শিরোনাম:

তারেক রহমানের সাজার প্রতিবাদে বাসাইলে বিক্ষোভ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১১ অক্টোবর ২০১৮, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: 6:29 আপডেট: 6:55
তারেক রহমানের সাজার প্রতিবাদে বাসাইলে বিক্ষোভ

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আদালতের দেয়া যাবজ্জীবন সাজা প্রত্যাহার করে এবং ঘোষিত সাজার প্রতিবাদে টাঙ্গাইলের বাসাইলে বিক্ষোভ মিছিল করেছে উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে বাসাইল শহীদ মিনার এলাকায় বাসাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় কাজী শহীদ বলেন, ‘বিএনপিকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার জন্যই সরকারের বিশেষ ব্যক্তির মনোবাঞ্ছা পূরণে এ রায় দেয়া হয়েছে। এ রায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এজন্য যে, একতরফা নির্বাচন করার জন্যই এ রায় একটি কারাসাজি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোকে নিশ্চিহ্ন করার জন্যই গতকাল এই ‘ফরমায়েশি’ রায় দেয়া হয়েছে। কিন্তু জনগণ এ রায় প্রত্যাখান করেছে। এই রায়ের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিভাবে সারা দেশে বিক্ষোভ করেছে বিএনপিসহ সাধারণ জনগণ।’ 

উল্লেখ্য, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সাবেক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে বুধবার (১০ অক্টোবর) রায় ঘোষণা করেন ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন এর আদালত। ৪৯ আসামির মধ্যে বাকি ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়। অন্য মামলায় এরইমধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় এ মামলা থেকে তিনকে অব্যাহতি দেন আদালত।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৯ আসামি হলেন লুৎফুজ্জামান বাবর (উপস্থিত), মাওলানা তাজউদ্দিন (পলাতক), শেখ আবদুস সালাম (উপস্থিত), মো. আবদুল মাজেদ ভাট ওরফে ইউসুফ ভাট (উপস্থিত), আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ ওরফে জিএম (উপস্থিত), মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ (উপস্থিত), মহিব্বুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভি (উপস্থিত), মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডাক্তার জাফর (উপস্থিত), আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল (উপস্থিত), মো. জাহাঙ্গীর আলম (উপস্থিত), হাফেজ মাওলানা আবু তাহের (উপস্থিত), হোসাইন আহমেদ তামিম (উপস্থিত), মাইন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মাইন ওরফে খাজা ওরফে আবু জানদাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ (উপস্থিত), রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে শামিম ওরফে রাশেদ (উপস্থিত), মো. উজ্জ্বল ওরফে রতন (উপস্থিত), সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু (উপস্থিত), ডিজিএফআইর সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী (উপস্থিত) এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তখনকার মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম (উপস্থিত), হানিফ এন্টারপ্রাইজের মালিক মোহাম্মদ হানিফ (পলাতক)। আদালত এঁদের সবাইকে এক লাখ টাকা জরিমানাও করেন। 

যাবজ্জীবনকারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১৯ আসামি হলেন তারেক রহমান (অনুপস্থিত), কুমিল্লার সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন কায়কোবাদ (পলাতক), শাহাদাত উল্লাহ জুয়েল (উপস্থিত), মাওলানা আবদুর রউফ ওরফে আবু ওমর আবু হোমায়রা ওরফে পীর সাহেব (উপস্থিত), মাওলানা সাব্বির আহমেদ ওরফে আবদুল হান্নান সাব্বির (উপস্থিত), আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আবদুর রাজ্জাক (উপস্থিত), হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া (উপস্থিত), ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক কমিশনার আরিফুল ইসলাম আরিফ (উপস্থিত), আবু বকর সিদ্দিক ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার (ইপস্থিত), আনিসুল মোর্সালীন (পলাতক), মুহিবুল মুক্তাকীন (পলাতক), খলিলুর রহমান খলিল (পলাতক), জাহাঙ্গীর আলম ওরফে বদর (পলাতক), মো. ইকবাল (পলাতক), মাওলানা লিটন ওরফে জোবায়ের ওরফে দেলোয়ার (পলাতক), হারিছ চৌধুরী (পলাতক), বাবু ওরফে রাতুল বাবু (পলাতক), শফিকুর রহমান (পলাতক), মুফতি আবদুল হাই (পলাতক)। আদালত তাদের সবাইকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন।

এরপর বাকি ১১ আসামির বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ঘোষণা করেন বিচারক। তিনি বলেন, ‘দণ্ডবিধির ২১৭ ধারায় দুই বছর এবং ২১৮ ধারায় তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলো। পুলিশের সাবেক মহাপরিচালক (আইজিপি) খোদা বক্স চৌধুরী (উপস্থিত), সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (অব.) রুহুল আমিন (উপস্থিত), এএসপি (অব.) আবদুর রশিদ (উপস্থিত) ও এএসপি (অব.) মুন্সি আতিকুর রহমানকে (উপস্থিত) তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাঁদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।’

এ ছাড়া বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক (উপস্থিত), আইজিপি আশরাফুল হুদা (উপস্থিত), আইজিপি শহুদুল হক (উপস্থিত), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন (আমেরিকায় পলাতক), লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ারদার (পলাতক), ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান (পলাতক) ও ডিএমপির উপকমিশনার (দক্ষিণ) খান সাঈদ হাসানকে (পলাতক) দুই বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৬ মাস করে কারাদণ্ড দেন আদালত।

ব্রেকিংনিউজ/এএইচ/এমআর

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2