শিরোনাম:

জঙ্গিদের মূল টার্গেট ছিল ‘চট্টগ্রাম আদালত ভবন’

ঘটনাস্থল থেকে জীবন মুসা
৫ অক্টোবর ২০১৮, শুক্রবার
প্রকাশিত: 2:15 আপডেট: 3:10
জঙ্গিদের মূল টার্গেট ছিল ‘চট্টগ্রাম আদালত ভবন’

‘চট্টগ্রাম আদালত ভবনে হামলাই ছিল মীরসরাইয়ের সোনাপাহাড় এলাকায় অবস্থান করা জেএমবি সদস্যদের মুল টার্গেট। এখান থেকেই মূলত হামলাসহ সকল কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য জেএমবির একটি গ্রুপ সোনাপাহাড় এলাকার চৌধুরী ম্যানশনের এ বাড়িটিতে অবস্থান নেয়।’

শুক্রবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার সোনাপাহাড়ের ‘জঙ্গি আস্তানা’য় র‌্যাবের অভিযান শেষে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করে এ তথ্য জানান র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান।

মুফতি মাহমুদ জানান, ‘গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিএসআরএম’র কর্মচারী পরিচয়ে সোহেল নামে এক লোক এ বাড়ির ৩টি রুম ৫ হাজার টাকায় ভাড়া নিয়েছিল। অপর রুমে নাইম নামের বিএসআরএম’র আরও এক কর্মচারী ভাড়া থাকতো। তাদের সাথে এক নারীসহ ৪ জন থাকার কথা ছিল। বাড়ি ভাড়া নেয়ার সময় সোহেলের সাথে এক নারী ছিল যাকে তিনি স্ত্রী বলে পরিচয় দেন।’

তিনি জানান, বিস্ফেরণের পর ঢাকা থেকে আসা র‌্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল টিম (বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল) বাড়ির ভেতরে ঢুকে অভিযান শুরু করে। পরে তারা ওই বাড়ির ভেতর থেকে দুই জঙ্গির মরদেহ উদ্ধার করে। এসময় একে ২২ রাইফেল একটি, ৩টি পিস্তল ও ৫টি গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়।

বাড়ির মালিক মজাহার চৌধুরী ও কেয়ারটেকারকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

মুফতি মাহমুূদ জানান, ‘সোনাপাহাড় চৌধুরী ম্যানশন থেকে উদ্ধার হওয়া একে-২২ রাইফেলটির সাথে রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গিদের ব্যবহৃত রাইফেলের মিল রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে জঙ্গিরা আবারও একত্রিত হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে তারা ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশেই বাসা ভাড়া নিয়েছে। জরুরি যোগাযোগের সুবিদার্থে এই বাড়িটি বেছে নেয় জঙ্গিরা। এখান থেকে সহজে এবং অনায়াসে যেকোন জায়গায় আসা যাওয়া করতে পারবে। এ ছাড়া বাড়ির পিছনে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইন ও সামনে মহাসড়ক রয়েছে। এ দুটো জায়গা জিম্মি করাও তাদের টার্গেট হতে পারত।’

র‌্যাব জঙ্গি দমনে সব সময় তৎপর। জঙ্গিবাদের সাথে র‌্যাবের কোনো আপোষ নাই জানিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাহমুদ বলেন, ‘এ বাড়িতে আরও যারা থাকার কথা ছিল তাদের ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।’

বর্তমানে অভিযান শেষে এলাকাটিকে নিরাপদ জোন ঘোষণা করে র‌্যাব। অবিস্ফোরিত গ্রেনেডগুলো নিস্ক্রিয় করা হয়েছে। 

এর আগে তিনি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব রাত সাড়ে ৩টা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পুর্ব পাশের বাড়িটি ঘিরে রাখে। ৪টার দিকে জঙ্গিরা র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ভেতর থেকে গুলি করতে থাকে। র‌্যাও পাল্টা গুলি করে। এক পর্যায়ে জঙ্গিরা অবস্থা বেগতিক দেখে ভেতর থেকে পর পর বেশ কয়েকটি গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটায়।

ব্রেকিংনিউজ/ এসএ 

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2