শিরোনাম:

ছাত্রলীগ নেতার হস্তক্ষেপে জাবিতে ‘ভর্তি জালিয়াত চক্রের’ ২ সদস্য আটক

জাবি করেসপন্ডেন্ট
৮ অক্টোবর ২০১৮, সোমবার
প্রকাশিত: 3:45 আপডেট: 7:57
ছাত্রলীগ নেতার হস্তক্ষেপে জাবিতে ‘ভর্তি জালিয়াত চক্রের’ ২ সদস্য আটক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগের এক নেতার সহযোগিতায় ভর্তি জালিয়াত চক্রের ২ সদস্যকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

সোমবার (০৮ অক্টোবর) সকাল ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। এসময় অভিযুক্তদের পাশাপাশি তাদের সঙ্গে আসা এক গাড়ি চালককেও আটক করা হয়। তারপর তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

আটককৃতরা হলেন- আশিক-ই-আতাহার, সাকিব উল সাদাত ও আনোয়ার হোসেন। এদের মধ্যে আশিক-ই-আতাহার মেজবাহ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অর্নাস শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ও ঠাকুরগাওঁ জেলার ইসলামবাগের নূর ইসলাম সরকারের ছেলে। আর সাকিব-উল-সাদাত হলেন জবি রসায়ন বিভাগ অর্নাস প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ও কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থানার মোঃ ফজলুল হকের ছেলে। অন্যদিকে আনোয়ার হোসেন হলেন তাদের গাড়ি চালক। তিনি উবারে গাড়ি চালান।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আশিক-ই-আতাহার ও সাকিব উল সাদাত ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে ‘প্রশ্নপত্র’ দেয়ার চুক্তির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাদের কাছে থেকে ‘সি’ ইউনিটের প্রথম শিফটের প্রশ্ন ও ‘সি’ ইউনিটের এক পরীক্ষার্থীর জামিল আহম্মেদ (রোল-৩১৪৮৮৪) ভর্তি পরীক্ষার এডমিট কার্ড পাওয়া গেছে।

তবে আনোয়ার হোসেন বলেছেন, তিনি উবারের গাড়ি চালক। তিনি তাদেরকে চিনতেন না। সাড়ে ৪ হাজার টাকার ভাড়ায় তিনি তাদেরকে নিয়ে এসেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আটককৃত ‘জালিয়াত চক্রের সদস্যরা’ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক এক শিক্ষার্থীকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ‘সি’ ইউনিটের (কলা ও মানবিকী অনুষদ) প্রথম শিফটের প্রশ্নপত্র দেয়ার প্রলোভন দেখায়। ওই ভর্তিচ্ছু বিষয়টি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ৪২ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান নীলকে (ওই ভর্তিচ্ছুর পূর্ব পরিচিত) জানায়। তাৎক্ষণিক নীল বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সিকদার মো. জুলকারনাইনকে অবহিত করেন। 

পরে ওই ছাত্রলীগ নেতা অভিভাবক সেজে ওই জালিয়াত চক্রের সদস্যদের সাথে প্রায় ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র নেয়ার চুক্তি করেন। সে অনুযায়ী জালিয়াতি চক্রের দুই ‘সদস্য’ একটি মাইক্রোবাস যোগে গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। পরে ভোর ৫টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে আসলে মাহবুবুর রহমান নীলের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাদেরকে আটক করেন। এ সময় তাদেরকে মারধর করা হয়। 

ভোর ৬টার দিকে তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের হাতে তুলে দেয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। তবে আটককৃতদের পাশপাশি ওই চক্রের এক ‘হোতা’ বিশ্ববিদ্যালয়ে আসলেও পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা মাহবুবুর রহমান নীল ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘কেউ টাকা দিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্ন দিচ্ছে বিষয়টি শোনার পর আমি একজন ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র হিসেবে মানতে পারিনি। তাদেরকে ধরার জন্য টোপ দেই। এই টোপে পা দিয়ে তারা আজ ভোরে প্রশ্ন দিতে আসে। আমি আমার লোকজন নিয়ে প্রস্তুত ছিলাম। ভোর ৫টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে আসলে আমরা তাদেরকে ধরি। পরে প্রক্টর স্যারকে ডেকে স্যারের হাতে তুলে দেই।’

এ বিষয়ে প্রক্টর সিকদার মো. জুলকারনাইন বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সার্বিক সহযোগিতায় দু’জন জালিয়াত চক্রের সদস্যকে আটক করেছি। তারা প্রশ্নপত্র দেয়ার নামে এক ভর্তিচ্ছুর সাথে প্রতারণা করছিল। আটককৃতদেরকে বিকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তোলা হবে।’

ব্রেকিংনিউজ/এমএ/এমআর

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2