শিরোনাম:

বাংলাদেশে মি-টু ঝড়, মডেল প্রিয়তিকে যৌন হেনস্তা রফিকুলের!

সোস্যাল মিডিয়া ডেস্ক
৭ নভেম্বর ২০১৮, বুধবার
প্রকাশিত: 7:58 আপডেট: 8:00
বাংলাদেশে মি-টু ঝড়, মডেল প্রিয়তিকে যৌন হেনস্তা রফিকুলের!

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাবেক মিস আয়ারল্যান্ড ও মডেল মাকসুদা আখতার প্রিয়তির এক স্ট্যাটাসে ভারতের পর বাংলাদেশেও ‘মি-টু’ ঝড় বইতে শুরু করেছে। যেখানে রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলামের ছবিসহ একটি পোস্ট দিয়ে রফিকুলের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তুলেছেন প্রিয়তি। এবং বলেছেন এ বিষয়ে তার হাতে যথেষ্ট প্রমাণ আছে। আওয়ামীপন্থি রফিকুল ইসলাম রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান।

গত ২৯ অক্টোবর সোস্যাল মিডিয়ায় এমন পোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে মি-টু আন্দোলনের ঝড় তোলেন প্রিয়তি। 

জানা যায়, বছর তিনেক আগে রফিকুলের কোম্পানির একটি পণ্যের বিজ্ঞাপনে কাজ করার পর নিজের পারিশ্রমিক আনতে গিয়েছিলেন প্রিয়তি। সেই সময় রফিকুল অফিসেই তাকে যৌন নির্যাতন করেন। প্রিয়তি নিজেই ফেসবুকে দেয়া ভিডিও বার্তা ও স্টাটাসে এমন অভিযোগ করে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

মাকসুদা প্রিয়তি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে দাবি করেন, ২০১৫ সালের মে মাসে রফিকের অফিসে তিনি গিয়েছিলেন তাদের প্রোডাক্ট প্রমেক্সের বিজ্ঞাপনে কাজ করার পারিশ্রমিক আনতে।

তিনি রফিকের রুমেই বসা ছিলেন। এ সময় সেখানে বসা ছিলেন রংধনু গ্রুপের জেমরিনা জামানও। প্রিয়তির সাথে ব্যক্তিগত কথা আছে, জানিয়ে রফিক জেমরিনা জামানকে রুম থেকে বের করে দেন। এরপরই রফিক তার টেবিল থেকে ওঠে এসে মাকসুদা প্রিয়তির সাথে অসভ্যতা শুরু করেন। তাকে তিনি যৌন হেনস্তা করেন।

প্রিয়তি অভিযোগ করেছেন, সেদিনের ঘটনার পর মুখ না খোলার জন্য বেশ কয়েকবার প্রিয়তিকে হত্যার হুমকিও দিয়েছেন রফিক। প্রিয়তি তার স্ট্যাটাসে বলেন, ঘটনার সময় তিনি রফিকের হাত থেকে কোনো মতে নিজেকে রক্ষা করেন এবং রুম থেকে বাইরে এসে জেমরিনা জামানকে পুরো ঘটনাটি খুলে বলেন এবং তাকে জড়িয়ে হাউমাউ করেও কেঁদেছিলেন। ঘটনাটি তিনি সুজনকে জানিয়েও কেঁদেছিলেন বলে স্টাটাসে উল্লেখ করেন প্রিয়তি।

প্রিয়তি জানান, এ ঘটনা নিয়ে আইরিশ পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি, যা ইন্টারপোলের মাধ্যমে বাংলাদেশে যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


স্টাটাসে প্রিয়তি বলেন, বাংলাদেশে মি টু মুভমেন্ট কিভাবে হবে? এই লোককে নিয়ে কেউ কোনও নিউজ করবে না, কারণ গণমাধ্যম তাদের ভয় পায়, সাংবাদিকদের চাকরি চলে যাবে। কারণ বেশিরভাগ টিভি চ্যানেল ও পত্রিকা তাদের হাতের মুঠোয়। মেয়েরা কিভাবে খুলবে মুখ? যেখানে জানাবে তাদের কিছুই হবে না।

এ ছাড়া তিনি লিখেন, ‘এই পোস্টের পর হয়তো আমার নামে মানহানির মামলা হবে, না হয় বলবে অসৎ উদ্দেশ্য আছে আমার ইত্যাদি ইত্যাদি। বাংলাদেশের মেয়েরা তত দিন মুখ খুলবে না। ভারতের মতো যত দিন ওরা অনুভব করবে তাদের জন্য। 

তিনি লিখেন ‘আমি শুধু এতটুকু বলতে চাই, পুরো ঘটনাটি লজ্জায় লিখতে পারিনি কারণ ঘটনা এর চেয়ে ভয়াবহ ছিল।’

তার জীবন এখন হুমকির মুখে দাবি করে প্রিয়তি জানান, তাকে যেকোনো সময় খুন করা হতে পারে। আর এজন্য দায়ী থাকবেন রফিকুল ইসলাম। 

প্রিয়তি লিখেন, রংধনু গ্রুপের ওয়েবসাইট অলরেডি ওরা বন্ধ করে দিয়েছে। আমার জীবনের যদি কোনো ক্ষতি হয় অর্থাৎ প্রাণহানি করার ঘটনা ঘটে তাহলে রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম দায়ী থাকবেন। কারণ তিনি আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন তিন বছর আগেই, এমনকি আয়ারল্যান্ডে এসেও আমাকে মেরে ফেলা তার জন্য নাকি দুই পয়সার ব্যাপার।

এ ব্যাপারে রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, এরকম কোনও ঘটনা ঘটেনি, প্রিয়তিকে তিনি চেনেন না। তার প্রতিষ্ঠানে পণ্যের বিজ্ঞাপনের জন্য অনেক মডেল কাজ করে, তাদের সাথে তার সরাসরি যোগাযোগও হয় না।

বিষয়টি অস্বীকার করে রফিকুল বলেন, ‘এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাকে আমার সামনাসামনি করেন, এবং একটা এভিডেন্স তাকে দেখাতে বলেন যে তার সাথে এরকম কোন আচরণ আমি করেছি।’

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2