শিরোনাম:

প্লাস্টিকে পরিবেশ দূষণ, ডুবছে পৃথিবী

পরিবেশ ডেস্ক
৩০ অক্টোবর ২০১৮, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: 7:44 আপডেট: 9:43
প্লাস্টিকে পরিবেশ দূষণ, ডুবছে পৃথিবী

মাত্র কয়েক মাস আগেই মালয়েশিয়া সীমান্তের কাছে থাইল্যান্ডের একটি খাড়ি থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় একটি তিমিকে উদ্ধার করা হয়। পরে জানা যায়, তিমিটি কিছু প্লাস্টিক গিলে ফেলায় তার পাকস্থলী কর্মক্ষমতা হারায়। তিমিটির পাকস্থলীতে ৮০টি প্লাস্টিকের ব্যাগ আটকে ছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিমিটির মৃত্যু হয়।

প্রতিবছর থাইল্যান্ড-মালেয়শিয়া সীমান্ত উপকূলে কেবল প্লাস্টিকের ব্যাগের কারণে প্রাণ হারানো প্রায় ৩০০ মৃত প্রাণী দেখতে পাওয়া যায়। প্লাস্টিকের আগ্রাসনে বিজ্ঞানীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, প্লাস্টিকের সাগরে ডুবতে বসেছে পৃথিবী। 

মানুষের এই পৃথিবীটাকে সুন্দর রাখা মানুষেরই দায়িত্ব। কিন্তু মানুষই প্রতিনিয়ত সুন্দর এই পৃথিবীকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলছে। যেমন প্লাস্টিক পণ্য ও পলিথিন আজ গোটা পৃথিবীকে গ্রাস করতে চলেছে। তাই এখন প্লাস্টিক ও পলিথিন পণ্য নিয়ে সকলকে চিন্তাভাবনা করতে হবে।

বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতে বিকাশমান শিল্পখাত প্লাস্টিক পণ্য। প্রযুক্তি ও যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেশ পরিবর্তন ঘটেছে দেশের প্লাস্টিক শিল্পে। ফলে অ্যালুমিনিয়াম, সিরামিক পণ্যকে পেছনে ফেলে এসব খুব সহজেই দেশীয় ও বিদেশি ক্রেতাদের মন জয় করে নিয়েছে। আগে শুধু ঘরের টুকিটাকি কাজে প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহার হলেও এখন প্রযুক্তির উন্নয়নে নিত্যপণ্যের অনুসঙ্গ হয়ে উঠেছে।

প্লাস্টিক ও পলিথিনের স্তূপের ফলে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হতে হচ্ছে। জলভাগে প্লাস্টিক ও পলিথিন পতিত হওয়ার ফলে পানির রং ও স্বাদ পরিবর্তিত হয়। যেমন- ক্যারিবীয় উপসাগরে অবস্থিত নৈসর্গিক সৌন্দর্যের আধার এ দ্বীপ এখন ময়লার ভাগাড়ে রূপ নিয়েছে। প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন বর্জ্যে দ্বীপে চোখজুড়ানো নীল পানি ধীরে ধীরে ধারণ করেছে কালোরূপে। সেখান থেকে বের হচ্ছে উৎকট দুর্গন্ধ। দূষিত হচ্ছে বাতাস। ফলে দ্বীপটি এখন আর আগের মতো পর্যটকদের উপস্থিতি চোখে পড়ে না। 

২০১৭ সালে করা এক প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে ৯ লাখ ৬৫ হাজার বর্গমাইল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্লাস্টিক আবর্জনা দেখা যায়। বিজ্ঞানীদের মতে তিমি, স্কুইড ও কিং পেঙ্গুইনের আকর্ষণীয় খাবার গভীর সমুদ্রে থাকা ল্যান্টার্নফিস। সমুদ্রের তলদেশে প্লাস্টিক থাকায় সবচেয়ে হুমকির মুখে পড়ছে এই ল্যান্টার্নফিস। ফলে অন্যান্য প্রাণীর খাদ্যচক্রেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।

এভাবে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক ও পলিথিন থেকে মাটি, পানি ও বায়ু দুষিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। পরিবেশ দূষিত হলে প্রাণী সেখানে টিকে থাকতে পারে না। প্লাস্টিক ও পলিথিন ব্যবহারে ক্ষতির হার বেশি। তবে পুঁজিবাদী সম্প্রদায় এতে লাভবান হচ্ছে দ্রুতগতিতে। আর ক্ষতি ও রোগাক্রান্ত হচ্ছে গরিবেরা।

যেখানে প্লাস্টিকের ও পলিথিনের কারণে মাটির উর্বরতা কমে যায়। প্লাস্টিকে বাধা পেয়ে মাটির ভেতর জল প্রবেশ করতে না পারায় মাটি শুষ্ক হয়ে পড়ে এবং মাটি ও জলের মিশ্রণে সে মাটির পৃথক সারে পরিণত হয় এবং তা বাধাপ্রাপ্ত হয়। আবার দেখা যায় পানির মধ্যে প্লাস্টিক থাকলে তাতে শ্যাওলা জাতীয় আবরণ পরে এবং পচে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয় তাতে পানি বিষাক্ত হয়ে পড়ে। তার ফলে পানিতে বসবাসরত প্রাণী ধ্বংস হয়ে পড়ে। পানিতে রোগজীবাণু সৃষ্টি হয়ে, অনেকে রোগে আক্রান্ত হয়। ওই বিষাক্ত জল বাষ্পের সাথে মিশে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। একসময় মহামারী হতে পারে।

এদিকে প্রায় ২ কোটি মানুষের শহর ঢাকা। ঢাকা মহানগর এলাকায় প্রতিদিন ১৪১৮ জন মানুষ বাড়ছে। বছরে যুক্ত হচ্ছে গড়ে পাঁচ লাখ সাড়ে ১৭ হাজার মানুষ। এত বেশি সংখ্যক মানুষ থেকে সৃষ্টি হচ্ছে বিপুল পরিমাণ আবর্জনা। কিভাবে চলছে ঢাকা শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা? এখানেও গৃহস্থালির বর্জ্য, মেটাল, প্লাস্টিক ও ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য পরিকল্পিতভাবে প্রক্রিয়াজাত না হওয়ায় ঝুঁকি বাড়ছে প্রতিদিনই।

তবে সম্প্রতি দিনাজপুরে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে রিসাইক্লিংয়ের জন্য প্রক্রিয়াজাত করায় পরিবেশ দূষণ কম হচ্ছে। এ কাজে কর্মসংস্থান হচ্ছে অসংখ্য মানুষের। কোমল পানীয়’র বোতলসহ এসব প্লাস্টিক বর্জ্য শহর-বন্দরের অলিগলিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এতে পরিবেশ যেমন অপরিচ্ছন্ন থাকে, নালা-খালের প্রবাহ আটকে যায়, দূষিত হয় নদীর পানি।

দিনাজপুরে এসব প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাতকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শহর ও শহরতলীতে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি কারখানা।

কারখানা কর্তৃপক্ষ আবুল কালাম বাবুল বলেন, সংগ্রহ করা প্লাস্টিক পরিষ্কার করার পর মেশিনে প্রক্রিয়াজাত করে পাঠানো হচ্ছে ঢাকায়। নগরে বর্জ্য ভয়াবহতা কমিয়ে আনতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখছে এসব কারখানা।

এই প্লাস্টিক প্রকৃতির পরিবেশের জন্য ভয়ঙ্কর বিপর্যয় ডেকে আনবে ভবিষ্যতে। অবশ্য মুনাফা ভিত্তিক লুটেরার দল পরিবেশ ও প্রকৃতির দিকে লক্ষ্য না রেখে এবং ক্ষতিবিষয়ক বিবেচনায় না নিয়ে নানা ধরনের প্রকৃতি ও পরিবেশবিরোধী কাজে লিপ্ত রয়েছে। এর ফলাফল ভালো নয় দেশের তথা পৃথিবীর জন্য। 

দেশ ও পৃথিবী ভবিষ্যতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার আগে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন। এরই অংশ হিসেবে দ্রুত বন্ধ করতে হবে প্লাস্টিক পলিথিনের ব্যবহার। তথ্যসূত্র: ওয়েবসাইট, ইন্টারনেট

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2