শিরোনাম:

আসল হীরা চেনার উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: 8:45
আসল হীরা চেনার উপায়
ফাইল ছবি

চকচক করলেই যেমন সোনা হয় না ঠিক তেমনই যে কোনও উজ্জ্বল-চকচকে পাথর মানেই কিন্তু হীরা নয়। তাই ডায়মন্ড কেনার সময় দুশ্চিন্তায় ভোগেন ক্রেতারা। তবে কিছু কৌশল জানা থাকলে প্রতারিত হওয়ার হাত থেকে বাঁচা যায়।

আসুন সেই কৌশলগুলো জেনে নেই:

আলোর প্রতিফলন দেখা:

আসল হীরা যেভাবে আলোর প্রতিফলন ঘটায় তা সত্যিই দারুণ। হীরাতে আলো ফেললে এর ভেতরে ধূসর ও ছাই রঙের আলোকচ্ছটা দেখা যাবে, যাকে বলা হয় ‘ব্রিলিয়ান্স’। আর বাইরের দিকে প্রতিফলিত হবে রংধনুর রঙ যাকে বলা হয় ‘ফায়ার’। কিন্তু নকল হীরার ভেতরে রংধনুর রঙ দেখতে পাওয়া যাবে। মানুষের একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে, হীরা রংধনুর রং প্রতিফলিত করে। কিন্তু হীরা প্রতিফলনে বেশিরভাগ ধূসর ভাব থাকে।

রঙ:

আমরা অনেকেই জানি না হীরার রঙের একটা তারতম্য আছে। কিছু হীরা আছে যার বর্ণ হলুদ রঙের হয়ে থাকে। যাকে ক্যানারি হীরা বলা হয়ে থাকে। তবে হীরার রঙ গোলাপি, নীল, কালো, হলুদ এমনকি বহু ব্যবহৃত বর্ণহীন হয়ে থাকে। তবে পুরোপুরি বর্ণহীন হীরাকে গ্রেডিং ‘ডি’ ‘ই’ অথবা ‘এফ’ ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে এবং প্রায় বর্ণহীন অর্থাৎ কিছুটা রঙের ছটা থাকতে পারে ‘জি’ ‘এইচ’ অথবা ‘আই’ ক্যাটাগরিতে।

স্বচ্ছতা:

একটা হীরার প্রাকৃতিক প্রবাহ নির্ভর করে তার আকার আকৃতির ওপর। সুলভ বলেন, হীরার মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে কি পরিমাণ খুঁত থাকে তা নির্ণয় করেই আকার এবং আকৃতির ওপর ১০ পাওয়ারের অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে হীরা নির্ণয় করা হয়।

ক্যারট:

১ ক্যারেট হীরা সমান ০.২ গ্রাম। এই হিসেব মাথায় রেখেই হীরার ক্যারেট বিবেচনা করা হয়। এবং এই ১ ক্যারেট হীরাকে সেন্ট হারে বিক্রি করা হয়।

ক্যারেট ভেদে হীরার দামের তারতম্য হয়ে থাকে। যেমন ধরা যায়, ২ ক্যারেটের একটা হীরার দাম দুইটা হীরার চেয়েও বেশি হতে পারে। তাই ক্যারেট ভেদে হীরার দাম সেন্টে নির্ধারিত হয়ে থাকে।

তবে হীরার মতোই যে পাথর দেখে অনেকেই হীরা ভেবে ভুল করেন তা হতে পারে- হোয়াইট টোপাজ, হোয়াইট স্যাফায়ার, কিউবিক জিরকোনিয়াম, মইসানাইট বা ল্যাব গ্রোন। তাই হীরা কিনার সময় কোন বিশেষজ্ঞ দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নিলে ভালো হয়।

নিঃশ্বাসের পরীক্ষা: 

পাথরটিতে মুখের গরম বাতাস দিন। দেখবেন সেটি ঝাপসা হয়ে পড়েছে । হীরাটি যদি নকল হয়, তবে খুব দ্রুত ঝাপসা ভাবটি চলে যাবে। কিন্তু আসল হীরার ঝাপসা ভাব কাটতে বেশ কিছুটা সময় লাগবে। কারণ আসল হীরা একেবারেই তাপ ধরে রাখে না তাই বাষ্প খুব দ্রুত উড়ে যাবে।

হীরার প্রতিসরণের বৈশিষ্ট্য: 

হীরার এত চকচকে হওয়ার কারণ হল এর প্রতিসরণের বৈশিষ্ট্য। এই পাথরটি যে পরিমাণ আলো ধরে রাখতে পারে তা কাঁচ, কোয়ার্টজ বা ত্রিকোণাকৃতি জিরকোনিয়ামও করতে পারে না। একটি আসল হীরা যদি পত্রিকার ওপর রাখেন তবে এর ভেতরে পত্রিকার কালো রংয়ের লিখার কোনো প্রতিসরণ ঘটবে না। কিন্তু হীরা যদি নকল হয় সেক্ষেত্রে তার মধ্যে কালো লেখার কোনও অক্ষর দেখা যেতে পারে।

শিরিষ কাগজ দিয়ে ঘষা: এটা খুব সহজ একটি পদ্ধতি। হীরা বিশ্বের সবচেয়ে শক্ত বস্তু। কোনও কিছু দিয়েই একে ঘষে মসৃণ করা যাবে না। কিন্তু যদি কৃত্রিম হীরা হয় তাহলে এতে শিরিষ কাগজ দিয়ে ঘষলেই তাতে দাগ পড়বে।

ব্রেকিংনিউজ/এনকে

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2