শিরোনাম:

ঝালকাঠির পেয়ারায় অপার সম্ভাবনা, নেই সংরক্ষণের ব্যবস্থা

মো. নজরুল ইসলাম, ঝালকাঠি প্রতিনিধি
১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: 7:04
ঝালকাঠির পেয়ারায় অপার সম্ভাবনা, নেই সংরক্ষণের ব্যবস্থা

পেয়ার জন্য ঝালকাঠির সুনাম দেশজুগে। প্রচুর পরিমাণ পেয়ারার চাষ হয় জেলাটিতে। উৎপাদন অনেক হলেও অনেক সময় বাজারজাত করতে না পারলে সংরক্ষণ করার দরকার পড়ে ফলটির। কিন্তু পেয়ারা সংরক্ষণের কোনও ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন জেলার পেয়ারা চাষিরা। পচনশীল এ ফসলটি পাকার দুই একদিনের মধ্যে বিক্রি করতে না পারলে পঁচে যায়। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষকরা।

পেয়ারা বাগান সমৃদ্ধ এই অঞ্চলে হিমাগার অথবা জ্যাম জেলির কারখানা স্থাপিত হলে এ ফসলটি থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞদের ধারনা। এতে এ অঞ্চলের বেকার সমস্যার পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তি আসতে বলে জানিয়েছেন এলাকার পেয়ারা চাষীরা।

জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, ঝালকাঠি সদর উপজেলার ভিমরুলী গ্রামে একটি হিমাগার স্থাপনে সম্ভব্যতা যাচাই চলছে। বাংলাদেশে প্রায় সারা বছরই বিভিন্ন ধরনের ফলের চাষ করা হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন ফলমূলের মধ্যে অন্যতম ফল হচ্ছে পেয়ারা। পেয়ারা একটি গ্রীষ্মকালীন ফল। পেয়ারার ইংরেজি নাম Guava ও বৈজ্ঞানিক নাম Pisidium guajava। 

পেয়ারা একটি পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও ঔষধি গুণসম্পন্ন ফল এবং এতে প্রচুর ভিটামিন-সি আছে। ফল হিসেবে খাওয়ার পাশাপাশি পেয়ারা দিয়ে জেলি, জ্যাম ও জুস তৈরি করা হয়ে থাকে। বরিশালের বানারীপাড়া, পিরোজপুরের স্বরুপকাঠি উপজেলার আটঘর-কুরিয়ানা এবং ঝালকাঠি সদর উপজেলার কৃর্ত্তিপাশা ও নবগ্রাম ইউনিয়নজুড়ে রয়েছে দেশ তথা উপমহাদের বৃহত্তম পেয়ারার বাগান। স্বরুপকাঠি জাত হিসেবে পরিচিত স্থানীয়ভাবে গৈায়া নামে পরিচিত এ ফসলটি। সুমিষ্ট এ ফলটিকে বাংলার আপেল নামেও অভিহিত করা হয়। প্রায় ৩০০ বছর ধরে এ অঞ্চলে পেয়ারা আবাদ হয়ে আসছে।  ভারতের গয়া থেকে এই ফলটি প্রথম এ অঞ্চলে এসেছে বলে পেয়ারা চাষীদের মধ্যে প্রচলিত রয়েছে। 

পেয়ারা বাগানের বেশীরভাগ এলাকা ঝালকাঠির সদর উপজেলার মধ্যে অবস্থিত। এ কারণে এ ফলটি ঝালকাঠির ব্রান্ডিং পণ্য হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি লাভ করেছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্তিপাশা ইউনিয়নের ২০টি গ্রামে ৫০০ হেক্টর জমিতে পেয়ারার চাষ হচ্ছে।
পেয়ারা বাগান এলাকায় প্রায় ১৫-২০টি ভাসমান বাজার রয়েছে। এসব হাটের মধ্যে ঝালকাঠি সদর উপজেলার ভীমরুলি হাটটি বৃহত্তম।

ঝালকাঠির ডুমুরিয়া ও ভীমরুলী পেয়ারা বাগানের চাষি ভবেন্দ্রনাথ মিস্ত্রী, সুজন বেপারী, সুনিল মজুমাদার, বাবুল বেপারীসহ অনেক চাষির সাথে আলাপকালে জানা যায়, পানির ওপর ভাসমান পেয়ারা হাটকে কেন্দ্র করে পর্যাটকদের মিলনমেলা বসে ঝালকাঠির ভীমরুলি হাটে।

প্রকৃতির এই নৈসর্গিক রূপ দর্শনে প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের আগমন ঘটে। নজরে পড়েছে বিদেশিদের কাছেও। তবে পর্যটনের কোনও সুযোগ সুবিধাই গড়ে না ওঠায় ভ্রমণ পিপাসুদের মুখে শোনা যায় হতাশার কথা।

সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দ এসেছে জানিয়ে ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, পর্যটকদের জন্য বিশ্রামাগারসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দিতে খুব শীঘ্রই কাজ শুরু করা হবে। কিন্তু পদ্ধতিগত সমস্য থাকায় এ ফলের হিমাগারে রাখার ব্যবস্থা নেই বলে জানিয়েছেন কৃষিবিদরা। 

বাগান থেকে ছোট ছোট নৌকায় পেয়ারা তুলে ভাসমান বাজারে আনে কৃষকরা। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও নৌ পথে পেয়ারা প্যাকেটজাত করে পাইকাররা নিয়ে যায়। 

এ অঞ্চলে হিমাগার অথবা জ্যাম-জেলির কারখানা না থাকায় বাগানেই প্রচুর পরিমাণ পেয়ারা নষ্ট হয়ে যায় বলে কয়েকজন পেয়ারা চাষী জানিয়েছেন। ঝালকাঠির ভীমরুলী গ্রামে একটি হিমাগার ও জ্যাম-জেলি কারখানা স্থাপিত হলে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবে। 

জ্যাম-জেলি সুস্বাদু খাবার হিসেবে আমাদের দেশে পরিচিত। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে সকালের নাস্তায় রুটির সাথে জ্যাম-জেলি খাওয়া অনেকের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

শ্রাবণ ও ভাদ্র মাস জুড়ে পেয়ারা মৌসুমে ভীমরুলির খালের ভাসমান হাটে কোটি কোটি টাকার পেয়ারা কেনা বেচা হয়। এখান থেকেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নদী ও সড়ক পথে দেশি জাতের সুস্বাদু এ পেয়ারার চালান যাচ্ছে। আর প্রকৃতির মনোরম পরিবেশে গড়ে ওঠা এ জলের হাটের দৃশ্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্তের হাজারো পর্যটক এখন প্রতিদিন ভিড় করছেন এ পেয়ারা হাটে। কিন্তু তাড়াহুড়ো করেই দুপুরের মধ্যেই হাট থেকে পর্যটকদের বিদায় নিতে হয়। এত বছরেও সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে পর্যটকদের জন্য এখানে বিশ্রামাগারসহ কোনও সুযোগ সুবিধাই তৈরি হয়নি। থাকা খাওয়ায়ও নেই কোনও সুব্যবস্থা। ফলে নারী পর্যটকরা একটু বেশিই বিপাকে পড়েন। পর্যটনে কোনও প্রশাসনিক নীতিমালাও গড়ে ওঠেনি।

ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক জানান, ‘পর্যটকদের সুব্যবস্থা দিতে কয়েক বছর ধরে চেষ্টা চালানোর পর পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে আর্থিক বরাদ্দ এসেছে। আর সেই বরাদ্দে পর্যটকদের জন্য একটি বিশ্রামাগারসহ বাথরুম-টয়লেট নির্মাণের কাজ খুব শীঘ্রই শুরু করা হবে।’

অপরদিকে ঝালকাঠি জেলার ব্রান্ডিং হিসেবেও পেয়ারা চাষি ও দেশিয় জাতের এ পেয়ার মান উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেয়ারও কথা জানালেন তিনি।

ব্রেকিংনিউজ/এমএনআই/এনএসএন

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2