শিরোনাম:

পরিবেশ দূষণ বন্ধে ‘কঠোর’ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি বাপার

স্টাফ ক‌রেসপ‌ন্ডেন্ট
১২ অক্টোবর ২০১৮, শুক্রবার
প্রকাশিত: 3:19
পরিবেশ দূষণ বন্ধে ‘কঠোর’ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি বাপার

বাংলাদেশে পরিবেশ দূষণ বন্ধে অবিলম্বে কার্যকর ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

শুক্রবার ( ১২ অক্টোবর) দুপুরে বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ কনফারেন্স রুমের ২য় তলায় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপার) উদ্যোগে ‘‘পরিবেশ দূষণের  বাংলাদেশ বছরের ২৩৪,০০০ মানুষ মারা যাচ্ছে! দূষণের বন্ধে অবিলম্বে কার্যকর ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করনের’’-  দাবিতে  এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি জানান সংগঠনের নেতারা।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে পরিবেশ দূষণ জ্যামিতিক হারে বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশ সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়,  ২০১৫ সালে বাংলাদেশে পরিবেশন দূষণজনিত কারণে ২,৩৪,০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু ওই বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট মৃত্যু সংখ্যা ছিলো ২১,২৮৬ জন এবং নানা রোগব্যাধিতে মোট মৃতের সংখ্যা ছিলো ৮,৪৩০০০ জন। সেই তুলনায় বায়ূদূষণের জনিত কারণে মৃত্যের সংখ্যা অন্যান্য দূষণে জনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা থেকে বেশী।

২০১৪ সালের এ গবেষণায় মোট ১৭৮ টি দেশের  মধ্যে সার্বিক জীবন মানের ভিক্তিতে পরিবেশগত ভাবে সুরক্ষিত দেশেগুলোর তালিকায় বাংলাদেশে অবস্থান ১৬৯তম এবং শুধু বিশুদ্ধ বাতাসের নিরিখে করা পৃথক তালিকায় বাংলাদেশর অবস্থা ১৭৮ তম। নেতিবাচক অর্থে আমরা বায়ুদূষণে ক্ষেত্রে, চ্যাম্পিয়ান, অবস্থায় রয়েছি।

বক্তারা আরও বলেন,  বাংলাদেশ নদী, নালা, খাল, বিল এবং অন্যান্য জলাশয়সহ সমুদ্রদূষণ ও দখলের প্রতিযোগিতা এবং শব্দদূষণের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বায়ুদূষণ। ঢাকাসহ সমগ্র দেশ আজ ভয়াবহ বায়ুদূষণের কবলে নিপতিত হচ্ছে। ঢাকা শহরের চারপাশের ইটভাটা, তীব্র যানজট,  পুরোনো মটরগাড়ি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া এবং ধুলা কার্বন ডাউ অক্সাইড ঢাকার বাতাসকে ভারী করে তুলছে।

সারাদেশে কমবেশী ১০,০০০ হাজার ইটভাটা রয়েছে এবং প্রায় অর্ধেক রয়েছে ঢাকা শহরের আশা- পাশে। নিম্মমানের কয়লা জ্বালানি ব্যবহার করে ইটভাটা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া কমপক্ষে ৩০% বায়ুদূষণের জন্য অন্যতম দায়ী।

সম্প্রতি আরেকটি আন্তর্জাতিক সূত্রের বরাতে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে সারাবিশ্বে ক্যান্সার বন্যার মতো শুরু হয়েছে যার  প্রধান কারণ হচ্ছে পরিবেশ দূষণ। আর দূষণসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বেশী ও নিকৃষ্ট হচ্ছেবাতাসের দূষণ। বায়ুদূষণ বন্ধ না করলে আমাদের জনস্বাস্থ্য সংকট আরও হবে ভয়াবহরূপ ধারণ করবে। যার ফলে প্রায় ১০,০০,০০০ মানুষ লেড সংক্রমণের শিকার হবে যা শিশুদের বুদ্ধিমত্তার বিনষ্ট করে।

বক্তারা বলেন, আমরা জানি জলবায়ু পরিবর্তন অন্যতম প্রধাণ কারণ বায়ুদূষণ। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সৃষ্ট দূষণের দায়ভার যদিও আমাদের কম ছিল, কিন্তু তা আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ আমাদের দেশে বায়ুদূষণের মাত্রা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিজ্ঞানীদের ভবিষ্যত বাণী মতে যদি গ্রীণ হাউজ গ্যাস নির্গমনের মাত্রা এখনই কমিয়ে আনা না যায় তাহলে আগামী ১২ বছরের মধ্যেই পৃথিবীর ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে।

আর ভয়ংকর দূষণ হচ্ছে শব্দ দূষণ।  মারাত্মকভাবে বেড়ে চলেছে যদি এটি নিয়ন্ত্রণের কিছু বিধান রয়েছে কিন্তু তার প্রয়োগ আমরা দেখছিনা। পরিবেশে দূষণের হাত থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করার জন্য অবিলম্বে দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, ইটের বিকল্প জ্বালানি হিসাবে কংক্রিট ব্লকের ব্যবহার বাড়াতে হবে। কাঠ পোড়ানো বন্ধ করতে হবে। ১৬ বছরের ও তার বেশী ব্যবহীত যানবহন ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। সব বড় সড়কের পাশে ফুটপাত দখলমুক্ত নিশ্চিত করতে হবে। মাটিবাহী ট্রাক ও গরুর গাড়ীর থেকে বালি ও মাটি পড়া বন্ধ করতে হবে। সারাদেশে গাছ লাগানো জোরদার করতে হবে। ধুমপান হ্রাস করতে হবে এ বিষয়ে কঠোর ব্যবথা গ্রহণ ও বায়ুদূষণ রোধে জাতীয় পরিকল্পনা নিতে হবে।

‌ব্রে‌কিং‌নিউজ/এএইচএস/জেআই

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2