শিরোনাম:

বিমানযাত্রায় সময় ও শ্রম কমাবে নতুন প্রযুক্তি

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক
২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, শনিবার
প্রকাশিত: 8:04
বিমানযাত্রায় সময় ও শ্রম কমাবে নতুন প্রযুক্তি

বিশ্বব্যাপী বাড়ছে বিমানযাত্রীর সংখ্যা। ২০১৮ সালে প্রায় সাড়ে চারশো কোটি যাত্রী বিমানযাত্রা করবেন বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। খবর বিবিসির। এই বিশাল সংখ্যক যাত্রীর যাত্রাপথের সময় কমাতে বিভিন্ন বিমানবন্দরে ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি।

চেহারা সনাক্তকরণ প্রযুক্তি - বিশ্বের সবচাইতে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলো এক্ষেত্রে সবচাইতে বেশি ব্যবহার করছে ফেইশাল রিকগনিশন বা চেহারা সনাক্তকরণ প্রযুক্তি।

যুক্তরাজ্যে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ আভ্যন্তরীণ বিমান যাত্রায় এবং যুক্তরাষ্ট্রে কিছু বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক বহির্গমনের ক্ষেত্রে চেহারা সনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে নিরাপত্তা বেষ্টনী পার হওয়ার সময় যাত্রীদের ছবি তোলা হয়। আবার বিমানে ওঠার সময় আরেকটি ছবি তোলা হয়। তারপর কম্পিউটারে সফটওয়ার দিয়ে দুটি ছবি মেলানো হয়। প্রথম ছবিটির সাথে দ্বিতীয়টি মিলে গেলেই ধরে নেয়া হচ্ছে সঠিক যাত্রী সঠিক বিমানেই উঠছেন কিনা। যুক্তরাষ্ট্রে চেক-ইনের সময় নেয়া তথ্যের সাথে তৎক্ষণাৎ মেলানো হচ্ছে ছবি, আঙুলের ছাপ, পাসপোর্ট ও ভিসার তথ্য।

ইদানিং প্রায় সবক্ষেত্রেই আঙুলের ছাপ ও ছবিসহ সকল তথ্য ডাটাবেজে চলে যায়। বোর্ডিং গেটে সফটওয়ারের মাধ্যমে সেগুলো যাচাই করে নেয়া হয়।

রাউল কুপার, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ডিজিটাল এয়ারপোর্ট নকশার ব্যবস্থাপক বলেন, এর মাধ্যমে ২৪০ যাত্রীর বিমানে চড়তে যা সময় লাগে তা প্রায় অর্ধেক করে ফেলা সম্ভব। এর ফলে ফ্লাইট সময়মত ছেড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ উন্নতি সম্ভব।

শুধু সময়ই নয়, কোনও যাত্রী সময় মতো বোর্ডিং গেটে আসতে ব্যর্থ হলে বা ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে গেলে সহজেই ক্যামেরায় ফেইশাল রিকগনিশন প্রযুক্তি দিয়ে তাকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে।

সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরেও এই চেহারা সনাক্তকরণ প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেক দেশের বিমানবন্দরে ইতিমধ্যেই চেক-ইন কাউন্টার ছাড়াই যাত্রী ও লাগেজ চেক-ইন করার ব্যবস্থা রয়েছে।

ইমিগ্রেশন ও বিমানে ওঠার সময়ও এমন ব্যবস্থায় পরীক্ষা করা হচ্ছে। সেখানে কেউ যাত্রীদের পাসপোর্ট বা ভিসা চেক করবে না। যাত্রী নিজেই কোনও একটি যন্ত্রের বারকোড দিয়ে সব করে নিতে পারবেন। 

অন্যদিকে দুবাই বিমানবন্দর নিরাপত্তা ডেস্ক এর বদলে অ্যাকুরিয়ামের মতো কাচ ঘেরা টানেল তৈরি করার পরিকল্পনা করেছে। যেখানে ৮০ টির মতো চেহারা শনাক্তকরণ ক্যামেরা বসানো থাকবে খেলনা মাছের ভেতরে। টানেলের মধ্যে দিয়ে যাত্রীদের ডিপারচার গেটের দিকে যাবার সময় ক্যামেরায় নানা দিক থেকে তাদের ছবি তোলা হবে।

সেই ছবি ডাটাবেজের পাসপোর্ট, ভিসা ও অন্য ছবির সাথে সফটওয়ার দিয়ে মিলিয়ে নেয়া হবে। এ বছরেই প্রথম টানেলটি বসানোর কথা রয়েছে।

রাউল কুপার মন্তব্য করেন, একদিন হয়ত বিমানবন্দরে একবারও পাসপোর্ট স্ক্যান করার দরকার পরবে না। চেক-ইনের সময় ব্যাগ বা পকেট থেকে সেটি বের করারই প্রয়োজনই পড়বে না।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2