শিরোনাম:

ময়মনসিংহে তথ্য সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী রফিকের গ্রেফতার দাবি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ময়মনসিংহ
৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: 7:59 আপডেট: 8:14
ময়মনসিংহে তথ্য সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী রফিকের গ্রেফতার দাবি

তথ্য সন্ত্রাস, প্রতারণা, চাঁদাবাজি এবং মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করার অভিযোগে দ্রুত বিচার আইনের মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিককে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ময়মনসিংহের ভুক্তভোগী পরিবার, সর্বস্তরের সচেতন নাগরিক ও সাংবাদিকরা।

মঙ্গলবার (৪ সেপ্টেম্বর ) দুপুরে নগরীর ফিরোজ জাহাঙ্গীর চত্বর ঘণ্টাব্যাপী এই মানব্ন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়।

এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অপরাধ বার্তা ডটকমের জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মো. কামাল মিয়া, সাপ্তাহিক ব্রহ্মপুত্রের নির্বাহী সম্পাদক ও শীর্ষ খবর ডটকমের জেলা প্রতিনিধি আনিসুর রহমান ফারুক, আল আমিন, রাসেল হোসেন, সিটি বার্তা ডরকমের সম্পাদক মিরাজ উদ্দিন বাপ্পী, আলকিত সকালের জেলা প্রতিনিধি বদরুল আমীন, হাসনাতুল ইসলাম মিল্লাত, ময়মনসিংহ সমচারের নির্বাহী সম্পাদক সোহরাব উদ্দিন খান, দৈনিক আজকের খবরের স্টাফ রিপোর্টার হাবিবুর রহমান, দৈনিক আজকের বাংলাদেশের স্টাফ রিপোর্টার নেপাল ধর, ফটো সাংবাদিক ফখরুল আকন্দ, সাপ্তাহিক আমাদের ময়মনসিংহের সম্পাদক কামরুল হাসান, দি ডেইলি ট্রাইব্যুনাল ও ব্রেকিংনিউজ ডটকম ডটবিডির স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মাসুদ রানা, দৈনিক সকালের সময় প্রদীপ বিশ্বাস ও অর্ধশতাধিক ভুক্তগী পরিবারের সদস্যরা।

বক্তারা বলেন, সাংবাদিক খাইরুল আলম রফিকের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহের বিজ্ঞ সিনিয়র ম্যাজিষ্ট্রেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ঠিকাদার মো. হাসেম আলী বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। কিন্তু আসামীর বিরুদ্ধে গত ৫ আগস্ট বিজ্ঞ বিচারক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। যা বর্তমানে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানায় রয়েছে। তবে এই সাংবাদিক পরোয়ানা মাথায় নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাই খাইরুল আলম রফিককে প্রশাসন যেন দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় এনে শাস্তির নিশ্চিত করেন, সেই দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ময়মমসিংহে কথিত ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও দুর্নীতিবাজ সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিক এক সময় সেনা সদস্য ছিলেন। ওই সময় এক সেনা অফিসারের বাসায় চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েন। তখন চুরি করার অপরাধে তাকে শাস্তি দিয়ে চাকুরীচূত্য করা হয়। সেখান থেকে শুরু হয় সকল অপকর্মের মূল কাহিনী। তার বিরুদ্ধে এমন একাধিক অভিযোগও রয়েছে। 

কথিত এই সাংবাদিক গ্রামের সহজ সরল মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে তার পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ্য লক্ষ্য টাকা। আর নগরীতে বেপোরুয়া চাঁদাবাজি করেই যাচ্ছে। এমন ঘটনায় জেলার বিভিন্ন থানায় অনেক ভুক্তভোগী পরিবার খায়রুল আলম রফিকের বিরুদ্ধে একাধিক জিডিও দায়ের করেছেন।

অন্যদিকে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করায় ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন থানায় কয়েকডর্জন মামলাও রয়েছে। তার মধ্যে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ঠিকাদার হাসেম আলীর নিকট মোটা অংকের টাকা দাবি করে কতিথ সম্পাদক খায়রুল আলম রফিক । টাকা না দেয়ায় হাসেম আলীর অফিসে গিয়ে ভাংচুর ও তার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেন। 

এছাড়াও সে তার ফেসবুক ওয়ালে হাসেম আলীর নামে অপপ্রচার করে পোস্ট দেয়। পরে ঠিকাদার হাসেম চাঁদা না দেওয়ায় অফিস ভাংচুর এবং মারধর করার অভিযোগে ময়মনসিংহের আদালতে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় তার রফিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরুয়ানা জারি করে আদালত। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে খায়রুল আলম রফিককে এখনো আটক করতে পারেনি পুলিশ।

অভিযোগে আরও জানা যায়, রফিক নিজেকে সম্পাদক ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ময়মনসিংহের বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী, পুলিশ, রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন মহলে চাঁদাবাজি করে বেড়াচ্ছে বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। 

এদিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক আকরাম হোসেন ডিবিতে প্রথম যোগদান করার পর তার সাথে রফিকের ভাল সম্পর্ক গড়ে উঠে। যা সত্যতা দুইজনের মোবাইল ফোনের কললিস্ট চেক করলেই পাওয়া যাবে। পরবর্তিতে এই কথিত সাংবাদিক এসআই আকরামের নিকট একটি দামি মোবাইল ফোন ও মোটা অংকের টাকা দাবি করেন। সেই মোবাইল ফোন কিনে দিতে আকরাম অনিহা জানিয়ে তাকে নগরীর নতুন বাজার এলাকার আড়ং শো রুম থেকে একটি দামি পাঞ্জাবী কিনে দেয়। কিন্তু এরপর চাঁদা দাবির টাকা না দেওয়ায় ওই পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে একাধিক বার অপপ্রচার চালিয়েছেন।

ব্রেকিংনিউজ/আরএ

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2