শিরোনাম:

সুন্দরবনে হরিণ শিকারিদের দৌরাত্ম্য বাড়ছেই

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, সোমবার
প্রকাশিত: 10:41
সুন্দরবনে হরিণ শিকারিদের দৌরাত্ম্য বাড়ছেই

সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে হরিণ শিকারিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রবাদে আছে, বাঘের লাফ বিশ হাত আর হরিণের লাফ একুশ হাত। কিন্তু বাস্তবে সুন্দরবনে হরিণ বাঘের থাবা ও সুন্দরবনের বনদস্যুদের হাত থেকে রক্ষা পেলেও চিহ্নিত  হরিণ শিকারিদের ফাঁদ ও বন্দুকের গুলি থেকে রেহাই পাচ্ছে না।

বনবিভাগ ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে সুন্দরবনে গহীনে গত ৯ জুলাই ৩টি মৃত হরিণ, একনলা লাইসেন্সধারী ৩টি বন্দুক, একটি নৌকা ও ২ জন হরিণ শিকারিকে আটক করলেও প্রকৃত শিকারিরা রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সুন্দরবনে বনদস্যু অনেকটা কমে গেলেও হরিণ শিকারিদের এই চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ, কৈখালী ভেটখালী, যতীন্দ্র নগর, মরাগাংসহ  ইউনিয়নের গ্রাম গুলোতে প্রতিনিয়ত বিক্রি হচ্ছে হরিণের মাংস। দিন দিন এই প্রবণতা বেড়েই চলেছে। তবে বনবিভাগের দাবী শিকারিদের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়রা বলছে, ভোজন বিলাসী মানুষের কাছে হরিণের মাংস ব্যাপক কদর রয়েছে। এ কারণে ৫ থেকে ৬ শত টাকা কেজি দরে কিনতে করতে তারা দ্বিধাবোধ করেন না।  হরিণচোরা শিকারি ও মাংস ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রশাসনের কাছে থাকলেও সেসব শিকারি ও ব্যাবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। 

এসব শিকারি ও মাংস ব্যবসায়ীরা বিশেষ করে বনবিভাগ ও থানা প্রশাসনের ম্যানেজ করে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আর এসব কারণে প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করে।

এদিকে সচেতন মহলের অভিযোগ, বনবিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা উৎকোচের মাধ্যমে সুন্দরবনে নিষিদ্ধ অভয় অরণ্যে এলাকায় চোরা শিকারিদের ও জেলে বাওয়ালিদের সুযোগ করে দেয়ায় সুন্দরবন আজ ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোটিপতি চিংড়ি ঘের ব্যবসায়ী সাত্তার মোড়ল সুন্দরবনের হরিণ শিকারিদের গডফাদার। প্রায় তিনি তার নিজস্ব ট্রলার নিয়ে সুন্দরবনের ভেতর হরিণ শিকার করতে বের হন। শিকারিরা আটক হলে তাদেরকে ছাড়িয়ে আনার সব দায়িত্ব নেন এই সাত্তার মোড়ল। 

এসব বিষয়ে সাতক্ষীরা রেঞ্জ কর্মকর্তা জি,এম রফিক আহম্মেদ বলেন, বনবিভাগের পক্ষ থেকে কেউ কোন উৎকোচ নেয় না। যদি এরকম কোন সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুন্দরবনে টহল জোরদার করা হয়েছে, যাতে হরিণ শিকারিরা পার পেয়ে যেতে না পারে। 

শ্যামনগর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ মান্নান আলী জানান, সুন্দরবনে বনদস্যুদের ধরার জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উৎকোচ গ্রহণের বিষয়টি সঠিক নয়। 

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2