শিরোনাম:

জবিতে যৌন হয়রানি: অভিযুক্তদের শা‌স্তি দা‌বি‌তে মানববন্ধন

আরমান হাসান, জবি করেসপন্ডেন্ট
৮ অক্টোবর ২০১৮, সোমবার
প্রকাশিত: 4:03
জবিতে যৌন হয়রানি: অভিযুক্তদের শা‌স্তি দা‌বি‌তে মানববন্ধন

ক’দিন আগেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসে যৌন হয়রানির শিকার হন এক নারী শিক্ষার্থী। পরর্তীতে অভিযুক্তদের থানায় সোপর্দ করা হয়। কিন্তু পুলিশ কোনও অভিযোগ না পাওয়ায় অভিযুক্তদের ছেড়ে দেয়।

যৌন হয়রানিকারীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নিয়ে এভাবে ছেড়ে দেয়ার প্রতিবাদে সোমবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘একটা নারীর তার নিজস্ব স্বাধীনতা আছে। সে তার নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী চলাফেরা করতে পারে। তার ব্যক্তিগত ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করার অধিকার কারো নেই। একজন নারী উড়না পরবে কি পরবে না এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর একথা বলার কোনো অধিকার নাই। সেই ছাত্ররা আবার নাকি একটা রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত! এই ঘটনার পর তারা যে রাজনৈতিক দলের সদস্য ছিলো সেই দল থেকে তাদের বহিষ্কার করা উচিত ছিলো।’

তবে পুলিশ বলছে, কেউ কোনও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না দেয়ায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। 

বক্তারা বলেন, ‘যে মেয়েটি আজ ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসেছে তার তো আরো অনেক জায়গায় পরীক্ষা আছে। সে কি ওইসব পরীক্ষা বাদ দিয়ে মামলার বাদী হয়ে মামলা লড়বে? বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী থেকে শুরু করে উপাচার্য পর্যন্ত প্রত্যেকটা ব্যক্তিই বাদী হয়ে এই মামলা করতে পারতেন। কিন্তু তারা কেন সেই কাজ করলেন না। তাছাড়া পুলিশও বাদী হয়ে এই মামলা করতে পারতো। কিন্তু পুলিশ সেটা না করে তাদেরকে ছেড়ে দিলো। এর মানে তারা পরবর্তীতে আগ্রহ সহকারে এ ধরনের হয়রানিমূলক অপরাধ আরও করবে।’

এসময় তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযুক্তরা যে সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত সেই সংগঠন থেকে তাদের বহিষ্কার করে আইনত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান। 

বক্তারা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হোক। আসুন এই ঘটনার পর আমরা প্রতিজ্ঞা করি আমরা যৌন নিপীড়নমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তুলবো।’

উল্লেখ্য, গত শনিবার (৬অক্টবর)জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের(জবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ‘ইউনিট-২’ (মানবিক শাখা)-এর ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসে এক নারী পরীক্ষার্থী ২ জন জবি শিক্ষার্থী কর্তৃক যৌন হয়রানীর শিকার হন। অভিযুক্তরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২য় সেমিস্টারের ছাত্র ও শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তরিকুল ইসলাম গ্রুপের ছাত্রলীগ কর্মী জয়নুল আবেদীন ও একই বিভাগের মোবারক ঠাকুর প্রিন্স। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই শেষে তাদের পুলিশে সোপার্দ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

লিখিত অভিযোগ ওই নারী শিক্ষার্থী জানান, আমি পরীক্ষা শেষে বিজ্ঞান অনুষদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। এসময় ওরা দুজন আমাকে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানীমুলক আচরণ করে। আমার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গাকে আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করে নানা ধরণে কুরুচিমুলক মন্তব্য করেন। এতে আমি একজন নারী হিসেবে বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যাই। 

তিনি আর বলেন, ‌‌‌‘শুধু অশালীন মন্তব্য করেই থেমে থাকেনি তারা। বরং আমি ওড়না পরিধান না করারও কারণ জানতে চায় এবং তারা মানিব্যাগ থেকে আমাকে ওড়না কেনার টাকা দিতে চায়। এসময় তারা আমার সাথে সর্বোচ্চরকম অশালীন কথাবার্তা বলে।’

ব্রেকিংনিউজ/এএইচ/এমআর 

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2