শিরোনাম:

ভাঙ্গন আতংকে রাজারহাটের তিস্তা পাড়ের মানুষ

প্রহলাদ মন্ডল সৈকত, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: 3:27
ভাঙ্গন আতংকে রাজারহাটের তিস্তা পাড়ের মানুষ

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা নদীর ভাঙ্গন আতংকে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ৩টি ইউনিয়নের কয়েক শত মানুষ। গত সপ্তাহে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার তিস্তা নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে প্রায় শতাধিক পরিবারের ঘর-বাড়িসহ শতাধিক হেক্টর ফসলি জমি।

ফলে তিস্তা নদীর পাড়ের সহস্রাধিক মানুষ ঘরবাড়ি বিলীনের আতংকে দিনাতিপাত করছেন। উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের মন্দির পাড়ামৌলা গ্রামের বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ, ঘড়িয়ালডাঙ্গা খিতাব খাঁ বুড়ির হাট বাঁধ হুমকির মধ্যে রয়েছে।

এছাড়া নাজিমখান ইউনিয়নের রতিদেব গ্রামের ফসলি জমি ও অর্ধশতাধিক পরিবারের ঘর-বাড়ী তিস্তা নদী গর্ভে বিলীনের পথে। এসব এলাকায় স্পার বাঁধে গ্রোয়েন বাঁধ দেয়া না হলে কিছুতেই ভাঙ্গন ঠেকানো যাবে না।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি লাভলু মিয়া ও খোরশেদ আলম জানান, ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কুড়িগ্রাম পাউবো বিভাগ নদী ভাঙ্গন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়বে বেড়িবাঁধ ও ক্রসবাঁধ। বাধ্য হয়ে তিস্তা পাড়ের মানুষজন বালুর বস্তা দিয়ে ভাঙ্গন ঠেকানোর চেষ্টা করছে।’

ভাঙ্গন আতংকে থাকা গৃহবধু রাবেয়া ও আম্বিয়া বেগম জানান, ‘আমাগো জায়গা তিস্তা নদী গ্রাস করছে। এবারে ৩বিঘা জমির আমন ধান করেছি তাও খায়া গ্যাছে।’

তিস্তায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক আনছার আলী (৫৪), দুলাল (৪৬), আষাঢু (৪৫), চিনুনাথ (৪৯), সামাঢু (৪৫) বলেন, এই এলাকায় প্রায় ৩ শতাধিক মানুষ আতংকে রয়েছে। এই নদী শাসনের ব্যবস্থা না করা হলে শুধু আমরা না তিস্তা রক্ষা বেরিবাঁধ ভেঙে রাজারহাট শহর পানিতে ডুবে যেতে পারে।

এ ব্যাপারে বিদ্যানন্দ ইউপি চেয়ারম্যান মো. তাইজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বিষটি পাউবোর কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। নদী ভাঙ্গন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়বে তিস্তা পাড়ের মানুষ ও তিস্তা রক্ষা বাঁধ।’

মঙ্গলবার কুড়িগ্রাম পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে বালু ভর্তি বস্তা ফেলে ভাঙ্গন রোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

এ ব্যাপারে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহ. রাশেদুল হক প্রধান বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকদের সঙ্গে সমন্বয় করে ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ব্রেকিংনিউজ/এনএসএন


Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2