শিরোনাম:

গাইবান্ধায় প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

মিলন খন্দকার, গাইবান্ধা প্রতিনিধি
১ অক্টোবর ২০১৮, সোমবার
প্রকাশিত: 9:48
গাইবান্ধায় প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার গুনভরি দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহসীন আলীর বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগে জানা গেছে, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি গুনভরি দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে নিম্নমান সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর শুন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে আবেদন জমা পড়ে ১৭টি।

পরে গত ২০ মে গাইবান্ধা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদনকারীদের কাছে প্রবেশপত্র পাঠানো হয়। পরীক্ষা কেন্দ্রে এক প্রার্থীর অভিভাবকের সাথে প্রধান শিক্ষক মহসীন আলীর টাকা লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে বাক-বিতন্ডা হলে এবং তার বিভিন্ন অনিয়মের কারণে কর্তৃপক্ষ নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করেন।

পরবর্তীতে চলতি বছরের ১১ জুন পুনরায় নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষক আবেদনকারীদের কাছে প্রবেশপত্র পাঠায়।কিন্তু বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক নিম্নমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর শুন্যপদে নিয়োগ প্রদানের কথা বলে অনেকের কাছে থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। টাকা লেনদেন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতরে পরীক্ষার্থীদের সাথে প্রধান শিক্ষক এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বাকবিতান্ডা এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

ফলে কর্তৃপক্ষ পুনরায় উক্ত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করেন। পরবর্তীতে চলতি বছরের ২৬ জুলাই একই পদের জন্য পুন: নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এবার আগের পরীক্ষা কেন্দ্র পরিবর্তন করে ১৯ আগষ্ট সুন্দরগঞ্জ আব্দুল মজিদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পূর্ববর্তী ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটায় ফের কর্তৃপক্ষ নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করেন। এরপর আগামী বুধবার(৩ অক্টোবর) গাইবান্ধা সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে মর্মে আবেদন কারীদের কাছে প্রবেশপত্র পাঠানো হয়।

ভুক্তভোগীদের মধ্য ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে সাইদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘চাকরির আশায় জমি বিক্রি করে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির হাতে একযোগে সাত লাখ টাকা দেই। কিন্তু কয়েক দফায় নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার পর অমি প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সাথে যোগাযোগ করি।তখন তারা আমার কাছে আরও আট লাখ টাকা দাবি করেন। আমি তাদেরকে পুনরায় টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা অন্য কাউকে নিয়োগ প্রদান করবে বলে আমাকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরে আমি একই পদের আবেদনকারী দক্ষিন উড়িয়া এলাকার নুর হোসেনের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক, গাইবান্ধা শহরের পূর্বপাড়া (বেজিরভিটা) এলাকার মেহেদি হাসানের ছেলে সাজ্জাদুল আহসান, সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউপির কুমারপাড়া এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে হায়দার আলীসহ আরও কয়েকজনের সাথে আলোচনা করে জানতে পারি, প্রধান শিক্ষক মহসিন আলী ও সভাপতি আবুল খায়ের তাদেরকে উক্তপদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রত্যেকের কাছে থেকে দশ লাখ করে টাকা নিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, পরে আমরা সবাই মিলে  স্থানীয়ভাবে খোজ-খবর করে বিশ্বস্ত সুত্রে জানতে পারি, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহসিন আলী ও সভাপতি আবুল খায়ের পরস্পর যোগসাজসে সভাপতির ভাতিজা মধ্য উড়িয়া গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে জুয়েল রানার কাছে থেকে পনের লাখ টাকা গ্রহণ করে তাকে নিয়োগ প্রদানের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে লোক দেখানো বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষরিত গুউবি/০৩/২০১৯(৯) নম্বর স্বারকে গত ২৬ সেপ্টেম্বর পুনরায় (৪র্থ বারের মত) প্রবেশপত্র ইস্যু করেন। আগামী বুধবার (৩ অক্টোবর) গাইবান্ধা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে মর্মে উক্ত প্রবেশপত্রে  উল্লেখ রয়েছে।’

ভুক্তভোগীরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহসিন আলী ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবুল খায়েরের দূর্নীতি ও নিয়োগ বানিজ্য বন্ধে  প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ নিরপেক্ষ পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের শিক্ষামন্ত্রী,জেলা প্রশাসক,জেলা শিক্ষা অফিসারসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
  
এ বিষয়ে উড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মাহাতাব উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, ‘শুন্যপদে একজন নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আবুল খায়ের পাঁচজন প্রার্থীর কাছে থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। প্রার্থীদের মধ্য কারো কাছ থেকে দশ লাখ, কারো কাছ থেকে বার লাখ, এমনকি পনের লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক মহাসীন আলী ও সভাপতি আবুল খায়ের সাথে কথা বলতে রাজি হননি।

জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা অফিসার মো: এনায়েত হোসেন বলেন, ‘এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে ।’


ব্রেকিংনিউজ/এমকে/জেআই


Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2