শিরোনাম:

ঠাকুরগাঁওে ২০১৭ সালের প্রশ্নপত্র দিয়ে জেএসসি পরীক্ষা গ্রহণ!

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
২ নভেম্বর ২০১৮, শুক্রবার
প্রকাশিত: 1:22
ঠাকুরগাঁওে ২০১৭ সালের প্রশ্নপত্র দিয়ে জেএসসি পরীক্ষা গ্রহণ!

ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গীর লাহিড়ীতে জেএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের একটি কক্ষে ২০১৭ সালের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে ৫২ জন পরীক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার সারাদেশে একযোগে শুরু হওয়া জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ১ম দিনেই লাহিড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ১১৬নং কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত (২০১৭ সালের) প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এতে অনিশ্চয়তায় পড়েছে ভুক্তভোগি পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ।

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে জেএসসি’র তিনটি ও জেডিসিসহ চারটি পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চারটি কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৫ হাজার ৬শ’ ৪৫ জন। এর মধ্যে লাহিড়ী (সি) কেন্দ্রে ১২শ’ ৫৯ জন। এদের মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিল ১১শ’ ৬৭ এবং অনিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিল ২১ জন। ওই কেন্দ্রে মোট ২২টি কক্ষে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১১৬ নং কক্ষে ৫২জন নিয়মিত পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। কিন্তু এদের মধ্যে পুরাতন সিলেবাস অনুযায়ী ৪৮ জন পরীক্ষার্থীকে অনিয়মিত প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়।

দোগাছি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী রিতা রানী, সততা রানী ও পিংকি রানী বলেন, ২০১৭ সালের প্রশ্ন পত্র পাওয়ার পর কক্ষ পরিদর্শককে জানালে তিনি ধমক দিয়ে বলেন, যে প্রশ্নপত্র দেয়া হয়েছে তা দিয়েই পরীক্ষা দিতে হবে। ওই ভুল প্রশ্ন দিয়ে আমাদের পরীক্ষা দেওয়ায় পরীক্ষা ভাল হয়নি।

ওই কক্ষে পরিদর্শকের দায়িত্বে ছিলেন চৌরংগী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিরউদ্দীন ও রত্নাই উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক রেহেনা খানম।

রশিদুল ইসলাম নামে এক অভিভাবক বলেন, পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে আমার মেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছে। কার ভুলের জন্য পরীক্ষার্থীদের এ শাস্তি। কে এর জবাব দেবে?

লাহিড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব জিল্লুর রহমান জানান, ভুলক্রমে ৪৮জন নিয়মিত পরীক্ষার্থীর অনিয়মিত প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এটি অনিচ্ছাকৃত ভুল।

পরীক্ষা কেন্দ্রের তদারকির দায়িত্বে থাকা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার সুমন আহম্মেদ জানান, আমার কিংবা প্রধান শিক্ষকের রুমে রুমে ঢুকে প্রশ্ন পত্র চেক করা সম্ভব নয়। পরীক্ষার্থীরাও আগে অভিযোগ করেনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদুর রহমান মাসুদ জানান, বিষয়টি আমি জেনেছি। এটি অনিচ্ছাকৃত ভুল। বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মহোদয় এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।

এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে সার্বিক খোঁজ-খবর নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

ব্রেকিংনিউজ/এমজি

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2