শিরোনাম:

বন্ধুত্ব হোক মানবতার কল্যাণে

রাহাত হুসাইন
৪ আগস্ট ২০১৮, শনিবার
প্রকাশিত: 8:19 আপডেট: 5:19
বন্ধুত্ব হোক মানবতার কল্যাণে

জন্মগতভাবেই মানুষ বন্ধুত্বপ্রিয়। শৈশব থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানব সমাজে বন্ধুত্ব হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। বন্ধুত্ব হলো দুটি আত্মার একটি শক্তিশালী বন্ধন। বন্ধুত্ব হচ্ছে সোনালি সম্পদ যা সহজে পুরোনো হয় না। বন্ধুত্বটা অর্জন করে নিতে হয়। এ সম্পর্কটা ধন-সম্পত্তি দিয়ে ক্রয় করা যায় না। বন্ধুত্ব আমাদের সমাজ জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বন্ধু ছাড়া আবার মানবিক সমাজও কল্পনা করা যায় না। বন্ধু আছে বলেই বিপদ কাজে আসে। একজন বিপদগ্রস্ত বন্ধুর কঠিন মুহূর্তগুলো বন্ধুরাই ভাগ করে নেন সমান তালে। বন্ধুদের কাছে নির্ভয়ে আবেগের প্রকাশ করা যায়। একজন ভালো বন্ধু আপনাকে উপহার দিতে পারে শৃংখলিত জীবন। আমাদের সকলেরই কমবেশি বন্ধু রয়েছে। আমরা চাই বন্ধুত্বের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সমাজকে আলোকিত ও মানবিক রূপে গড়তে। তথ্য-প্রযুক্তির এ যুগে এসে আমাদের সমাজ থেকে দিন-দিন মানবিকবোধগুলো লোপ পাচ্ছে। অমানবিকতার ভুত চেপে বসেছে সমাজে। 

সমাজ যেন মানবিক মূল্যবোধের জায়গা থেকে সড়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় আমরা চাই বন্ধুত্বের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানবিক ও সুখী সমাজ বিনির্মাণ করতে। বিশ্ববিখ্যাত গ্রিক দার্শনিক প্লেটো বলেছেন, ‘বন্ধুদের মধ্যে সবকিছুতেই একতা থাকে’। এই একতাই আমরা কাজে লাগাতে চাই। বন্ধুত্বের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দুঃসাহসিক কাজ করার ইতিহাস রয়েছে ভুড়ি-ভুড়ি। 

বিশ্বজুড়ে বন্ধুরা গড়েছে কতশত ইতিহাস। আমরা কেন পারবো না বন্ধুত্বের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একুশ শতকে ইতিহাস গড়তে। বাঙলার দামাল ছেলেদের কেউ কখনো দাবিয়ে রাখতে পারেনি। আমাদেরকেও কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না। নিদ্রাচ্ছন্ন এই সমাজ ব্যবস্থার ঘুম ভাঙতে হবে।

বন্ধুরা মিলে প্রতিদিন একটি ভালো কাজ করলে সমাজের উপকার হবে। সব সময় ভালো কাজ করতে টাকাও লাগে না। আবার আমরা কত টাকা এদিক সেদিক নষ্ট করি। আমরা যার যার এলাকার বন্ধুরা মিলে যদি বৃক্ষ রোপন করি তাহলে পরিবেশ রক্ষায় বিরাট না হলেও বড়-সড় কাজ হবে। নিজের বন্ধুদের ধুমপান ও মাদকমুক্ত রাখেতে সচেষ্ট থাকবো।   নিজ নিজ এলাকার আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সচেষ্ট হই তাহলে সমাজ থেকে অনেক রোগ-বালাই দূর হবে। স্বাস্থ্য সচেতনতার উপর ক্যাম্পেইন করা যায়। রাস্তায় আড্ডাবাজিতে সময় নষ্ট না করে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সভা করা যায়। যৌতুক আর নারী নির্যাতনের বিষয়ে আমরা ছোট ছোট সভা করতে পারি। এতে করে সমাজের যতটা উপকার তারচে বন্ধুদের নেতৃত্ব বিকাশ হবে, দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। সামাজিক মূল্যায়ন বাড়বে।

আসুন বন্ধুরা, এবারের বন্ধু দিবসে আমরা শপথ নেই প্রতিদিন কমপক্ষে একটি ভালো কাজ করবো। বন্ধুরা মিলে সমাজে ভালো কাজগুলো করতে পারলে বিশ্বজুড়ে একদিন বন্ধুত্বের জয়গান হবে। বন্ধত্বের জয় হোক। মানবতার জয় হোক। বন্ধুত্ব হোক মানবতার কল্যাণে।

লেখক: সভাপতি-ন্যাশনাল ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2