শিরোনাম:

মন্দিরা এষ-এর কবিতা

শিল্প-সাহিত্য ডেস্ক
২১ আগস্ট ২০১৮, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: 8:25
মন্দিরা এষ-এর কবিতা

১.
এতটা নৈঃশব্দ্য ভোর জানেনি কখনও 
যতটা এই অন্ধঘর

ভেতরে-বাইরে একাকার আজ 
ততোটা বৃষ্টি পতন

আর আমি দেখি তলিয়ে যাচ্ছে 
সব চেনা পথ, প্রিয়তর গল্পেরঘোর

জানালার মায়া যতসব...

২.
অমানুষ

আমি এক নির্ভেজাল অমানুষ 
যতোটা পারা যায়, 
ততোটা হয়ে উঠি আরো ।
জুতার তলায় পিসে মারি ট্রেনের আর্তনাদ,
বুকের নীচে চাপা পরা নদী ক্রমশ হলুদ হয়ে যায়,
আর আমি উপ্রে ফেলি জল। 
আমি সেই অমানুষ 
যার জন্মদাত্রী এক শ্রান্ত চাতক 
অথচ কেবল সমুদ্র চিনেছিল সে। 
প্রিয়তর গল্পেরা পথ বলে গেলে
আমি খুন করি হাওয়া, 
নিজেকে পুড়িয়ে মারি নীলচে আগুনে।

৩.
চন্দ্রমল্লিকা

এইসব আন্ধা-সন্ধ্যার ডামাডোলে- 
হতে পারে একটি বরফের ছুরি আঁড়পাড় করে- 
তুমি খুন হলে।
বরফ গলে যাওয়ার আগেই- 
ঝরে যেতে দেখলাম বৃন্তচ্যুত সবকটি চোখ,
থেতলে পরলো নরম রোদ-শুকা গন্ধ । 
মনে পড়ে, চৈত্রবাসে হাওয়ার মাখামাখি- 
এড়িয়ে যেতে খুব। 
অথচ রাতের স্বপ্ন ভেঙ্গে গেলে- জানলায় দাঁড়িয়ে বলতে- 
প্রকৃত পাহাড় কখনও তুফান ভোলেনি।
ঘাসঘর-কাটানদী- ফালি ফালি ঢেউ 
কোনদিনও জানবেনা- 
তোমার পিতার নাম হুয়ান পাহাড়।

৪.
বারো পৃষ্ঠা ঢেউ

আজ-
সারাদিনই নদী,
আড়ায় পাড়ায় ঘুম ঘুম গান ।
তবু ধমনীতে কৃষ্ণচূড়া খলবলিয়ে ফোটে, 
দূরের গাঁয়ের গন্ধ চিনে নিতে ।
কে যেন গাঁয়ের সুহৃদ আমার, 
হলুদ খামে ভরে পাঠালো
নদী ভেজা ১২ পাতা বন।
বৃষ্টিস্নাত বারো পৃষ্ঠা ঢেউ। 

পাতায় পাতায় কুয়াশার দাগ লেগে ছিল
ঘাসের ঘর ছিল
রোদ রোদ ওম ছিল
আর ছিল-
ঘননীল আগুনের ছায়া ।
বিলগন্ধী ডিঙ্গি ছিল
কাঁসা রঙা সন্ধ্যা ছিল
ছিল আসমানী
পালকের অহরহ খসে পরা ।

আজ-
সারাদিনই নদী, 
ঘুরে-ফিরে ঘুম ঘুম গান...

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2