শিরোনাম:

‘বুকে জমা হচ্ছে বারুদ’

সোস্যাল মিডিয়া ডেস্ক
৩১ জুলাই ২০১৮, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: 9:22
‘বুকে জমা হচ্ছে বারুদ’

ন্যায্য দাবিতে কীভাবে রাজপথে নামতে হয়, তা বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েরা দেখিয়ে দিল। ওদের কেউ ডাকেনি, কেউ কোন কর্মসূচি দেয়নি রাস্তায় নামার, ওরা নেমেছে শোক থেকে, বিবেক থেকে, অন্তর্দহন থেকে, আবেগ-অনুভূতি-ভালোবাসা থেকে। স্কুল কলেজের ছেলেমেয়েরা আজ গোটা ঢাকা শহরকে অচল করে দিয়েছিলো।

গণজাগরণ মঞ্চের প্রথম দিকে অনেক স্কুল কলেজের ছেলেমেয়েরা এসেছিল, সারা দেশে যেখানে পেরেছে সেখানেই ব্যানার প্ল্যাকার্ড লিখে ওরা নেমেছিল। কোটা সংস্কার আন্দোলনেও কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা নেমেছিল। অচল হয়ে পড়েছিল ঢাকা।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্ররা বহুবার সামনে থেকে বড় বড় আন্দোলনে পথ দেখিয়েছে। উনসত্তরে ক্লাস টেনের ছাত্র মতিউরকে মিছিলে গুলি করে মেরেছিল পুলিশ, এর পর কী হয়েছিল সবাই জানেন। পরাক্রমশালী আইয়ুবের পতন হয়েছিল।

এই বাংলা গণঅভ্যুত্থানের বাংলা। সাতাশি সালে বুকে পিঠে 'গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক' স্লোগান লিখে মিছিল করেছিল ২৬ বছর বয়সী নূর হোসেন। তাকে হত্যা করে টিকে থাকতে পারে নি এরশাদ। ৯০ এ গণঅভ্যুত্থানে পতন হয়েছিল এরশাদের।

বুকে বারুদ জমা হচ্ছে। কখন বিস্ফোরণ ঘটবে কেউ জানে না। ছেলেমেয়েরা শুধু একটা ঘটনার জন্য মাঠে নামে নি, যদি হত্যাকারীর বিচার হওয়ার সংস্কৃতি দেশে থাকত, যদি ছেলেমেয়েরা জানত এই দেশে অন্যায় করে কেউ পার পায় না, যদি জানত অন্যায়কারী-হত্যাকারীদের রাষ্ট্র প্রশ্রয় দেয় না- তবে তারা এভাবে মাঠে নামত না। তারা কোন আশ্বাসেই বিশ্বাস রাখতে পারে না- কেন এই অল্প বয়সেই তারা বুঝে গেছে,এই রাষ্ট্র যারা চালায় তারা সত্য বলে না।

কেবল ছাত্ররা নেমেছে। শ্রমিকরা নামতে পারে। কৃষকেরা নামতে পারে। নাভিশ্বাস উঠে যাওয়া চাকরিজীবী মধ্যবিত্তরা একদিন নামতে পারে। নামার মত যথেষ্ট বিষয়গত উপাদান মজুদ হয়ে আছে। হয়তো কারো ডাকের অপেক্ষা না করেই তারা রাস্তায় নেমে যেতে পারে। হয়ত আজ, না হয় কাল, না হয় কয়েক মাস কিংবা বছর পর।

কিন্তু গণআন্দোলন, গণসংগ্রাম তখনই রাজনৈতিক-সামাজিক পরিবর্তন আনতে পারে যখন তাকে ধারণ করার মত উপযুক্ত রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি হয়। আবার উপযুক্ত রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভাবে বেহাত হয়ে যেতে পারে গণসংগ্রাম৷ এদেশের প্রগতিশীল বাম গণতান্ত্রিক শক্তি কি ভাবী গণসংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত?

প্রস্তুতির সময় হয়তো খুব বেশি নেই। জার্মানিতে বামপন্থীরা নেতৃত্ব দিতে পারেনি বলেই নাৎসিরা এসেছিল। আজকের দুনিয়ায় নানা ভঙ্গিতে ফ্যাসিবাদী প্রবণতাগুলোর বিকাশ হচ্ছে নিওলিবারেল ইকোনমির ফলাফল হিসেবে। আর্থসামাজিক ব্যবস্থাকে না বদলাতে পারলে, ফ্যাসিবাদী প্রবণতাগুলোর কবর রচনা করা সম্ভব নয়, তা বড়জোর মুখোশ বদলাতে পারে।

সুতরাং, একটা বিপ্লবী গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেয়ার জন্য, জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করবার মত যোগ্য হয়ে উঠুক বামপন্থী প্রগতিশীল শক্তি। পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই। (লেখকের ফেসবুক পেজ থেকে নেয়া)

লেখক: শিক্ষক, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়


ব্রেকিংনিউজ/এমআর

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2