শিরোনাম:

দৃষ্টি নাজিমুদ্দিন রোডের আদালতের দিকে

স্টাফ করেসপডেন্ট
১০ অক্টোবর ২০১৮, বুধবার
প্রকাশিত: 10:37
দৃষ্টি নাজিমুদ্দিন রোডের আদালতের দিকে
ছবি: নাজিমুদ্দিন রোডের আদালত ভবন

বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় দেয়া হবে কিছুক্ষণের মধ্যেই। আলোচিত এই মামলার রায়ে কি হবে তা জানার আগ্রহ সবার। বিশেষ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ কয়েকজনের ভাগ্যে কি ঘটবে তা জানার জন্য সবার দৃষ্টি পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের আদালতের দিকে। শুধু দেশের মানুষ নয়, ঢাকায় কর্মরত বিদেশী কূটনীতিক-দাতাদেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিরাও মামলার রায় শোনার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন।

বুধবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর পুরান ঢাকার বকশীবাজারের নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে স্থাপিত ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন রায় পড়া শুরু করবেন বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

ইতোমধ্যেই কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বিভিন্ন কারাগারে আটক থাকা ৩১ জন আসামিকে বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত এই অস্থায়ী আদালতে আনা হয়েছে। 

এদিকে রায়কে কেন্দ্র করে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ঘিরে পুরো এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিপুল সংখ্যক পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন রয়েছে সাদা পোশাকের গোয়েন্দা পুলিশ।

এর আগে উভয়পক্ষের যুক্তি উত্থাপন শেষে ১৮ সেপ্টেম্বর মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ঠিক করে দেন ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলা হয়। এই হামলায় আওয়ামী লীগের তৎকালীন মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন কয়েকশ নেতাকর্মী। প্রাণে বেঁচে যান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা।

২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নতুন করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়। তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ১১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি। অভিযোগপত্রে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের উপ-মন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন, হুজি নেতা মুফতি হান্নান (অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর) সহ ২২ জনকে আসামি করা হয়।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মামলার অধিকতর তদন্ত শুরুর উদ্যোগ নেয়া হয়। তদন্তের পর বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরীসহ আরও ৩০ জনকে অভিযুক্ত করে ২০১১ সালের ২ জুলাই সিআইডি’র বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহার আকন্দ সম্পূরক অভিযোগপত্র দেন। 

হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে করা দুই মামলায় সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের পর ২০১২ সালের মার্চে দ্বিতীয় দফায় অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এরপর সাড়ে ছয় বছর ধরে বিচারকাজ চলছে। এ মামলায় চার্জশিটের ৫১১ সাক্ষীর মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২২৫ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। 

মামলায় মোট আসামি ৫২ জন। এর মধ্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান ও শরীফ শাহেদুল আলমের ফাঁসি হয়েছে অন্য মামলায়। ৪৯ আসামির মধ্যে ১৮ জন পলাতক রয়েছেন, বাকি ৩১ আসামি কারাবন্দি।

ব্রেকিংনিউজ/ এসএ 

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2