্গ পাওয়া যায়৷ এক চার বছরের কন্যাশিশুর কাঁধ ও হাত রান্না করার জন্য তৈরি রেখেছিলেন তিনি৷ ১৯৮২ সালে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়৷ ১৯৯১ সালে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান তিনি৷

রাস্তার শিকারি

ফলকার একার্ট একজন ট্রাক চালক৷ ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি কমপক্ষে ৯ জন নারীকে হত্যা করেছেন৷ এর বাইরে আরো চারজনকে ফলকার হত্যা করেছেন বলে পুলিশের ধারণা৷ ইউরোপে ঘুরে ঘুরে যৌনকর্মীদের তুলে নিয়ে পরে তাদের হত্যা করতেন তিনি৷ ভুক্তভোগীর চুল বা অন্য কোনো চিহ্নও রেখে দিতেন ৷ ২০০৭ সালে একার্ট আত্মহত্যা করেন।

ঠাণ্ডা মাথার খুনি

১৯৭০ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে অন্তত চার জন নারীকে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে ফ্রিটৎস হোনকার বিরুদ্ধে৷ শ্বাসরোধ করে যৌনকর্মীদের মেরে ফেলতেন তিনি৷ এরপর শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে ফেলতেন৷ একবার ঘরে আগুন লেগে যাবার পর দমকলকর্মীরা তার বাড়িতে ভিক্টিমদের শরীরের বিভিন্ন অংশ লুকানো অবস্থাতে পান৷

বিষাক্ত নার্স

কোলন শহরের এই নার্সের নাম মারিয়ানে ন্যোলে৷ ১৯৮৪ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত তিনি বিষ দিয়ে ১৭ জন রোগীকে হত্যা করেন৷ আরো ১৮ জনকে হত্যার চেষ্টা করেন৷ তবে তার বিরুদ্ধে মাত্র ৭ জনের হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়৷ এই নারী কখনোই তার অপরাধ স্বীকার করেননি৷ এখনো তিনি যাবজ্জীবন জেল খাটছেন৷

ব্রেকিংনিউজ/এনকে

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2