শিরোনাম:

ঘুরে আসুন আলুটিলা গুহা

পর্যটন ডেস্ক
২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: 7:45 আপডেট: 7:45
ঘুরে আসুন আলুটিলা গুহা
ফাইল ছবি

অজানা অনুভূতিকে অনুভব করতে ঘুরে আসতে পারেন খাগড়াছড়ির আলুটিলা গুহা থেকে। খাগড়াছড়ি শহর থেকে ৭ কিলোমিটার পশ্চিমে মাতিরাঙ্গা উপজেলার আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রে এর অবস্থান। স্থানীয়রা একে বলে মাতাই হাকড় বা দেবতার গুহা। 

আলুটিলা খাগড়াছড়ি জেলার সবচেয়ে উঁচু পর্বত। নামে এটি টিলা হলেও মূলত এটি একটি পর্বতশ্রেণি। আলুটিলার আগের নাম ছিল আরবারী পর্বত। এর সর্বোচ্চ উচ্চতা সমুদ্র সমতল থেকে ৩০০০ হাজার ফুট। এখান থেকে খাগড়াছড়ি শহরের বেশ কিছুটা অংশ দেখা যায়। শুধু তাই নয়, পাহাড়ের সবুজে আপনার মন জুড়িয়ে যাবে। আকাশ পাহাড় আর মেঘের মিতালী এখানে মায়াবী আবহ তৈরি করেছে। 

গুহাটির চারপাশে রয়েছে ঘন সবুজের অরণ্য। গুহাটি ভেতরে ১০০ মিটার দীর্ঘ, ১ দশমিক ৮ মিটার উঁচু এবং শূন্য দশমিক ৯ মিটার প্রশস্ত। পুরো গুহাটি অন্ধকার। গুহাটির একপাশ দিয়ে প্রবেশ করে অন্যপাশে দিয়ে বের হতে সময় লাগতে পারে ১০ থেকে ১৫ মিনিট।

আলুটিলার রহস্যময় সুড়ঙ্গে যেতে হলে প্রথমেই আপনাকে পর্যটন কেন্দ্রের টিকিট কেটে ভেতরে প্রবেশ করতে হবে। ফটকের দুই পাশে দুটি শতবর্ষী বটবৃক্ষ আপনাকে স্বাগত জানাবে। ফটক দিয়ে পর্যটন কেন্দ্রে প্রবেশের সময় আপনাকে মশাল সংগ্রহ করতে হবে। কারণ রহস্যময় গুহাটিতে একেবারেই সূর্যের আলো প্রবেশ করে না। 

পর্যটন কেন্দ্রের ফটক দিয়ে প্রবেশ করে ডান পাশের রাস্তা দিয়ে মিনিট খানেক হাঁটলেই চোখে পড়বে একটি সরু পাহাড়ি পথ। পাহাড়ে ঢাল বেয়ে নিচে নেমে গেছে এ পথটি। এ পথটি বেয়ে নিচে নামলেই আপনার জন্য অপেক্ষা করছে প্রথম চমকটি। হঠাৎ চোখে পড়বে একটি ছোট ঝর্ণা। ঝর্ণার পানি নেমে যাচ্ছে নিচের দিকে ঝিরি বরাবর। তবে এখানে পাহাড়ি লোকজন ঝর্ণার পানি আটকে রাখার জন্য একটি বাঁধ দিয়েছে। তারা এ পানি খাবার ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করে।

আর ফটক থেকে বাম দিকের রাস্তা বরাবর হাঁটলে পাবেন রহস্যময় সেই গুহা। গুহাতে যাওয়ার আগে আপনি পাবেন একটি বিশ্রামাগার ও ওয়াচ টাওয়ার। এর সামনে দিয়ে রাস্তা চলে গেছে আলুটিলার গুহামুখে। আগে পাহাড়ের ঢাল বেঁয়ে নামতে হতো গুহামুখে। কিন্তু এখন পর্যটন কর্পোরেশন একটি পাকা রাস্তা করে দিয়েছে। ফলে খুব সহজেই হেঁটে যাওয়া যায় গুহামুখে।

পাকা রাস্তা শেষ হলে আপনাকে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে হবে। প্রায় ৩৫০টি সিঁড়ি বেয়ে নামলে পরে পাওয়া যাবে কাঙ্ক্ষিত সেই গুহা, আলুটিলা গুহা। গুহাটি খুবই অন্ধকার ও শীতল। কোনো প্রকার সূর্যের আলো প্রবেশ করে না তাই মশাল নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। একেবারেই পাথুরে গুহা এটি। 

সাবধানতা:

১. গুহাটি অন্ধকার এবং চলার পথ উঁচু-নিচু। সুতরাং সাবধানে হাঁটবেন। তবে ভয় নেই, গুহাটি পিচ্ছিল নয়। এখানে কোনো জন্তু-জানোয়ার নেই।

২. একা একা প্রবেশ না করে দলের সঙ্গে প্রবেশ করুন।

৩. একের অধিক মশাল রাখুন। সঙ্গে যাতে একটি নিভে গেলে আরেকটি জ্বালাতে পারেন।

৪. গুহাটি কোথাও উঁচু, কোথাও নিচু। সুতরাং সাবধানে দেখে চলুন।

৫. বন্ধুদের নিয়ে গুহার ভেতর হৈ-হুল্লোড় না করাটাই ভালো।

৬. গুহাটির ভেতর প্রবেশের সময় সঙ্গে ভারী কিছু রাখবেন না। এতে আপনার চলতে সুবিধা হবে।

৭. মোবাইল ও টাকা সাবধানে রাখুন। নিচে পড়ে যাতে ভিজে না যায়।

৮. গুহার ভেতর কিছু ফেলা থেকে বিরত থাকুন। এতে এর পরিবেশ নষ্ট হতে পারে বা অন্যদের চলাচলে অসুবিধা হতে পারে।

কীভাবে যাবেন:

গুহাটি দেখতে হলে আপনাকে প্রথমে যেতে হবে খাগড়াছড়ি সদরে। ঢাকা থেকে শ্যামলী, হানিফ, সৌদিয়া, রিফাতসহ অসংখ্য বাস প্রতিদিন খাগড়াছড়ি যাতায়াত করে। আপনি যদি রাত ১০টা বা তার পর বাসে চড়ে বসেন, তাহলে পরদিন ভোর ৬টার মধ্যে আপনি খাগড়াছড়ি পৌঁছে যাবেন। সকালের নাশতা সেরে রওনা হয়ে যান দর্শনীয় স্থানটি দেখতে। 

আপনি শান্তি পরিবহনের বাসস্ট্যান্ড থেকে অথবা শাপলা মোড় থেকে আলুটিলা যাওয়ার অনেক গাড়ি পাবেন। তবে মনে রাখবেন, সব ধরনের গাড়ি পাহাড়ি রাস্তা বেয়ে ওপরে উঠতে পারে না। তবে এখানে একধরনের অটোজাতীয় গাড়ি পাওয়া যায়, যেগুলোতে চড়ে আপনি সহজেই চলে যেতে পারেন আলুটিলা গুহায়। সে ক্ষেত্রে পুরো গাড়িটি আপডাউনসহ ভাড়া পড়বে আটশ থেকে হাজার টাকা। 

খাগড়াছড়ি সদর থেকে আলুটিলা পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে ৪০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা। গুহাটি এবং তার চারপাশ দেখতে প্রবেশ গেটে আপনাকে টিকেট কাটতে হবে। প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ২০ টাকা।

ব্রেকিংনিউজ/এনকে

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2