শিরোনাম:

‘যুদ্ধবিমান রাফাল আসলে উপমহাদেশের খেলা ঘুরে যাবে’

ভারত ডেস্ক
৩ অক্টোবর ২০১৮, বুধবার
প্রকাশিত: 10:11 আপডেট: 10:12
‘যুদ্ধবিমান রাফাল আসলে উপমহাদেশের খেলা ঘুরে যাবে’

সম্প্রতি ভারত ফ্রান্সের কাছ থেকে ‘রাফাল’ নামের যুদ্ধবিমান কিনেছে। ‘রাফাল’ কেনা নিয়ে ভারতে চরম বিতর্কের মধ্যেই দেশটির বিমানবাহিনী প্রধান বিমানটির উচ্চ প্রশংসা করে বলেছেন, এটা 'খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিবে'।

বুধবার (৩ অক্টোবর) ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল বিরেন্দার সিং ধানোয়া এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন।

সাংবাদিকদের এয়ার চিফ মার্শাল ধনোয়া জানান, 'রাফাল উপমহাদেশে আসার পরে খেলা ঘুরে যাবে, এই যুদ্ধবিমানের অনেক রকমের সক্ষমতা রয়েছে।'

ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রধান বলেন, ‘ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছে, তাতে শুধু যুদ্ধবিমান কেনা হচ্ছে না, অনেক উন্নত মানের আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাপনাও পাচ্ছে ভারত।’

পশ্চিমবঙ্গের আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, মোদী সরকারের বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের দুর্নীতির অভিযোগ তুলে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী যখন রাফাল চুক্তি নিয়ে দেশজোড়া হইচই ফেলার চেষ্টা শুরু করেছেন, ঠিক তখনই বিমানবাহিনী প্রধানের এমন একটি সাংবাদিক সম্মেলন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। রাফাল যুদ্ধবিমান এবং রাফাল চুক্তির প্রশংসায় বিমানবাহিনী প্রধান এ দিন যা বলেছেন, তা এক দিকে অনেকখানি স্বস্তি এনে দিয়েছে নরেন্দ্র মোদী, নির্মলা সীতারামনদের জন্য। অন্য দিকে, অস্বস্তি বাড়িয়েছে কংগ্রেসের।

কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী সম্প্রতি প্রশ্ন তুলেছেন, ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স (ইউপিএ) সরকারের আমলে যে দামে ফ্রান্সের কাছ থেকে রাফাল কেনার কথা হয়েছিল, তার তিন গুণ দামে নরেন্দ্র মোদী রাফাল কেন কিনছেন? রাহুলের নির্দেশে জনসভায়, পথসভায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই একই প্রশ্ন বার বার তুলছেন অন্য কংগ্রেস নেতারাও। 

ইউপিএ'র সময় ১২৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার আগ্রহ বলেছিল ভারত। কিন্তু নরেন্দ্র মোদীর সরকার আপাতত ৩৬টি রাফাল কেনার জন্য চুক্তি করেছে। ১২৬-এর বদলে কেন ৩৬? এ প্রশ্নও তুলেছে বিরোধী দলগুলি। এয়ার চিফ মার্শাল ধনোয়া বুধবার জানিয়েছেন, বিমানবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করেই ৩৬টি রাফাল কেনার চুক্তি করেছে সরকার।

উপমহাদেশের পরিস্থিতি এখন যে রকম, তাতে খুব দ্রুত ভারতীয় বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি বলে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মত। চীন-পাকিস্তানের যৌথ শক্তির মোকাবিলা যদি ভারতকে করতে হয়, তা হলে খুব দ্রুত যুদ্ধবিমানের সংখ্যা বাড়ানো দরকার বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞরা। রাশিয়ার কাছ থেকে কেনা মিগ-২১, মিগ-২৭ যুদ্ধবিমানগুলিকে যে ভাবে একের পর এক বসিয়ে দেওয়া হয়েছে বা হচ্ছে, তাতে গত কিছু বছরে বেশ দ্রুতই কমেছে ভারতের যুদ্ধবিমানের সংখ্যা।

ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধান রাফাল চুক্তিকে ‘সাহসী পদক্ষেপ’ আখ্যা দিয়েছেন। তার ব্যাখ্যা, 'আমাদের সামনে তিনটে অপশন ছিল— কিছু একটা ঘটার জন্য অপেক্ষা করা, আরএফপি (রিকোয়েস্ট ফর প্রোপোজাল) প্রত্যাহার করে নেওয়া অথবা আপদকালীন ভিত্তিতে (যুদ্ধবিমান) কেনা। আমরা আপদকালীন ভিত্তিতেই কিনলাম। রাফাল এবং এস-৪০০, দুটি চুক্তিই ভারতীয় বিমানবাহিনীর শক্তিবৃদ্ধি ঘটাবে।'

এদিকে, রাশিয়ার কাছ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ কেনার চুক্তিও প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার পথে। আগামী সপ্তাহেই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে মস্কো মঙ্গলবারই জানিয়েছে। বায়ুসেনা প্রধানের মন্তব্যে স্পষ্ট যে, এস-৪০০ কেনার চুক্তিতেও খুশি ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধান।

ব্রেকিংনিউজ/জেআই

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2