শিরোনাম:

আরশের ছায়ায় স্থান পাবেন যারা

ধর্ম ডেস্ক
২ অক্টোবর ২০১৮, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: 7:50 আপডেট: 7:59
আরশের ছায়ায় স্থান পাবেন যারা

মৃত্যু! প্রতিটি মানুষকেই যার স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। মৃত্যুর পরে আল্লাহর সামনে সবাইকে উপস্থিত হতে হবে। সেই মহান উপস্থিতির দিনকেই বলা হয় কেয়ামত দিবস বা বিচার দিবস। সেদিন সূর্য মানুষের মাথার উপরে থাকবে। যার ফলে অনেক পাপাচারীর মাথার মগজ টগবগ করে ফুটতে থাকবে। কিন্তু আল্লাহ তায়ালার প্রিয় বান্দা যারা, তারা থাকবে সম্পূর্ণ নিরাপদ। আল্লাহ তায়ালার আরশের নীচে ছায়া পাবে তারা। তারাই হবে সম্মানিত। এব্যাপারে আসুন জেনে নেই একটি হাদিস।

وَعَن أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ:« سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللهُ في ظِلِّهِ يَوْمَ لاَ ظِلَّ إلاَّ ظِلُّهُ: إمَامٌ عَادِلٌ، وَشَابٌّ نَشَأ في عِبَادَةِ الله تَعَالَى، وَرَجُلٌ قَلْبُهُ مُعَلَّقٌ بِالمَسَاجِدِ، وَرَجُلاَنِ تَحَابّا في اللهِ اجْتَمَعَا عَلَيهِ وتَفَرَّقَا عَلَيهِ، وَرَجُلٌ دَعَتْهُ امْرَأةٌ ذَاتُ مَنصَبٍ وَجَمَالٍ، فَقَالَ: إنِّي أخَافُ الله، وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ، فَأخْفَاهَا حَتَّى لاَ تَعْلَمَ شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِينُهُ، وَرَجُلٌ ذَكَرَ الله خَالِياً فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ ». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ .

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (স.) বলেছেন, সাত শ্রেণির মানুষকে আল্লাহ তায়ালা কেয়ামত দিবসে তার আরশের ছায়াতলে স্থান দেবেন, যেদিন তার ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না- 

১. ন্যায়পরায়ণ শাসক। অর্থাৎ এমন শাসক যিনি সততা, সত্য ও ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করেছেন। কারও ওপর জুলুম করেননি। নিজে ক্ষমতার ভুল ব্যবহার বা অপব্যবহার করেননি। কারও হক নষ্ট করেননি। আল্লাহর দেওয়া আমানত জনগণের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছিয়েছেন। স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতি বা দলপ্রীতি করেননি।

২. ওই যুবক, যার যৌবন কেটেছে আল্লাহর ইবাদতে।

৩. এমন মানুষ যার অন্তর সর্বদা মসজিদের সঙ্গে লেগে থাকে। অর্থাৎ আল্লাহর ইবাদতে এমন মনোযোগী যে, এক ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার পর পরবর্তী ওয়াক্তের জন্য অপেক্ষায় থাকে। মহান আল্লাহকে আবারও সেজদা করার জন্য উদগ্রীব থাকে।

৪. এমন দুই ব্যক্তি যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একে অপরকে ভালোবাসে। মহব্বত করে। তাদের সম্পর্কের মাঝে দুনিয়াবি কোনো স্বার্থ হাসিল করার কোনো উদ্দেশ্য নেই। আল্লাহর জন্যই পরস্পর ভালোবাসা পোষণ করে এবং এর ভিত্তিতেই তারা একত্রিত হয়। এরই কারণে পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়।

৫. এমন ব্যক্তি যাকে কোনো সুন্দরী এবং বংশমর্যাদাপূর্ণ কোনো নারী খারাপ কাজ করার জন্য তার প্রতি আহ্বান করে; কিন্তু সে বলে দেয় যে, আমি তো আল্লাহকে ভয় করি। অর্থাৎ সুযোগ থাকা সত্ত্বেও যেই পুরুষ একমাত্র আল্লাহর ভয়ে খারাপ কাজ হতে বিরত থাকে।

৬. এমন ব্যক্তি যে গোপনে দান করে এমনভাবে যে, তার বাম হাতও জানতে পারে না ডান হাত কি দান করল। অর্থাৎ সম্পূর্ণ গোপনীয়তার সঙ্গে একমাত্র আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য দান অনুদান দেয়।

৭. যে ব্যক্তি নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে, আর তার চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হয়। (বোখারি, মুসলিম)

এখানে বিশেষভাবে যুবকদের কথা উল্লেখের কারণ হলো, যুবক বয়সেই মন্দকাজের হাতছানি আসে সবচেয়ে বেশি। তাই যুবক বয়সে ইবাদতে মনোনিবেশ করতে পারা তুলনামূলক কঠিন ও তাৎপর্যপূর্ণ। আরেকটি বিষয় হলো, যারা আল্লাহর উদ্দেশ্যে একে অপরকে ভালোবেসেছে এবং তাদের বিচ্ছেদের কারণও আল্লাহর নির্দেশ মান্য করা ছাড়া অন্য কিছু নয়। সেখানে পার্থিব কোনো আকাঙ্খা ছিলো না। তাদেরকেও আল্লাহ তায়ালা ভালোবেসে তার আরশতলে স্থান দেবেন।

ব্রেকিংনিউজ/এনএসএন

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2