শিরোনাম:

ফরিদপুরে জাফরুল্লাহ-নিক্সন সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত এড়াতে ১৪৪ ধারা

ফরিদপুর প্রতিনিধি
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, শনিবার
প্রকাশিত: 3:45
ফরিদপুরে জাফরুল্লাহ-নিক্সন সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত এড়াতে ১৪৪ ধারা

একই সময়ে পাশাপাশি জায়গায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সমাবেশ ডাকায় ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার কিছু অংশে ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র সাংসদ মজিবুর রহমান ওরফে নিক্সন চৌধুরী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাবেক সাংসদ কাজী জাফরউল্লাহর সমর্থকদের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত এড়াতে এ উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এলাকায় মাইকিং করে এ ১৪৪ ধারা জারির ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই ঘোষণায় বলা হয়, উপজেলা সদরের হাজিডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল নয়টা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ওই সময়ে ওই এলাকায় কোনো মিছিল, মিটিং, সমাবেশ আয়োজন করা যাবে না এবং চারজনের অতিরিক্ত লোক একসঙ্গে জড়ো হতে পারবে না।

এলাকাবাসী জানা, শনিবার বেলা তিনটার দিকে হাজিডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কিছু ব্যক্তির সাংসদের সঙ্গে যোগ দেওয়া উপলক্ষে এক জনসভার আয়োজন করেন স্বতন্ত্র সাংসদের সমর্থকেরা। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে থাকার কথা ছিল স্বতন্ত্র সাংসদ নিক্সন চৌধুরীর।

এদিকে, জনসভার ওই জায়গা কাজী জাফরউল্লাহর সমর্থক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাওসার হোসেনে বাড়ির কাছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের বাড়িতে উপজেলা আওয়ামী লীগের এক কর্মিসভা আহ্বান করে মাইক দিয়ে প্রচার শুরু হয়।

জাফরুল্লাহ ও নিক্সন চৌধুরীর পৃথক সমাবেশ স্থলের দূরত্ব মাত্র দেড়শ গজ। আর এতে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এরই প্রেক্ষাপটে ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন।

ফরিদপুর-৪ আসনের দুই উপদলের এ দুটি সমাবেশ সফল করার জন্য সার্বিক প্রস্তুতি নেয় দুই পক্ষই। স্কুলমাঠে জনসভা উপলক্ষে মঞ্চ ও তোরণ নির্মাণ করা হয়। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের সম্পাদকের বাড়িতে তাঁবু টানিয়ে চেয়ার পাতার কাজও সম্পন্ন হয়।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির সমাবেশ আয়োজন করা ক্ষোভ প্রকাশ করেন  স্বতন্ত্র সাংসদের সমর্থক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আলী মোল্লা।  তিনি বলেন, ‘স্বতন্ত্র সাংসদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাদের যোগদান অনুষ্ঠান বানচাল করার জন্যই দলের সাধারণ সম্পাদক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সভাস্থলের নিকটবর্তী নিজ বাড়িতে উপজেলা আওয়ামী লীগের কর্মিসভা আহ্বান করেছেন’ 

অন্যদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. কাওসার বলেন, ‘যে স্কুলের মাঠে সাংসদের সভা আয়োজন করা হয়েছে, সেটি আমার বাড়ির মধ্যে অবস্থিত। ওই স্কুল আমার বাবা করেছেন। ওই স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আমার ভাই। স্কুলের মাঠ বলে কিছু নেই। যা আছে তা আমাদের বাড়িরই অংশ। আমার বাড়ির ওপরে যদি তিনি মিটিং না ডাকতেন, তাহলে কোনো সমস্যা ছিল না। উনি এমপি হিসেবে আমার এলাকায়, আমার বাড়িতে আসতেই পারেন, কিন্তু আমার বাড়িতে কেন জনসভা করবেন?’

চরভদ্রাসনের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুন্নাহার বলেন, ‘একই সময়ে দুটি পরস্পরবিরোধী দলের প্রায় স্বল্প দূরত্বে সমাবেশ আয়োজন করায় শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট হতে পারে—এ শঙ্কায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য,  ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন নিয়ে ফরিদপুর-৪ সংসদীয় আসন গঠিত। ২০১৪ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাংসদ নির্বাচিত হন মবিবুর রহমান ওরফে নিক্সন চৌধুরী। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে হেরে যান আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাবেক সাংসদ কাজী জাফরউল্লাহ। এরপর থেকে এই তিন উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা কাজী জাফরউল্লাহ ও নিক্সন চৌধুরী এই দুই দলে বিভক্ত হয়ে পড়েন।

ব্রেকিংনিউজ/জেআই 
 

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2