শিরোনাম:

ঘাটাইলে ড্রাগন ফল চাষে সাফল্য

খাদেমুল ইসলাম মামুন, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, সোমবার
প্রকাশিত: 2:18
ঘাটাইলে ড্রাগন ফল চাষে সাফল্য

ঔষধি গুণে ভরপুর বিদেশি এক ফলের নাম ড্রাগন ফল। ক্যান্সার থেকে শুরু করে ডায়াবেটিসসহ নানা রোগের মহাঔষধ হিসেবি ব্যবহার হয় এটি। এ ফল দেখতে যেমন লোভনীয় খেতেও তেমন সুস্বাদু। ঔষধিগুণে গুণান্বিত, রসালো এবং মুখরোচক এই ড্রাগন ফল বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে লাভবান হয়েছেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মিনহাজ মিয়া।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নের ফুলমালীর চালা গ্রামের মিনহাজ মিয়া নিজ উদ্যোগে তৈরি করেছেন ভিয়েতনামের ড্রাগন ফলের বাগান। দীর্ঘদিনের ইচ্ছা শক্তি থেকেই তিনি প্রায় তিন বছর আগে ৩০০ শতাংশ জমির উপর এই ফলের বাগান তৈরি করেন।

তার বাগানে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি ড্রাগন ফলের গাছে শোভা পাচ্ছে বিদেশি এই ফল। ফলটি পাকার পর অত্যন্ত মিষ্টি ও সুস্বাদু হয়। ক্যান্সার ও ডায়বেটিস সহ বিভিন্ন রোগের জন্য অত্যন্ত উপকারী এই ফল। মিনহাজ মিয়ার তিন একর বাগানে তেরোশ ৪০ টি ড্রাগন ফলের গাছ রয়েছে। প্রায় সব গাছেই ফল এসেছে। গত বছর তিনি প্রতি কেজি ড্রাগন ফল বিক্রি করেছেন ৩ থেকে ৪ শত টাকা। চলতি বছরে তিনি সাড়ে তিন হাজার কেজি ড্রাগন ফল বিক্রি করেছেন। যার থেকে দাম পেয়েছেন প্রায় ১২ লাখ টাকা। তিনি আশা করেন আগামী বছর তার বাগার থেকে প্রায় ১০ হাজার কেজি ড্রাগন ফল বিক্রি করবেন। এভাবে ৩০ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত ফল আসতে থাকবে বলে তিনি জানান।

মিনহাজ মিয়া আরো বলেন, ‘এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি ভেষজ ফল। আমি অন্যান্য কৃষি কাজের পাশাপাশা এই ফল বাগানের পরিচর্যা করে থাকি। এই ফল এখন অত্যন্ত লাভজনক ফসলে পরিণত হয়েছে। আমার এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন লোকজন আসে ড্রাগন ফলের বাগান দেখতে।’

ড্রাগন ফলের গাছ মূলত কাণ্ড থেকে হয়। এই ফল চাষ করার জন্য অতিরিক্ত কোনও রাসায়নিক সার বা কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না। শুধু মাত্র জৈব সারই যথেষ্ট। গাছ লাগানোর প্রায় ছয় মাস পর থেকে ফল আসতে শুরু করে এবং ফলের বয়স ৩০-৩৫ দিনের মধ্যে খাওয়ার উপযোগী হয়।

বর্তমানে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ায় এ ফল বেশ জনপ্রিয় খাবার হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশের স্বপ্ন, ডেইলি নিডস, আগোরাসহ অনেক বড় বড় শপিংমল বাগান থেকেই পাইকারী দরে এই ফল কিনে নেন।

ঘাটাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মতিন বিশ্বাস বলেন, ‘উপজেলার একজন আদর্শ কৃষক মিনহাজ মিয়া। তিনিই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে ঘাটাইলে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করেন। তাছাড়া পাহাড়ি এলাকার মাটি ড্রাগল ফল চাষের জন্য যথেষ্ট উপযোগী। আমরা সবসময় মিনহাজ মিয়াকে বিজ্ঞানসম্মত ভাবে পরামর্শ দিয়ে সহযোগীতা করে আসছি।’

ব্রেকিংনিউজ/এনএসএন

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2