শিরোনাম:

খুলনায় পর্যটন মোটেল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ৪৭ বছর কাটলো

শেখ হেদায়েতুল্লাহ, খুলনা
২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বুধবার
প্রকাশিত: 6:09
খুলনায় পর্যটন মোটেল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ৪৭ বছর কাটলো

বিস্ময়কর ঘটনা বটে! উদ্যোগ নেওয়ার ৪৭ বছর কেটে গেছে পরিদর্শন, পরিকল্পনা, সম্ভাব্যতাসহ নানা কর্মতৎপরতায়। চলতি বছরের প্রথম দিকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধিদল পর্যটন মোটেল, ট্রেনিং সেন্টারসহ আনুসঙ্গিক স্থাপনা স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনে। এখন চলছে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ সৃষ্টি করে দরপত্র আহবান প্রক্রিয়া।

সবকিছু মিলে ধরে নেয়া যায় উদ্যোগ নেয়ার ৪৭ বছর পর পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। পর্যটন কর্পোরেশন নগরীর মুজগুন্নিতে স্বাধীনতা পরবর্তীকালে পর্যটন মোটেল ও ট্রেনিং ইন্সটিটিউট স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। যা দীর্ঘ ৪৭ বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি। এখন সিদ্ধান্ত হয়েছে, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সেখানে আন্তজার্তিকমানের ৫ তারকা মোটেল ও ট্রেনিং সেন্টারসহ পর্যটন কমপ্লেক্স নির্মাণ করবে। এ কারণে বুয়েট ( বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়) সমীক্ষার কাজ শেষ করেছে। ওই প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করেই দরপত্র আহ্বান প্রক্রিয়া শুরু করছে পর্যটন করপোরেশন।

খানজাহান আলীর (রহ.) স্মৃতিধন্য শিল্প ও বন্দর নগরী খুলনা। এখানেই বিশ্বখ্যাত ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। পর্যটন শিল্পের বিকাশেরও অপার সুযোগ। এই সুযোগ কাজে লাগাতেই ১৯৭০ সালে খুলনায় পর্যটন মোটেল ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়। এজন্য খুলনা মহানগরীর মুজগুন্নিতে হুকুম দখল করা হয় ৪ দশমিক ৮৪ একর জমি। 

খুলনা শেখ আবু নাসের আর্ন্তজাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও নেছারিয়া মাদ্রাসার মধ্যবর্তী মুজগুন্নি বাসস্ট্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশের এই জমিটি তখনকার সরকার মোটেল তৈরির জন্য হুকুম দখল করে। দেশ স্বাধীনের পর বাংলাদেশ সার্ভিসেস লি. ও বর্তমানে পর্যটন করপোরেশন এই বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। 

কেডিএ (খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) সূত্র জানায়, পর্যটন কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে মোটেল ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপন করতে ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করায় তাদেরকে সম্মতি দেয়া হয়েছে। তাদের নিজস্ব প্লানিং ও নকশা অনুযায়ী স্থাপনা তৈরি করবে। 

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ-উজ-জামান বলেন, ‘পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে প্রধান অন্তরায় হচ্ছে অবকাঠামোগত উন্নয়ন। খুলনায় পর্যটন শিল্প বিকাশের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন। সম্ভাবনাময় এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে পর্যটন করপোরেশনের নিজস্ব জায়গায় মোটেল ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউট নির্মাণ জরুরী। এটি উন্নয়ন কমিটির দাবিসমূহের মধ্যেও রয়েছে। পর্যটন করপোরেশনের জন্য নির্ধারিত জায়গায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেখানে মোটেল ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউট করা জরুরী বলে তিনি মন্তব্য করেন।’

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক (প্লানিং) খালিদ বিন মজিদ বলেন, ‘খুলনার মুজগুন্নিতে আর্ন্তজাতিকমানের ৫ তারকা মোটেল ও পর্যটন কমপ্লেক্স স্থাপনের প্রক্রিয়া প্রায় শেষের পথে। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতিও পাওয়া গেছে। মাঠ পর্যায়ে স্টাডির (সমীক্ষা) কাজ শেষ করেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়। তারা সেখানে কেমন স্থাপনা করা যেতে পারে, কত জনবল প্রয়োজন হতে পারে, তারই মাঠ পর্যায়ের জরিপ কাজ করে। তাদের দেয়া সমীক্ষা প্রতিবেদনের আলোকে দেশি- বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ সৃষ্টি করা ও এ বিষয়ৈ আকৃষ্ট করতে দরপত্র আহবানের প্রক্রিয়া চলছে।’

তিনি  বলেন, ‘এছাড়াও সুন্দরবনের সমন্বিত পর্যটনের উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি স্টাডি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় পর্যটন শিল্প সম্প্রসারিত করতে মাস্টার প্লান তৈরি করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটি বর্তমানে মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশি পর্যটন করপোরেশনের ওই জমির চারিদিকে বর্তমানে সীমানা প্রাচীর দেয়া হয়েছে। জায়গাটি দেখভাল করার জন্যে একটি গার্ড রুম তৈরি করা হয়েছে। সেখানে একজন গার্ডও রয়েছেন।’

ব্রেকিংনিউজ/এসএইচ/এনএসএন

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2