শিরোনাম:

লালমনিরহাট-১

শক্ত অবস্থানে আ.লীগ, কোন্দলে বিএনপি

নুরনবী সরকার, লালমনিরহাট
৩ অক্টোবর ২০১৮, বুধবার
প্রকাশিত: 3:16 আপডেট: 4:07
শক্ত অবস্থানে আ.লীগ, কোন্দলে বিএনপি

উত্তরের সীমান্তবর্তী পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা উপজেলা নিয়ে গঠিত লালমনিরহাট-১ সংসদীয় আসন। এ আসনে ক্ষমতার মসনদে অধিষ্ঠিত আওয়ামী লীগ শক্ত অবস্থানে থাকলেও গত নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করা বিএনপি কোন্দলে জর্জরিত রয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতার পঙ্খিরাজ ঘোড়ায় চেপে বসে বেশ শক্তিমত্তার পরিচয় দিলেও তারা অতি গোপনে আত্মতুষ্টিতে ভুগছে বলেই প্রতীয়মান হয়। নির্বাচন বিচ্ছিন্ন বিএনপি নিজেদের আরও পরিশুদ্ধ করে আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে। যে কারণে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠে গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছে।

এ আসনে স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর আবেদ আলী সংসদ সদস্য হলেও পরবর্তীতে আসনটি আওয়ামী লীগের হাতছাড়া হয়ে যায়। কিছু সময় বিএনপি ও পরবর্তীতে জাতীয় পার্টি আসনটি দখল করে নেয়। ২০০১ সালে জাতীয় পার্টির দুর্গ ভেঙে এ আসনটি আবারও আওয়ামী লীগের দখলে আনে বর্তমান সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন। দুই উপজেলার মধ্যে পাটগ্রাম উপজেলায় আওয়ামী লীগ দুই ভাগে বিভক্ত রয়েছে। একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন সংসদ সদস্য মোহাতার হোসেন । অপর অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বাবুল। তবে হাতীবান্ধা উপজেলায় আওয়ামী লীগের কোনো দলীয় কোন্দল নেই। এ উপজেলায় সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেনের অনুসারী সবাই।

বিএনপিতে পাটগ্রাম উপজেলায় কোনো দলীয় কোন্দল নেই। তবে হাতীবান্ধা বিএনপি একাধিক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন হাতীবান্ধা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন। অপর একটি গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আফজাল হোসেন।

জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসাবে পরিচিত এ আসনে এখন জাতীয় পার্টির অবস্থান নড়বড়ে। এ আসনে আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীর থেকে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশী। সরকারের জামায়াত নিধন মনোভাবের কারণে এবং মামলায় জর্জরিত হয়ে এ আসনে জামায়াতের নেতা কর্মীরা কিছুটা কোনঠাসা হয়ে পড়লেও তারা অতি গোপনে মাঠে দলীয় কাজ করে যাচ্ছে। এ আসনে ভোটের দিক থেকে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির চেয়ে জামায়াতের অবস্থান বেশ ভালো। 

লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসাবে সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন এমপি, পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বাবুল ও প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা মকবুল হোসেনের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে পরপর ৩ বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন মনোনয়নের দৌড়ে ও জনপ্রিয়তায় অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন।

এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসাবে কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা অ্যাডভোকেট মাজেদুল ইসলাম পাটোয়ারী উজ্জল ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা শাহীন আকন্দের নাম শোনা যাচ্ছে। গণসংযোগ করলেও অনেক নেতা কর্মীর অভিযোগ ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান বহিরাগত। পাশাপাশি অ্যাডভোকেট সাজেদুল ইসলাম পাটোয়ারী উজ্জলকে প্রতিনিয়ত গণসংযোগে দেখা যাচ্ছে। অ্যাডভোকেট সাজেদুল ইসলাম পাটোয়ারী উজ্জল ইতোমধ্যে এ আসনে বিএনপির নেতা-কর্মীর মাঝে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। 

জাতীয় পার্টি থেকে গণসংযোগ করছেন একমাত্র প্রার্থী এরশাদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মেজর (অব.) খালিদ আক্তার। জামায়াতে ইসলামী থেকে এরশাদ হোসেন সাজু ও আনোয়ারুল ইসলাম রাজু গণসংযোগ করছেন। 

লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন এমপি বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সারা দেশের ন্যায় লালমনিরহাটে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আমি হাতীবান্ধা-পাটগ্রামের জন প্রতিনিধি হিসাবে জাতীয় সংসদে যাওয়ার পর শেখ হাসিনার হাত ধরে এ জেলায় উন্নয়নের চিত্র পাল্টে দিয়েছি। মহাসড়ক ও রেলপথ সংস্কার করা হয়েছে। ধরলা নদীতে ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। তিস্তা নদীতে ২য় সড়ক সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদ ভবন ও থানা ভবন কমপ্লেক্সে রুপান্তর করা হয়েছে। দুই উপজেলার সকল বিদ্যালয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়েছে। আগামী দিনেও এ জেলার মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে উন্নয়ন অব্যাহত রাখবেন।’

বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা অ্যাডভোকেট সাজেদুল ইসলাম পাটোয়ারী উজ্জল বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে লালমনিরহাট জেলার মানুষ ধানের শীষে ভোট দিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবেন। আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি বেগম খালেদা জিয়াকে এ আসনে ধানের শীষের বিজয় উপহার দিতে পারবো।’ 

জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও এরশাদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মেজর (অব.) খালিদ আখতার বলেন, ‘জাতীয় পার্টি আগের চেয়ে এ জেলায় অনেক শক্তিশালী। আগামীতে আমরা আমাদের হারিয়ে যাওয়া আসনগুলো উদ্ধারে চেষ্টা করবো। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম আসনে জাতীয় পার্টির অবস্থান অনেক শক্তিশালী।’

ব্রেকিংনিউজ/এনএস/এনএসএন

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2