শিরোনাম:

দোয়া কবুলের সময় ও শর্ত

ধর্ম ডেস্ক
৪ অক্টোবর ২০১৮, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: 7:49
দোয়া কবুলের সময় ও শর্ত

দোয়া হলো প্রার্থনা করা। আর প্রার্থনা করতে হবে শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলার নিকট। অন্য কারো কাছে কোনো কিছু প্রার্থনা করা যাবে না। মুসলমান হিসেবে আমরা কমেবেশি সবাই দোয়া করি। তবে দোয়া করার সময় বেশ কয়েকটি বিষয়ের প্রতি গভীরভাবে খেয়াল রাখা দরকার। আলেমরা এগুলোকে দোয়া কবুলের শর্ত ও আদব বলে অভিহিত করেছেন।

আল্লাহর প্রশংসা ও দরুদ শরীফসহ দোয়া করা। আল্লাহর প্রশংসা যেমন, ‘আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামিন’ দোয়ার শুরুতে বলা। এছাড়া ইসমে আজমের সহিত দোয়া করা উত্তম।

হজরত আসমা বিনতে ইয়াজিদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ইসমে আজম এই আয়াতদ্বয়ে রয়েছে-
১. ‘ওয়া ইলাহুকুম ইলাহু ওয়াহিদুন লা ইলাহা ইল্লা হুয়ার রাহমানুর রাহিম।’ -সূরা বাক্বারা : ১৬৩
২. ‘আলীফ লাম মীম। আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম।’ -সূরা আল ইমরান : ১

হজরত ফুজালা ইবনে উবায়দা (রা.) বর্ননা করেন, রাসূলে কারিম (সা.) এক ব্যক্তিকে দোয়া করতে শুনলেন। সে দোয়ায় আল্লাহপাকের প্রশংসা করল না এবং রাসূল (সা.)-এর ওপর দরুদও পাঠ করল না। এতে রাসূলে আকরাম (সা.) বললেন, লোকটি তড়িঘড়ি করে দোয়া করেছে। তিনি লোকটিকে ডেকে আনলেন এবং তাকে অথবা উপস্থিত লোকদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘যখন তোমাদের কেউ নামাজ পড়ে তখন দোয়া করার পূর্বে তার উচিত আল্লাহতায়ালার প্রশংসা করে নেয়া ও রাসূলের প্রতি দরুদ পাঠ করা। এরপর যা ইচ্ছা তা চাওয়া। -তিরমিজি ও আবু দাউদ

এক হাদিসে এসেছে হজরত রাসূলে মাকবুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দোয়া করার পূর্বে দরুদ শরীফ পড়ে, তার দোয়া অবশ্যই কবুল হয়। মহান আল্লাহতায়ালা অসীম দয়ালু; দোয়ার কিয়দাংশ কবুল করে অপর অংশ কবুল না করা তার স্বভাব নয়। এই হাদিসের সারমর্ম এই যে, দরুদ তিনি অবশ্যই কবুল করে থাকেন, সুতরাং তিনি দরুদ কবুল করে দোয়ার অবশিষ্টাংশ অর্থাৎ প্রার্থনীয় বিষয় অগ্রাহ্য করেন না। শেষ পর্যন্ত উভয় অংশই কবুল করেন।

রাসূল (সা.)-এর হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে, আজান ও একামতের মধ্যে দোয়া কবুল হয়ে থাকে।

সিজদারত অবস্থায়, সিজদাহে দোয়া কবুল হয়ে থাকে। বৃষ্টি যখন অবতীর্ণ হয়, তখন দোয়া কবুল হয়ে থাকে।

জুমার দিন ইমাম সাহেব খুতবা দেওয়া শুরু করা থেকে আরম্ভ করে সালাত শেষ করা পর্যন্ত এবং বিকেল বেলায় ‘সালাতুল আসর’-এর পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দোয়া কবুল হয়ে থাকে।

এ ছাড়া রাতের শেষ প্রহর ‘আস সাহার’ যেটাকে বলা হয়ে থাকে, অর্থাৎ ফজরের আগে যে প্রহর রয়েছে, এই প্রহরে দোয়া কবুল হয়ে থাকে। আল্লাহ সুবানাহুতায়ালা কোরআনে কারিমের মধ্যে বলেছেন, ‘এই সময় (আস সাহার) লোকেরা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকে, এই সময়ে দোয়া কবুল হয়ে থাকে।’

ব্রেকিংনিউজ/এনকে

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2