শিরোনাম:

সুফিসাধক জালালউদ্দিন রুমি’র জন্মদিন আজ

ধর্ম ডেস্ক
৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, রবিবার
প্রকাশিত: 12:10 আপডেট: 1:11
সুফিসাধক জালালউদ্দিন রুমি’র জন্মদিন আজ

মাওলানা জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমি। তাকে অনেকে জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ বালখী, মাওলানা রুমি, মৌলভি রুমি নামেও জানেন। তবে রুমি নামেই বেশি জনপ্রিয় তিনি।

মহান এই মনীষীর জন্মদিন আজ। ১২০৭ খ্রিষ্টাব্দে আফগানিস্তানের বালাখে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা বাহা ওয়ালাদ ছিলেন সর্বজনবিদিত পণ্ডিত ও সুফি।

রুমি ছিলেন ১৩ শতকের একজন ফার্সি, সুন্নি, মুসলিম কবি, আইনজ্ঞ, ইসলামি ব্যক্তিত্ব, ধর্মতাত্ত্বিক, অতীন্দ্রিয়বাদী, সুফিসাধক।

তাঁরর প্রভাব দেশের সীমানা এবং জাতিগত পরিমণ্ডল ছাড়িয়ে বিশ্বদরবারে ছড়িয়ে পড়েছে; ফার্সি, তাজাকিস্তানী, তুর্কি, গ্রীক, পাস্তুন, মধ্য 
মাওলানা জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমি। তাকে অনেকে জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ বালখী, মাওলানা রুমি, মৌলভি রুমি নামেও জানেন। তবে রুমি নামেই বেশি জনপ্রিয় তিনি। রুমি ছিলেন ১৩ শতকের একজন ফার্সি, সুন্নি, মুসলিম কবি, আইনজ্ঞ, ইসলামি ব্যক্তিত্ব, ধর্মতাত্ত্বিক, অতীন্দ্রিয়বাদী, সুফিসাধক।

এই জ্ঞান তাপসের জন্ম ১২০৭ খ্রিস্টাব্দে আফগানিস্তানের খোরসানের বলখ নগরে। পিতার সূত্রে তিনি হযরত আবু বকর এবং মাতার দিক থেকে খোরাসানের শাসক খাওয়ারিজমের বংশধর। পিতা বাহাউদ্দীন ছিলেন একজন প্রখ্যাত সুফি-সাধক। তদানীন্তন শাসক গোষ্ঠীর সাথে মত বিরোধের কারণে তিনি সপরিবারে দেশ ত্যাগ করেন।

 বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ফিরে শেষপর্যন্ত ‘রুম’-এ এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। ফলে শিশু বয়স থেকেই  জালাল উদ্দীন রুমি বিচিত্র অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। বালক বয়সে তিনি ‘তাসাউফ’ - (সূফি তত্ত্বজ্ঞান)-এর শিক্ষক ফরিদউদ্দীন আত্তারের সান্নিধ্যে আসেন এবং তাঁর স্নেহধন্য লাভ করেন। স্থায়ী আবাসভূমি ‘রুম’-এর নামানুসারে তিনি ‘রুমি’ পদবী লাভ করেন। 

বিভিন্ন প্রতিকূল ও পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে রুমির জীবন অতিবাহিত হলেও তাঁর শিক্ষা-দীক্ষা বা লেখাপড়ায় কোনরূপ বিঘ্ন ঘটেনি। পিতার নিকট থেকেই তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু। তিনি তাঁর নিকট থেকে কোরআনে- তফসীর, হাদীস, ফিকহ, যুক্তিবিদ্যা, দর্শন ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান লাভ করেন। শুধু তাই নয় আধ্যাত্মিক সাধনার প্রথম পর্বটিও তাঁর নিকট থেকে প্রাপ্ত। জ্ঞানের প্রতি তাঁর অনুরাগ ছিল প্রবল ও তীব্র। প্রখর ধী-সম্পন্ন ও অসাধারণ স্মৃতিশক্তির কারণে অল্প বয়সেই তিনি জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় পারঙ্গম হয়ে উঠেন। তাঁর চব্বিশ বত্সর বয়সে পিতার মৃত্যু হয়। অতঃপর পিতার আদর্শে রূপায়িত তদীয় যোগ্যতম শিষ্য বুরহানউদ্দীন তাঁকে সুফি-তত্ত্বে দীক্ষা দেন। 

কলা, বিজ্ঞান ও অন্যান্য বিষয় শিক্ষার জন্য তিনি সিরিয়া গমন করেন এবং তথায় সাত বত্সর অধ্যয়নে নিয়োজিত থাকেন। অতঃপর নানান দেশ পরিভ্রমণ করে তিনি রুমে ফিরে আসেন। দীক্ষাগুরু বুরহানউদ্দীনের মৃত্যুর পর তিনি ‘শেখ’ উপাধিতে ভূষিত হন। পরে অধ্যাপনা, জ্ঞান চর্চা ও জ্ঞানুশীলন, গ্রন্থ রচনায় এবং আধ্যাত্মিক সাধনায় নিজেকে ব্যাপৃত রাখেন। বিভিন্ন বিষয়ে অগাধ জ্ঞান ও পান্ডিত্যের জন্য তিনি সর্বমহলে সমাদৃত হন এবং মাত্র তাঁর সুনাম সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।

তাঁর প্রভাব দেশের সীমানা এবং জাতিগত পরিমণ্ডল ছাড়িয়ে বিশ্বদরবারে ছড়িয়ে পড়েছে; ফার্সি, তাজাকিস্তানী, তুর্কি, গ্রীক, পাস্তুন, মধ্য এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার মুসলামানরা গত সাত দশক ধরে বেশ ভালভাবেই তাঁর আধ্যাত্নিক উত্তরাধিকারকে যথাযথভাবে সমাদৃত করে আসছে।

তাঁর কবিতা সারাবিশ্বে ব্যাপকভাবে বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং বিভিন্ন শ্রেণীতে রূপান্তরিত করা হয়েছে। রুমিকে যুক্তরাষ্ট্রের “সবচেয়ে জনপ্রিয় কবি” এবং “বেস্ট সেলিং পয়েট” বলা হয়।

রুমির সাহিত্যকর্ম বেশিরভাগই ফার্সি ভাষায় রচিত হলেও তিনি অনেক স্তবক তুর্কি, আরবি এবং গ্রীক ভাষায়ও রচনা করেছেন। তাঁর লেখা “মসনবী” কে ফার্সি ভাষায় লেখা সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ হিসাবে তুলনা করা হয়।

ইরান সাম্রাজ্য এবং বিশ্বের ফার্সি ভাষার লোকেরা এখনও তাঁর লেখাগুলো মূল ভাষায় ব্যাপকভাবে পড়ে থাকে। অনুবাদসমূহও খুব জনপ্রিয়, বিশেষ করে তুরস্ক, আজারবাইজান, যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ এশিয়ায়।

তাঁর কবিতা ফার্সি সাহিত্যকে প্রভাবিত করেছে, শুধু তাই নয় তুর্কি সাহিত্য, উসমানীয় তুর্কি সাহিত্য, আজারবাইজান সাহিত্য, পাঞ্জাবের কবিতা, হিন্দী সাহিত্য, উর্দু সাহিত্যকেও অনেক প্রভাবিত করেছে। 

এছাড়াও অন্যান্য ভাষার সাহিত্য যেমন তুর্কীয়, ইরানী, ইন্দো-আর্য, চাগাতাই, পাশতো এবং বাংলা সাহিত্য ও বাংলাকে প্রভাবিত করেছে।

ব্রেকিংনিউজ/এনকে

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2