শিরোনাম:

গ্রেনেড হামলা মামলার রায়

আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রত্যাশা ও প্রস্তুতি

রাহাত হুসাইন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৯ অক্টোবর ২০১৮, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: 10:47 আপডেট: 7:30
আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রত্যাশা ও প্রস্তুতি

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলার রায় হতে যাচ্ছে আগামীকাল বুধবার। আলোচিত ও বহুল চর্চিত এ মামলার রায়কে কেন্দ্র করে সারা দেশে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কাদের।

জানা গেছে, দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আগামীকালের রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কোনও পক্ষ যেন কোনও ধরনের নাশকতা কিংবা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে সেজন্যই নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থান নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। একইসঙ্গে এই রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশে আবারও নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হবে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগ নেতারা। 

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণার আগের দিন মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্যই উঠে আসে। 

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘আমরা কাউকে আক্রমণ করবো না। তবে আক্রান্ত হলে দাঁতভাঙা জবাব দেবো। কোনও অবস্থায় উত্তেজিত হওয়া যাবে না।’

২১ আগস্ট গ্রেনেট হামলার মামলার রায় নিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘ইতিহাসের জঘন্যতম রাজনৈতিক হামলা ২১ আগস্টের গ্রেনেট হামলা। ২১ আগস্ট গ্রেনেট হামলার রায় নিয়ে শুধু আওয়ামী লীগ নয়, দেশের মানুষ আশা করছে যারা দোষী তাদের উচিত শাস্তি হবে। আমি মনে করি কেউ এই রায়ের বিরুদ্ধে যাবে না। আর যদি কেউ রায় নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তাহলে সরকারের আইনশৃংখলা বাহিনী কঠোরভাবে তাদের প্রতিহত করবে।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি মুঠোফোনে ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘২১ আগস্ট হামলার একজন প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আমি ন্যায়বিচার আশা করছি। তৎকালীন সরকার ২১ আগস্টের মত অপরাধ সংগঠন করতে সহযোগিতা করেছে। এ অপরাধকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছে। এই হামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেছে। শুধু হামলা করেছে তাই না এই হামলার বিচারের পথ বন্ধ করতে সমস্ত অপচেষ্টা চালিয়েছে। সত্য কখনো চাপা থাকে না। অনেক দিন পরে হলেও বুধবার ২১ আগস্ট গ্রেনেট হামলা মামলার রায় হতে যাচ্ছে। আমি আশা করছি প্রকৃত অপরাধীরা চিহ্নিত হয়েছে। প্রকৃত অপরাধীদের যথোপোযুক্ত শাস্তি দিয়েই রায় প্রকাশিত হবে বলে প্রত্যাশা করছি।’

সাবেক এই পরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত বিচার মানে না, সংবিধান মানে না, আইন মানে না, আদালত মানে না। তারা যেকোনো উসিলাতেই দেশে নাশকতা করার চেষ্টা করে। রায়কে ঘিরে তারা (বিএনপি-জামায়াত) দেশে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে দেশের জনগণ মেনে নেবে না। আওয়ামী লীগ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিরোধ করবে।’

২১ আগস্ট গ্রেনেট হামলার মামলার রায় নিয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ২১ আগস্টে হামলার শিকার আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘রায় নিয়ে কেউ কোথাও যেন কেউ সহিংসতা করতে না পারে এ জন্য নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ শান্তি-শৃংখলা রক্ষার কাজ করে। কেউ যদি রায়কে ঘিরে দেশের শান্তি-শৃংখলা বিনষ্ট করতে ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করে তাদের ষড়যন্ত্র প্রতিহতে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ২১ আগস্ট গ্রেনেট হামলার একজন ভিকটিম হিসেবে গ্রেনেট হামলার ষড়যন্ত্রকারী ও হামলার সাথে জড়িতদের মৃত্যুদণ্ড আশা করছি। ভবিষ্যতে যাতে কেউ এ ধরনের হামলা করতে সাহস না পায়।’  

আওয়ামী লীগের আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, ‘২১ আগস্ট হামলা মামলার রায়ের মধ্য দিয়ে বুধবার জাতিকে দায়মুক্তি দেয়া হবে। প্রত্যাশিত রায়ের জন্য পুরো জাতি অপেক্ষা করছে। ২১ আগস্টের যারা খুনি, সেই খুনিদের বিচার হবে এবার। রায়কে কেন্দ্র করে কেউ বিশৃংখলা করলে আইনশৃংখলা বাহিনী কঠোরভাবে দমন করবে।’

এদিকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে যুবলীগ দক্ষিণের ৫৪৯ টিম মাঠে থাকবে  বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ যুবলীগের ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। তিনি বলেন, ‘ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের ২৪ টি সাংগঠনিক থানা এবং ৭৫টি ওয়ার্ড কমিটি রয়েছে। প্রত্যেকটি ওয়ার্ডের অধীনে ৬টি করে ইউনিট কমিটি। বর্বরোচিত ঘৃণিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের দিন ভোর থেকেই যুবলীগের প্রতিটি নেতাকর্মী রাজপথে সক্রিয় সতর্ক পাহাড়ায় থাকবে।’

প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশ চলাকালে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২২ জন মারা যান। গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগ সভাপতি তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতাকর্মী আহত হন। তাদের অনেকেই এখন পঙ্গু। শরীরে বিষাক্ত স্প্রিন্টার নিয়ে বসবাস করছেন অনেকেই।

ব্রেকিংনিউজ/আরএইচ/এমআর

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2