শিরোনাম:

গ্রেনেড হামলা মামলার রায়

দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার, সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

তৌহিদুজ্জামান তন্ময়, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৯ অক্টোবর ২০১৮, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: 10:15 আপডেট: 7:29
দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার, সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘিরে রাজধানীসহ সারা দেশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রায়কে ঘিরে যাতে কোনও ধরনের নাশকতা কিংবা অরাজক পরিস্থিতি না ঘটে সেজন্য প্রত্যেক জেলা ও মহানগর পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে মাঠে রাখা হয়েছে। রায় পক্ষে বা বিপক্ষে যাওয়ার আবেগে কোনও পক্ষ যদি নাশকতার চেষ্টা করে তাদের শক্ত হাতে দমনের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তবে রায়ের দিন জঙ্গি কিংবা সন্ত্রাসী হামলার কোনও শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৯ অক্টোবর) সকাল থেকেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়িতে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। এছাড়া ঢাকাসহ সারা দেশে সতর্ক অবস্থায় মাঠে আছে র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্যরা।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের বিশেষ আদালতে তল্লাশি চলবে, বসানো হবে চেকপোস্ট। এছাড়াও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে পুলিশ সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করবে। শহরজুড়ে থাকবে গোয়েন্দা নজরদারি। সব মিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৫ সহস্রাধিক সদস্য এই দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে।

পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডিকে বলেন, ‘কোনও জঙ্গি কিংবা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হামলার কোনও হুমকি নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ। বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ও চেকপোস্ট থাকবে। কেউ কোনও বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে তাকে ছাড় দেয়া হবে না।’ 

র‌্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডিকে বলেন, ‘রায়কে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী র‌্যাবের ব্যাটালিয়নগুলোকে সজাগ থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কেউ যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে সেজন্য রাজধানীসহ সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পর্যাপ্তসংখ্যক র‍্যাব সদস্য মোতায়েন থাকবে।’ 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)’র এক পুলিশ কর্মকর্তা ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডিকে বলেন, ‘রায় ঘিরে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হবে পুরো রাজধানী। বিশেষ করে মিরপুর, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, খিলগাঁও, লালবাগসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে পুলিশ আসামিদের পরিবারগুলোর প্রতি বিশেষ নজর রেখেছেন। তারা কি করছে, কাদের সাথে কথা বলছেন, তাও জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি তাদের ফোনকলেও নজর রাখা হচ্ছে।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ব্রেকিংনিউজকে বলেছেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে কেউ দেশের স্বাভাবিক নিরাপত্তা বিঘ্ন করার চেষ্টা করলে কঠোরভাবে দমন করে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। আগামীকাল (১০ অক্টোবর) ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়। এ রায়কে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাজনিত কোনও হুমকি নেই এবং নিরাপত্তা বিঘ্ন হওয়ার কোনও সুযোগ নেই। এটা মহামান্য আদালতের একটা স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ।’

নগরবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘রায় ঘিরে নিরাপত্তার কোনও শঙ্কা নেই। নগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। আমাদের নজরদারি রয়েছে। এ রায়কে কেন্দ্র করে কোনও স্বার্থান্বেষী মহল সহিংসতার চেষ্টা করলে তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে, কোনও ধরনের অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না।’

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘গ্রেনেড হামলার মামলার রায়কে ঘিরে দেশে কোনোও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা নেই। দেশের জনগণ এ মামলার রায়ের জন্য অধীর আগ্রহে রয়েছে। এ রায়ের মাধ্যমে জাতি একটি কলঙ্ক থেকে মুক্ত হবে। ওই নৃশংস গ্রেনেড হামলার বিচার মানুষ দেখতে চায়। তাই ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে দেশে কোনেও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা নেই।’

উলেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের মহাসমাবেশে গ্রেনেড মামলার ঘটনায় মতিঝিল থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে করা দুই মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ১০ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। গত ১৮ সেপ্টেম্বর পুরান ঢাকায় ১নং অস্থায়ী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন। 

আলোচিত এ মামলায় ৫১১ সাক্ষীর মধ্যে ২২৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ এবং ২০ জনের সাফাই সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদিকা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন দলের তিন শতাধিক নেতাকর্মী।

মামলায় জামিন বাতিল হওয়া ৮ আসামি হলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা, শহিদুল হক ও খোদা বক্স চৌধুরী এবং মামলাটির তিন তদন্ত কর্মকর্তা সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সিআইডির সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান, এএসপি আব্দুর রশীদ ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম।

আসামিদের মধ্যে ২৩ জন কারাগারে রয়েছে তারা হলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, মুফতি হান্নানের ভাই মুহিবুল্লাহ মফিজুর রহমান ওরফে অভি, মাওলানা আবু সাইদ ওরফে ডাক্তার জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলুবুল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, শাহাদত উল্যাহ ওরফে জুয়েল, হোসাইন আহমেদ তামিম, মইনুদ্দিন শেখ ওরফে আবু জান্দাল, আরিফ হাসান সুমন, মো রফিকুল ইসলাম সবুজ, মো. উজ্জল ওরফে রতন, হরকাতুল জিহাদ নেতা আব্দুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মাদ ওরফে জিএম, শেখ আব্দুস সালাম, কাশ্মিরী নাগরিক আব্দুল মাজেদ ভাট, আব্দুল হান্নান ওরফে সাব্বির, মাওলানা আব্দুর রউফ ওরফে পীর সাহেব, মাওলানা শাওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই এর সাবেক মহাপরিচালক আবদুর রহিম ও রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী।

পলাতক ১৮ আসামিরা হলেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বর্তমান বিএনপির এমপি কাজী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন কায়কোবাদ, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিনসহ, মহিবুল মুত্তাকিন ওরফে মুত্তকিন, আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন, মো. খলিল, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মো. ইকবাল, লিটন ওরফে মাওলানা লিটন, সবেক ডিসি পূর্ব মো. ওবায়দুর রহমান, সবেক ডিসি দক্ষিণ খান সাইদ হাসান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ারদার, মেজর (অব.) এটিএম আমিন, হানিফ এন্টার প্রাইজের মালিক মো. হানিফ, শফিকুর রহমান, আব্দুল হাই ও বাবু ওরফে বাতুল বাবু।

মামলায় আইজিপি খোদা বক্স চৌধুরীসহ ৬ সরকারি কর্মকর্তার সর্বোচ্চ ৭ বছর এবং সাবেক আইজিপি মো. আশরাফুল হুদাসহ ৫ জনের সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ডের ধারায় বিচার হচ্ছে।

ব্রেকিংনিউজ/টিটি/এমআর

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2