শিরোনাম:

শুভ জন্মদিন ‘বিগ বি’

বিনোদন ডেস্ক
১১ অক্টোবর ২০১৮, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: 12:40 আপডেট: 12:41
শুভ জন্মদিন ‘বিগ বি’

বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের ৭৬তম জন্মদিন আজ। ১৯৪২ সালের ১১ অক্টোবর উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদে জন্ম অমিতাভ বচ্চনের। তাঁর প্রকৃত নাম অমিতাভ হরিবংশ রাই শ্রীবাস্তব বচ্চন। 

পদবী আসলে শ্রীবাস্তব। বচ্চন অমিতাভের বাবা ছদ্ম পদবী হিসেবে ব্যবহার করতেন। সেই বচ্চন নামটাই প্রায় ভারতীয় সিনেমার সঙ্গে সমার্থক হয়ে উঠেছে। পিতা হরিভাঁশ রায় বচ্চন ছিলেন একজন সুপরিচিত সাহিত্যিক। মা তেজি বচ্চন গৃহিণী।

১৯৭০-এর প্রথম দিকে তিনি বলিউড চলচ্চিত্র জগতে ‘রাগী যুবক’ হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করেন এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে ওঠেন। ছেলে অভিষেক বচ্চনের জন্যই অমিতাভ ‘বিগ বি’ বা বড় বচ্চন নামেও পরিচিত। 

জাঞ্জির, শোলে এবং দিওয়ার ছবিতে অভিনয় করা অমিতাভ বচ্চন ছিলেন মারকুটে যুবকের ইমেজে। কিন্তু ১৯৮২ সালে ‘কুলি’ ছবির শুটিংয়ে দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ওঠার পর থেকে তার শরীর ভাঙতে শুরু করে। কিন্তু তিনি আত্মবিশ্বাস হারাননি।

এখনো অভিনয় করে যাচ্ছেন একের পর এক চলচ্চিত্রে। ছবির মূল চরিত্র হয়ে পাল্লা দিচ্ছেন শাহরুখ-আমির-সালমান খানদের মতো সুপারস্টারদের সাথে। এজন্যই তিনি বলিউডের অঘোষিত শাসক, শাহেনশাহ।

‘ভীম’ ছিল বিগ বি’র শততম ছবি। আর ‘ভূতনাথ রিটার্নস’ ছিল তার ২০০তম ছবি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি অভিনয় করেছেন প্রায় ২১০টির মতো ছবিতে। 

পর্দায় অমিতাভের প্রথম কাজ ১৯৬৯ সালে মৃণাল সেনের জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত ছবি ‘ভুবন সোম’ ছবিতে ভাষ্যকারের ভূমিকায়। এরপরই ‘সাত হিন্দুস্তানি’ ছবিতে প্রথম স্ক্রিনে আসার সুযোগ। 

১৯৭১ সালে মুক্তি পায় বিখ্যাত ছবি ‘আনন্দ’। সেসময় বলিউডের সুপারস্টার রাজেশ খান্নার সঙ্গে প্রথম স্ক্রিন শেয়ার করা। এই ছবির পরে আর পিছনে তাকাতে হয়নি। ‘আনন্দ’ ছবিতে এক চিকিৎসকের ভূমিকায় অভিনয় করে ছিনিয়ে নেন ফিল্মফেয়ার সেরা সাপোর্টিং অভিনেতার অ্যাওয়ার্ড।

অনেকে বলেন, ‘আনন্দ’ ছবি থেকেই ধ্বংসের মুখে পড়েন রাজেশ খান্না আর তার একমাত্র কারণ নাকি ছয় ফুট লম্বা, রোগা এই মানুষটি! কেননা, সেই ছবি থেকেই রাজেশের পতন শুরু আর অমিতাভের উত্থান।

১৯৭৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘জাঞ্জির’ ছবিতে এক কড়া পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় দেখা যায় তাকে। এই ছবির পরই তাকে বলিউডের ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যানে’র তকমা দেন অনেকে। সে বছরই জয়া ভাদুরীকে বিয়ে করেন অমিতাভ। তাদের ঘরে আছে দুটি সন্তান। 

বড় মেয়ে শ্বেতা নন্দা এবং ছোট ছেলে অভিষেক বচ্চন। অভিষেকও বলিউডের একজন জনপ্রিয় অভিনেতা। অমিতাভের পুত্রবধূ বলিউডের আরেক ‘বিগ’ সেলিব্রেটি ঐশ্বরিয়া রাই। 

বিয়ের এক মাস পরই এই নবদম্পতির ছবি ‘অভিমান’ আবার সুপারহিট। ‘নমক হারাম’ ছবিতে ফের রাজেশ খান্নার সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেন অমিতাভ।

১৯৭৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘দিওয়ার’তে অভিনয় করে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পান। এই ছবির সেই বিখ্যাত সংলাপ ‘মেরে পাস মা হ্যায়’ আজও সকলের মুখে মুখে। একই সালে মুক্তি পায় ‘শোলে’। এই ছবিটি সেসময়ের ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের সবচেয়ে বড় ছবি হয়ে দাঁড়ায়। তারপর কেবল ইতিহাসই রচনা করে চলেছেন অমিতাভ।

বচ্চনকে ভারতীয় চলচ্চিত্র তথা বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা ও প্রভাবশালী অভিনেতা হিসেবে গণ্য করা হয়। ১৯৮৪ সালে তাঁদের অনেক দিনের পারিবারিক বন্ধু রাজীব গান্ধীর সমর্থনে অমিতাভ অভিনয় থেকে সংক্ষিপ্ত বিরতি নিয়ে রাজনীতিতে যোগ দেন। তিনি এলাহাবাদ লোকসভা আসনের জন্য উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এইচ এন বহুগুনার বিরুদ্ধে নির্বাচনে দাঁড়ান এবং সাধারণ নির্বাচনের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ভোট পার্থক্যে জয়লাভ করেন। তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন সংক্ষিপ্ত ছিল। তিন বছর পরে তিনি পদত্যাগ করেন।  

১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে ভারতীয় চলচ্চিত্রে তার একচ্ছত্র আধিপত্যের জন্য ফরাসি চলচ্চিত্র সমালোচক ও পরিচালক ফ্রঁসোয়া ত্রুফো তাকে ‘একক-ব্যক্তি চলচ্চিত্র শিল্প’ বলে অভিহিত করেন।

বচ্চন কর্মজীবনে অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে ৪টি শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ১৫টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পুরস্কার। 

ফিল্মফেয়ারে অভিনয়ের জন্য প্রদত্ত পুরস্কারের বিভাগে তিনি সর্বাধিক মনোনয়ন পাওয়ার রেকর্ড করেছেন। অভিনয় ছাড়াও তাঁকে নেপথ্য গায়ক, চলচ্চিত্র প্রযোজক, টেলিভিশন সঞ্চালক হিসেবেও দেখা গেছে। 

তিনি গেম শো ফ্র্যাঞ্চাইজ হু ওয়ান্টস টু বি আ মিলিয়নিয়ার-এর ভারতীয় সংস্করণ ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ অনুষ্ঠানের কয়েকটি মৌসুমের সঞ্চালনা করেন।

শিল্পকলায় তাঁর অবদানের জন্য ১৯৮৪ সালে ভারত সরকার তাঁকে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী, ২০০১ সালে তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মভূষণ, এবং ২০১৫ সালে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মবিভূষণে ভূষিত করে।

বিশ্ব চলচ্চিত্রে তাঁর অনন্য কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৭ সালে ফ্রান্স সরকার তাঁকে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা লেজিওঁ দনরের নাইট উপাধিতে ভূষিত করে।

ব্রেকিংনিউজ/এনকে

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2