শিরোনাম:

টাঙ্গাইলে প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা নয়-ছয়!

মাছুদ রানা, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, শনিবার
প্রকাশিত: 4:41
টাঙ্গাইলে প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা নয়-ছয়!

জনপ্রতিনিধিই যখন সমাজের অভিশাপ তখন সাধারণ মানুষের সমস্যা দেখবে কে। এমনটিই ঘটেছে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায়। অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মস্থান কর্মসূচী, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের কাবিখা/কাবিটা প্রকল্প ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডের নামে কোটি টাকা নয়-ছয় করার অভিযোগ উঠেছে গোপালপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হালিমুজ্জামান তালুকদারের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে একের পর এক দুর্নীতি ও বিভিন্ন প্রকল্পের নয়-ছয় করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হালিমুজ্জামান তালুকদার। ক্ষমতার জোর ও সন্ত্রাসী বাহিনী লালন-পালন করাই যার প্রধান কাজ। তার এ কার্যকলাপে ইউনিয়নবাসী রীতিমত অসহায় জীবন যাপন করছেন।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে কাবিখা/কাবিটা প্রকল্পের আওতায় মির্জাপুর ইউনিয়নে ৩৪টি প্রকল্প বাস্তবায়তন করার কথা থাকলেও তেমন একটা কাজ হয়নি বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। এ প্রকল্পের আওতায় কয়েকটি এলাকায় নাম মাত্র কাজ হলেও বেশ কিছু জায়গায় কোন কাজ হয়নি।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচী ইজিপিপি প্রকল্পের কোন নির্দিষ্ট নীতিমালা ছাড়াই দায়সারা ভাবে কাজ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় এ ইউনিয়নের ২০০জন শ্রমিক দিয়ে কাজ করার কথা থাকলেও হাতে গোনা কয়েকজনকে দিয়েই কাজ করানো হয়েছে। শরীফপুর কদ্দুসের বাড়ি হতে হবি ডিলারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের তালিকায় ভাদাইলআটা গ্রামের মৃত ফজু শেখের ছেলে মৃত মতি মিয়ার নাম রয়েছে। যিনি ১০ বছর আগে মারা গেছে। তার পরিবারের দাবি এ অর্থ বছরে যে প্রকল্পের কাজ হয়েছে সেখানে তার নামে ব্যাংক একাউন্ড হয় কিভাবে। শুধু মতি মিয়া নয় এ প্রকল্পের তালিকায় যে সকল শ্রমিকদের নাম দেওয়া হয়েছে তার অধিকাংশ শ্রমিক ও এলাকাবাসীও জানেন না এ প্রকল্পের কাজ কবে হয়েছে। 

অপরদিকে কাবিখা বিশেষ (২য় পর্যায়) ২০১৭-১৮ অর্থ বছর, টিআর বিশেষ (২য় পর্যায়) ২০১৭-১৮ অর্থ বছর এবং এলজিএসপি-২ এর ২০১৫-১৬ অর্থ বছর প্রকল্পের কাজেও নয়-ছয় হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। এছাড়াও বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য নির্ভরযোগ্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মের্সাস আল্লাহর দান এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর মো. মজনু মিয়ার কাছ থেকে বিভিন্ন মালামাল নেওয়ার যে বিল পাস করানো হয়েছে কিন্তু বাস্তবে প্রতিষ্ঠানটির কোন অস্তিত্ব গোপালপুর উপজেলায় খুজে পাওয়া যায়নি। এর মতো আরো অনেক বেনামি প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, আমাদের বাড়ির সামনে রাস্তা ঠিক হবে এটা তো সেই নির্বাচনের আগের থেকে শুনতেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত তো কোন রাস্তা ঠিক হয়নি। আর যখন কোন রাস্তা ঠিক হয়নি আর কোন দিন ঠিক হবেও না। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সে তো কখনো আমাদের এলাকায়ও আসে না। রাস্তা মেরামত তো দূরের কথা।

বীরমুক্তিযোদ্ধা হাসান আলী বলেন, ‘১৯৭১ সালের পরে আমাদের এই রাস্তায় কোন কাজও হয়নি কোন মাটিও ফেলা হয়নি। আমাদের অনেক কষ্ট করে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। এই রাস্তা খারাপ থাকার কারনে অনেক ঘুরে উপজেলা শহরে যেতে হয়। আমাদের এ রাস্তার জন্য যদি কোন প্রকল্প পাশ হয়ে থাকে তাহলে সে প্রকল্পের কাজ হয় নাই। এটা উপর থেকে পাশ হইছে আর উপর থেকেই টাকা লুট করছে। আমরা কোন প্রকল্পে কাজ দেখি নাই।’

তুলা মিয়া, রফিক, আজিজুর, কালুসহ আরো অনেকেই বলেন, ‘আমাদের এ এলাকার রাস্তা-ঘাটের জন্য কোন প্রকল্প আসে নাই। আসলেও আমরা জানি না। তবে এখানে কোন কাজ করতে আমরা দেখি নাই। দুয়েক জায়গায় কাজ করলেও তা শুধু নামে মাত্র। আর যেসকল শ্রমিকের তালিকা দেখানো হইছে তার অধিকাংশ শ্রমিক জানেই না কবে তারা কাজ করছে। চেয়ারম্যানের ভাগিনার বাড়ি থেকে স্কুল গর পর্যন্ত কিছু জায়গায় খানাখন্দ ছিল সেগুলো কোদাল দিয়ে রাস্তার পাশের জমি থেকে মাঠি কেটে রাস্তার কাজ করছে। এছাড়া আর কোন কাজ করতে দেখি নাই।’ 

অটো চালকরা বলেন, ‘আমরা নিজেরা টাকা দিয়ে মাটি কিনে খারাপ রাস্তাগুলো ঠিক করছি। চেয়ারম্যানের কাছে রাস্তা ঠিক করার জন্য বললে তিনি আমাদের বলেন তোরা নিজেরা রাস্তা ঠিক করে নে। আমি কিছু করতে পারবো না।’

গোপালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হালিমুজ্জামান তালুকদার বলেন, ‘রাস্তা-ঘাট সাধারণত এক অর্থ বছর থেকে আরেক অর্থ বছর হয়ে থাকে। আমার ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের কাজ হয়ে গেছে গত বছর। আর আমরা কোন পাকা কাজ করি নাই। আর ইউনিয়ন পরিষদের কাজ পাঁকা হয় না। রাস্তা পাকাকরণ এগুলো এলজিইডি ও সড়ক ও জনপথ এর কাজ। আমরা সাধারণত নতুন কিছু কাঁচা রাস্তা, রাস্তা পূর্ননিমাণ, খানাখন্দ ভরাট করা এগুলো করে থাকি। তো এখানে দুর্নীতি করার কোন কিছু নাই। আর আমাদের এসকল কাজ ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারদের দিয়ে হয়। আবার কিছু কাজ একটি প্রকল্প এলজিএসপি-২ এর মাধ্যমে সরকারি ভাবে অডিটের মাধ্যমে একটি কোম্পানীর আন্ডারে দেওয়া থাকে। যারা যাচাই-বাছাই করে কাজগুলো বুঝে নেয়। তো এখানে কোন দুর্নীতি হয় না বা রাস্তা কম বা বেশি করার কোন সুযোগ নাই।’

গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিকাশ বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের কিছু নীতিমালা রয়েছে। আমাদের কাছে অভিযোগ দিলে আমরা সে বিষয়ে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। কেউ চাইলেই ইচ্ছামত কাজ করতে পারবে না।’

ব্রেকিংনিউজ/এমআর/জেআই

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2