শিরোনাম:

মিথ্যা সকল পাপের মূল

ধর্ম ডেস্ক
৪ নভেম্বর ২০১৮, রবিবার
প্রকাশিত: 7:48
মিথ্যা সকল পাপের মূল

মিথ্যা বলা মারাত্মক অপরাধ। মিথ্যাবাদীকে কেউ বিশ্বাস করে না। মিথ্যাবাদীর দ্বারা সমাজে নানা ধরনের অশান্তি ও ঝগড়া বিবাদের সৃষ্টি হয়। এজন্য মিথ্যাবাদীকে সমাজের অভিশাপ বলা হয়ে থাকে। আল্লাহ ও তার রাসুল (সা.) মোটেও পছন্দ করেন না মিথ্যাবাদীকে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে মিথ্যাবাদীর ভয়ানক পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। একটি মিথ্যাকে সত্য বলে প্রমাণ করার জন্য নানা ছলচাতুরীর আশ্রয় গ্রহণ করা হয়। তারপরও মিথ্যা মিথ্যাই থেকে যায়। মিথ্যাকে সত্য ও সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঢাকা যায় না।

মিথ্যাচার করাই যাদের অভ্যাস তারা সংসারে, সমাজে এবং দেশে নানা সমস্যা ও অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে। মিথ্যাবাদীর কবলে পড়ে প্রায়ই সমাজের নিরীহ মানুষ প্রতারিত হয়ে থাকেন। মিত্যাবাদীর ওপর আল্লাহ্পাকের অভিশাপ বর্ষিত হয়। মিথ্যাবাদী ক্রমশ মানসিক শক্তি ও সৎসাহস হারিয়ে ফেলে। তখন তার হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। স্বীয় স্বার্থে যে কোনো কাজ করতে সে দ্বিধা করে না। যে মিথ্যাকে ত্যাগ করতে পারে সে কোনো প্রকার অন্যায় কাজ করতে পারে না। সকল পাপের মূল হচ্ছে মিথ্যা বলা।

একদা এক পাপিষ্ট মহানবী (সা.) এর দরবারে হাজির হয়ে বললো, হে রাসূলুল্লাহ! আমি সবরকম অপরাধের সাথে যুক্ত। আমি কীভাবে এ চরম পাপাসক্তি থেকে রেহাই পেতে পারি? লোকটির কথা শ্রবণ করে মহানবী (সা.) বুঝলেন, সত্যি সত্যি লোকটি সৎপথে আসার উপায় খুঁজছে। তিনি চিন্তা করলেন, লোকটির মধ্যে যতো রকম অন্যায় কাজ রয়েছে তা যদি আমি বর্জন করতে বলি তাহলে হয়তো তার পক্ষে সবগুলো একসাথে বর্জন করা সম্ভব হবে না। তাই মহানবী (সা.) বললেন, তুমি আজ থেকে মিথ্যা কথা বলা ত্যাগ কর। দেখবে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। মহানবী (সা.) এর উপদেশকে সহজসাধ্য ভেবে সন্তুষ্ট হয়ে লোকটি মিথ্যা না বলার সংকল্প করল।

এরপর সে নিজের বাড়ি যাওয়ার পর যখন নামাজের সময় উপস্থিত হলো তখন সে চিন্তা করল এখন যদি আমি নামাজ আদায় না করি তাহলে আগামীকাল মহানবী (সা.) এর কাছে যাই, তখন তিনি যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, গতকাল তুমি কি নামাজ পড়েছিলে- তখন আমি কি উত্তর দেবো? লোকটি জবাবদিহিতার ভয়ে সময়মতো নামাজ আদায় করল। রাতের বেলায় একটি নির্দিষ্ট সময়ে মদ্যপান করা লোকটির আরেকটি বদ অভ্যাস ছিল। রাতে মদ্যপানের সময় উপস্থিত হলে মহানবী (সা.)-এর কাছে কৃত ওয়াদার কথা তার স্মরণ হয়ে গেল। এসব চিন্তা করে সে মদের গ্লাস ছুঁড়ে ফেলে দিলো। মিথ্যা বলার ভয়ে সে সব রকম পাপ থেকে বিরত রইল।

রাসূলুল্লাহ (সা.) জানতেন, মিথ্যা বলা এমনই জঘন্য অপরাধ, তা ত্যাগ করতে পারলে সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত থাকা যায়। এজন্য মিথ্যাকে সকল পাপের উৎস বলা হয়ে থাকে। মিথ্যাবাদী আর মুনাফিকের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। মিথ্যা সব ধরনের অপরাধকে উৎসাহ দিয়ে থাকে। বিচার দিবসে আল্লাহ্পাক মিথ্যা বলে বেচাকেনাকারীর সাথে কথা বলবেন না। হাসি-তাশা, কিংবা স্বাভাবিক অবস্থা-মিথ্যা সর্বাবস্থায় নিষেধ, শিশুদের সাথে রসিকতা কিংবা খেলাধুলাতেও মিথ্যা থেকে বিরত থাকার কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কারণ এটা বাচ্চাদের অন্তর গেঁথে যায় এবং তাদের কে মিথ্যা বলতে উৎসাহ জোগায়।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মিথ্যা তো তারাই সৃষ্টি করে যারা আমার নিদর্শনগুলোর ওপর আস্থা বা ইমান রাখে না। প্রকৃতপক্ষে তারাই মিথ্যাবাদী’ (সূরা নাহাল ১০৫) মহানবী (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট, সে যা শোনে তাই লোকসমাজে বলে বেড়ায়। (মুসলিম) মিথ্যা বলার পরিণাম খুবই ভয়াবহ। মিথ্যাবাদীর জন্য দুনিয়াতে রয়েছে ধ্বংস, অপমান ও লাঞ্ছনা এবং আখেরাতে তার জন্য অপেক্ষা করছে জাহান্নাম।

মিথ্যার কারণে মানুষের অন্তরে কপটতার সৃষ্টি হয়। মিথ্যা মানুষকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। মিথ্যাবাদীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা নিষেধ। মিথ্যার কারণে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় স্থানেই চেহারা মলিন ও বিবর্ণ হয়ে যাবে। মিথ্যা বলার অপরাধে বিচার দিবসে মিথ্যাবাদীর চোয়াল চিরে গর্দান পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে।

তিনি আরও বলেছেন, লোক হাসানোর জন্য যে মিথ্যা বলে ধ্বংস তার জন্য, ধ্বংস তার জন্য। (তিরমিজি, আবু দাউদ) আসুন আমরা কথা-বার্তায়, চাল-চলনে অর্থাৎ জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে মিথ্যা পরিহার করে সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য সচেষ্ট হই।

ব্রেকিংনিউজ/এনএসএন

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2