শিরোনাম:

চুয়াডাঙ্গায় শিমের বাম্পার ফলন, ভাল দামে খুশি কৃষকরা

শামসুজ্জোহা পলাশ, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, শনিবার
প্রকাশিত: 4:38 আপডেট: 5:53
চুয়াডাঙ্গায় শিমের বাম্পার ফলন, ভাল দামে খুশি কৃষকরা

চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন মাঠে আগাম হাইব্রিড জাতের শিমের আবাদ করেছে কৃষকরা। পরিবেশ অনুকূল থাকায় ফলন হয়েছে ভাল সেই সাথে বাজারে শিমের দামও বেশ ভাল। ফলে শিম চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন চুয়াডাঙ্গার অনেক কৃষক। স্বল্প সময়ে টাকার মুখ দেখতে পাওয়ায় দীর্ঘ মেয়াদী অর্থকরী ফসলের চাষাবাদের চেয়ে সবজি আবাদের দিকে ঝুকছে চাষিরা।

চুয়াডাঙ্গায় মোট জমির পরিমাণ ৯৭ হাজার ৫৮২ হেক্টর। এর মধ্যে আবাদ যোগ্য জমির পরিমাণ ৭ হাজার হেক্টর। জেলাতে ভুট্টা আবাদের পরপরই সবজি আবাদ বেশি হয়ে থাকে। আবহাওয়া তুলনামূলক অনুকূল এবং উচু সমতল জমি হওয়ায় জমিগুলো সবজি চাষের উপযোগী। তাই প্রতিবছর কোনো না কোনো প্রকার আগাম সবজির চাষ করে থাকে জেলার কৃষকেরা। চলতি মৌসুমে (২০১৭-১৮ অর্থ বছরে) ৭৬৭ হেক্টর জমিতে আগাম হাইব্রিড জাতের শিম চাষ করেছে চাষিরা। এর মধ্যে আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৭৫ হেক্টর, দামুড়হুদা উপজেলায় ৩৫২ হেক্টর, জীননগর উপজেলায় ১২৫ হেক্টর এবং সদর উপজেলায় ২১৫ হেক্টর জমি।

চলতি বছর বৃষ্টিপাত থেমে থেমে হওয়ায় অসময়ে শিমের আবাদ বেশ ভালো হয়েছে। ফলে অনুকূল আবহাওয়ায় ফলন যেমন বেশি তেমনই বাজার দর ভালো থাকায় শিম চাষিরা বেশ লাভবান হয়েছেন। অপর দিকে স্বল্প সময়ে সবজি বিক্রি করে টাকার মুখ দেখতে পাওয়ায় এ শিমের চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। গ্রামের মাঠে দিকে তাকালে দেখা যায় আবাদযোগ্য জমিজুড়ে শিম আর শিমের মাচা। মাটি থেকে সর্বোচ্চ ৪-৫ ফুট উচু বাঁশের মাচা তৈরি করে আবাদ করা হয়েছে উচ্চ ফলনশিল শিম। 

সদর উপজেলার দোস্ত গ্রামের শিমচাষি আবু হানিফ জানালেন, ‘কয়েক বছর ধরে শিম চাষ করে আসছি। বর্তমানে আড়াই বিঘা জমি শিমচাষ করেছি। এ আবহাওয়ায় শিমের ফলন যেমন ভালো হয়েছে তেমনই বাজার দরও বেশ ভালো। আমার দেখাদেখি অন্যান্য কৃষকরা আগ্রহ হয়ে শিম চাষ করেছে। প্রথমে অল্প অল্প জমিতে শিম চাষ করতে করতে চাষিরা এখন ব্যাপক হারে শিম আবাদ করেছে। প্রতিবছর শিম বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা আয় করছে চাষিরা।’

তিরি আরও জানান, ‘ আশা করছি বিঘাপ্রতি ১ লাখ টাকা করে শিম বিক্রি করতে পারবো। এরই মধ্যে কয়েক মণ শিম বিক্রি করেছি। শেষ পর্যন্ত এ পরিস্থিতি থাকলে আড়াই বিঘা জমিতে কমপক্ষে আড়াই থেকে ৩ লাখ টাকার শিম বিক্রি করতে পারবো বলে আশা রাখছি। আমার মতো যারা এসময়ে শিমচাষ করেছে তারা প্রত্যেকেই লাভবান হবে।’

শিমচাষি মনু মিয়া, এনাফ বিশ্বাস, আবু হানিফ, বোরহান, আমিরুল, মালেক মেম্বার, ফারুক, চান্দু, কাশেম, মালেক বিশ্বাস, মনির হোসেন, শুকুর আলীসহ বেশ কিছু কৃষক শিম চাষ করে বদলে নিয়েছে নিজেদের ভাগ্য।

কৃষকরা জানান, তারা তাদের এ চাষ করতে হাতে কলমে কোনো প্রশিক্ষণ পাননি। নিজ উদ্যোগে এ চাষ করছেন। বর্তমানে শিম চাষের নানা উপকরণের দাম বৃদ্দি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় কিছুটা বেশি। বীজ লাগানোর পর থেকে এক বিঘা জমিতে শিম চাষ করতে বীজ, সার, বাঁশ, তার, শ্রমিক, সেচ ধরে খরচ হয় ১৮-২০ হাজার টাকা। শিমের গাছ মাচায় উঠে গেলে ফুল এবং ফল ধরার সময় পোকা দমন এবং পোচন রোধে প্রায় প্রতিদিন ওষুধ স্প্রে করতে হয়। ৫০-৫৫ দিনের মাথায় শিম ধরা শুরু করে।

তারা জানান, এখানকার কৃষকদের উৎপাদিত শিম বাজারজাত করতে অন্য কোনো স্থানে যেতে হয় না। রাজধানী শহর ঢাকা থেকে পাইকারী ক্রেতারা এসে তাদের কাছ থেকে শিম কিনে নিয়ে যায়। এছাড়াও কোনো কোনো কৃষক শিম নিজে তুলে পার্শ্ববর্তী বাজারে বিক্রি করে থাকে। এবছর শিমের বাজার বেশ ভালো। প্রথম দিকে কেজি প্রতি বাজার দর ১০০ থেকে ১১০ টাকা হলেও বর্তমানে শিম ৭৫ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ দাম থাকলে শিম চাষিরা বেশ লাভবান হবে।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার তালহা জুবাইর মাসরুর জানান, ‘এই এলাকার জমি সবজি চাষের জন্য খুবই উপোযোগী। ভুট্টার পরপরই চাষিরা শিমসহ বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষ করে থাকে। সবজি চাষের ব্যাপারে চাষিরা বেশ অভিজ্ঞ। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের মাধ্যমে এলাকার চাষিদের উন্নত কৃষি প্রযুক্তির আওতায় আনতে পারলে শিমসহ সবজি চাষ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ভালো ভূমিকা রাখবে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সর্বপ্রকার পরামর্শ ও সহযোগিতার দরজা খোলা রয়েছে।’ 

ব্রেকিংনিউজ/এনএসএন

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2