শিরোনাম:

জবির নতুন ক্যাম্পাস স্থাপনে ২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

আরমান হাসান, জবি প্রতিনিধি
৯ অক্টোবর ২০১৮, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: 8:29 আপডেট: 8:29
জবির নতুন ক্যাম্পাস স্থাপনে ২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

বহুল প্রতীক্ষিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের(জবি) নতুন ক্যাম্পাস স্থাপন, ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়নে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদিত হয়েছে।

মঙ্গবার(৯ অক্টোবর)২০১৮-১৯ অর্থবছরের ৯ম অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ প্রকল্পটি অনুমোদি হয়। 
জবিকে একটি পরিপূর্ণ ও অত্যাধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রূপান্তরের জন্য নতুন ক্যাম্পাস স্থাপন, ভূমি অধিগ্রহণ এবং ভূমির উন্নয়নের জন্য ১৯২১ কোটি ৬৪ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ব্যয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পটি এর আগে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন পেয়েছিল। 

গত ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ সচিবালয়ের ১১৭তম সভায় ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ থানার তেঘরিয়া ইউনিয়নের পশ্চিমদি মৌজায় প্রায় ২০০ একর ভূমি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত অনুমোদন করে । 

প্রকল্পটি পাশ হওয়ার খবর শুনে জবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত খুশি এই সিদ্ধান্তে। আমরা আগামীকাল আনন্দ মিছিল করবো। এরপর আমরা এই প্রকল্প অতি দ্রুত বাস্তবায়িত করার জন্য দাবি জানাবো।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি মুজাহিদ অনিক তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘২০১৬ সালের দীর্ঘ ৩৩ দিনের রক্ত ও ঘামের ফসল অবশেষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘরে উঠতে যাচ্ছে । এ বিজয় জবির ২০ হাজার শিক্ষার্থীর । আগামীকাল সবাইকে আনন্দমিছিলে উপস্থিত থাকার জন্য আহ্বান করেন।’

জগন্নাথ বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এটা আমাদের পাওয়ার অধিকার ছিল । অনেক পরে হলেও পেয়েছি। তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন , আমরা বিগত বছর গুলোতে দেখেছি , একবছরের বিল্ডিং বানাতে ৩ বছর লেগেছে।’

জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১১ জুলাই একনেক সভায় ২৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সাড়ে সাত একর জায়গায় একটি ২০ তলা একাডেমিক ভবন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে এক হাজার সিটের আবাসিক ছাত্র হলের জন্য ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন’ শিরোনামের একটি প্রকল্প উপস্থাপন করেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য নজরুল ইসলাম। প্রকল্পের প্রস্তাবনা দেখার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, এই ৭ একর, ১০ একর দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যার সমাধান হবে না উল্লেখ করে ২০০ একর জমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়নের এ প্রস্তাব দেন। 

নতুন ক্যাম্পাস স্থাপন, ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন প্রকল্পটি নিয়ে উপাচার্য় অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন , ঙআমাদের যে ভুমি সংকট ছিল সেটা সমাধানের যাত্রা শুরু করলাম। ইদানিংকালে বাংলাদেশে কোন বিশ্ববিদ্যালয়কে দুইশত একর জমি দেওয়ার নজির নেই। সর্বোচ্চ তিরিশ চল্লিশ একর দেয় । এখন আমরাই সর্বোচ্চ জায়গা এবং প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা পেলাম । এর আগে এত টাকা কোন বিশ্ববিদ্যালয়কে দেওয়া হয়নি। আমাদের আশা পূর্ণ হয়েছে । এখন আমাদের এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ প্রকল্পের মধ্যে অত্যাধুনিক বিশ্ববদ্যিালয়ের মাস্টার প্ল্যান অর্ন্তভূক্ত রয়েছে। ইতিমধ্য ১ অক্টোবর ২০১৮ থেকে এ প্রকল্পের মেয়াদ শুরু  হয়েছে।  প্রকল্পটির অধীনে ভূমি অধিগ্রহণ, নিচু জমি ভরাট করা, পুকুর খনন, গাছ লাগানো , কতটা হল, কতটা বিল্ডিং, খেলার মাঠ, টিএসসি ও ডিজাইনের জন্য ৩৫ কোটি টাকার মতে বাজেট। এই প্রজেক্ট আমরা সময়মত সাবমিট করবো । এরপরে এই প্রজেক্টের অধীনে আরেকটা ৫ বছর বা তার বেশী মেয়াদি  প্রজেক্ট তৈরি করা হবে।  সেই প্রজেক্টের মধ্য দিয়ে নতুন ক্যাম্পাসের কাজ সম্পন্ন হবে। হবে।’

ব্রেকিংনিউজ/এএইচ/জেআই

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2