শিরোনাম:

ইমরান খানে ‘পথ’ পাবে তো পাকিস্তান?

মিথুন রায়
২৮ জুলাই ২০১৮, শনিবার
প্রকাশিত: 9:40 আপডেট: 4:49
ইমরান খানে ‘পথ’ পাবে তো পাকিস্তান?
ছবি: প্রতীকী

আশির দশকের ক্রিকেট বিশ্বের ‘শাসক’ বলা যায় ইমরান খানকে। অন্তত অর্ধযুগ ছিলেন সেরাদের সেরা। ১৯৮৮ সালে হঠাৎ অবসরের ঘোষণা দিলেও তৎকালীন পাক প্রদানমন্ত্রীর আহ্বানে আবারও ২২ গজে ফিরেন ক্রিকেট দুনিয়ার এই লিজেন্ড। এর সুফলটাও পান ১৯৯২ বিশ্বকাপ জিতে। সেবার তার নেতৃত্বেই ইংল্যান্ডকে ফাইনালে হারিয়ে প্রথমবার শিরোপার ছোঁয়া পেয়েছিল পাকিস্তান। 

শুধু তাই নয়, বলা যায়- এক ইমরান খানই সেই ম্যাচে ৭২ রানের ইনিংস খেলে ও বল হাতে ইংলিশদের গুড়িয়ে দিয়েছিলেন। এক প্রকার একাই ব্যাটে-বলে দেশকে এনে দিয়েছিলেন বিশ্বকাপ। 

বিশ্বকাপ জয়ই নয়, ইমরান খানের নেতৃত্বেই ওয়াকার ইউনূস কিংবা ওয়াসিম আকরামদের মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটাররা উঠে এসেছিল। ১৯৭১ সাল। ইমরানের জীবনে চিরস্মরণীয় একটি বছর। সেবারই জাতীয় দলের প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছিলেন এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। তার পর ধীরে ধীরে চলে আসেন সামনের সারিতে। একে এসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয় এবং ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ড্র করে তিনিই পাকিস্তানের ক্রিকেটকে আধিপত্যের আসনে বসিয়েছিলেন। 

১৯৯২ সালে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচটিই ছিল তার ক্যারিয়ারের শেষ ওয়ানডে। এর পর মাঝে ৪ বছর বেপরোয়া জীবনের জন্য অনেক বিতর্কিত হন। বিশেষত, ইমরান খানের জীবনে নারী কেলেঙ্কারি ছিল সবসময় আষ্টেপৃষ্টে জড়ানো। একাধিক বিয়ে করেও বিতর্কিত হয়েছেন। একসময় তো তাকে ‘প্লে বয়’ নামেও ডাকা হতো। 

তবে উত্তাল সেই সময় পাড়ি দিয়ে ১৯৯৬ সালে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) পার্টি গড়ে তোলেন বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক ইমরান খান। ধীরে ধীরে দলকে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত করার কাজ শুরু করেন তিনি। তবে রাজনীতির মারপ্যাঁচ বুঝতে এরই মধ্যে সুদীর্ঘ ২২টি বছর সময় নিতে হয়েছে তাকে। অবশেষে ক্রিংবদন্তি এই ক্রিকেটার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মসনদে আরোহন করতে যাচ্ছেন। ক্রিকেটর মাঠ থেকে আজ তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। 

দুর্নীতি ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থানই পাকিস্তানের জনগণের কাছে বিশেষত তরুণ সমাজের কাছে ইমরান খানকে অধিক জনপ্রিয় করে তুলে। তবে ১৯৯৬ সালে যখন তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) পার্টি গঠন করেছিলেন তখন ক্রিকেটার থেকে রাজনীতির মাঠে আসায় অনেক সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছিল ইমরান খানকে। কখনও ভেঙে পড়েননি। ২২ গজের আধিপত্যটাই যেন রাজনৈতিক জীবনেরও মূলমন্ত্র করে নিয়েছিলেন। পিটিআই গঠনের পরের বছরই পাকিস্তানে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু সেবার তাকে ফিরতে হয়েছিল খালি হাতে। দুটি আসনে তার দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটিতেই চরমভাবে পরাজিত হয়েছিল। 

স্বৈরশাসক বিরোধী সোচ্চার অবস্থানও ইমরান খানের জনপ্রিয়তার আরও একটি বড় কারণ। ১৯৯৯ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা স্বৈরশাসক পারভেজ মোশাররফের কট্টর সমালোচক ছিলেন ইমরান খান। তখন থেকে মূলত দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেরও শিরোনাম হতে শুরু করেন তিনি। এর পর ২০১৩ সালে দেশটির সাধারণ নির্বাচনে ভোট কারচুরির সব তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরে প্রতিবাদের ডাক দেন ইমরান খান। সেই নির্বাচনে তার দল পিটিআই ১৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। পর পর ভোটে ভরাডুবির পর তার রাজনীতি নতুন বাঁক নেয়। ২০১৩ সালে সংসদ নির্বাচনে নিজ আসনে জয়লাভ করার পর পিটিআইকে পূনর্জন্ম দেন ইমরান খান। এর আগে ২০০২ সালে দেশটির সাধারণ নির্বাচনেও একটি আসন পেয়েছিল তার দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। মাঝে ২০০৮ সালের নির্বাচন বয়কট করেছিল পিটিআই।

সন্ত্রাস, দুর্নীতি আর উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সরাসরি বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় তার দল। যদিও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অনেকটাই উদারপন্থি ছিলেন ইমরান খান ও তার দল। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় ব্যাপক সমালোচিতও হন তিনি। কিন্তু দুটি কারণে পাকিস্তানের জনগণ ইমরান খানকে ভালবাসতে শুরু করে। এর একটি দুর্নীতিবিরোধী আপসহীন অবস্থান ও সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে আমেরিকার ভূমিকা নিয়ে সোচ্চার হয়ে উঠা। যে কারণদ্বয় তাকে তরুণদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তুলতে থাকে। 

২০১৭ সালে নিজ দলের এক নারী নেত্রীকে আপত্তিকর এসএমএস পাঠিয়ে আবারও নারী কেলেঙ্কারিতে নাম আসে ইমরান খানের। পিটিআই নেত্রী ও জাতীয় পরিষদের সদস্য আয়েশা গুলালাই তখন অভিযোগ করেন- ইমরান তাকে আপত্তিকর প্রস্তাব দেন। সেই অভিযোগে দলকে থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগও করেছিলেন আয়েশা। তবে এ নিয়ে ইমরান খানের মধ্যে কোনও দুঃখ প্রকাশ ছিল না। উল্টো তিনি ওই নারীর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ট হতে চেয়েছিলেন। এমনকি পরবর্তীতেও বিভিন্ন সময় ওই নারী নেত্রীকে এসএমএস পাঠাতেন তিনি। 

১৯৮৪ সালে এক সাক্ষাৎকারে ইমরান খান নিজেই জানান, তিনি নারীসঙ্গ খুব ভালোবাসেন। তিনি ওই সাক্ষাৎকালে বলেছিলেন- ‘পাকিস্তানে আপনি কোনও সিঙ্গেল নারীর সঙ্গে চাইলেই দেখা করতে পারবেন না। ঘুরতে পারবেন না। কিস করতে পারবেন না। এখানে কোনও ডিসকো নেই, কোন বার (পানশাল) নেই। নারীসঙ্গ উপভোগের কোনও স্থান নেই পাকিস্তানে। এসবের জন্য যুক্তরাজ্যই আমার কাছে উপযুক্ত স্থান।’ তার এমন বক্তব্য ঘিরে তৎকালীন সময়ে খোদ পাকিস্তানের জনগণও তার উপর ক্ষিপ্ত হয়েছিল। কিন্তু একরোখা ইমরান কারও কোনও মন্তব্যেই কর্ণপাত করার মতো পাত্র নন। 

ইমরান খান ছিলেন যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ কেবলি কলেজের ছাত্র। ওই কলেজে পড়ার সময়ই গার্লফ্রেন্ডদের সঙ্গে তার অবাধ জীবন সবার নজরে আসে। এর পর ক্রমেই নারী কেলেঙ্কারিতে জড়াতে থাকেন। বান্ধবীদের নিয়ে নাইট ক্লাবে ড্যান্স করা ও মদ্যপান করার ছবি ব্রিটিশ গণমাধ্যমে এলে তাকে নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে উঠে। গণমাধ্যমের মুখরোচক শিরোনামেও পরিণত হন তিনি। একটা সময় সুন্দরী রমণীদের নিয়ে এতটাই মত্ত হয়ে পড়েন যেন ওই নারীই তার কাছে সব কিছু। যেন পানশালাই তার বাড়িঘর। 

১৯৮৬ সালে সবচেয়ে বড় ঘটনাটির জন্ম দেন ইমরান খান। সে বছর ব্রিটিশ ধনী বাবার সুন্দরী কন্যা সিটা হোয়াইটকে প্রেমের ফাঁদে ফেলেন ইমরান। তাদের মেলামেশায় এক সন্তানেরও জন্ম হয়। পরবর্তীতে সেই সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করেন তিনি। ১৯৯৭ সালে আদালতের এক আদেশে সেই সন্তানের পিতৃত্ব গ্রহণে বাধ্য হন ইমরান খান। এর বছর দশেক পরে জেমিমা গোল্ডস্মিথের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। তাকে বিয়েও করেন। কিন্তু সংসারটা বেশি দিন টেকেনি। ২০০৪ সালে জেমিমার সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর ২০১৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ঘনিষ্ট ও পাকিস্তানের শীর্ষ ধনী মিয়া মানশার ২১ বছর বয়সী একমাত্র সুন্দরী কন্যার প্রেমে মজেন ইমরান খান। এক পর্যায়ে মেয়েটি সন্তানসম্ভবা হয়ে পড়লে ইমরানের পাত্তা পাওয়া যায়নি। মান বাঁচাতে মেয়েটির পরিবার মেয়েটিকে লন্ডনে পাঠাতে বাধ্য হয়।

২০১৫ সালে দ্বিতীয়বারের মতো বিয়ে করেন ইমরান খান। স্ত্রী টেলিভিশন উপস্থাপিকা রেহাম খান। ১০ মাসের মাথায় তাদের বিচ্ছেদ হয়। এর পর রেহাম খান তার আত্মজীবনীতে ইমরান খানকে ভণ্ড, প্রতারক, বহুগামী বলে উল্লেখ করেন। সবশেষ ২০১৮ সালের শুরুর দিকে নতুন করে নারী কেলেঙ্কারিতে জড়ান ইমরান খান। আবারও গুঞ্জন উঠে তিনি বিয়ে করেছেন। গুঞ্জনটা শেষ পর্যন্ত সত্যিও হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বুশরা মানেকা নামে এক আধ্যাত্মিক নেত্রীকে তিন নম্বর স্ত্রী হিসেবে ঘরে তুলেন তিনি। এবারও সংসার স্থায়ী হয়নি। মাত্র মাস দুইয়েক টিকেছিল তাদের দাম্পত্যজীবন। 

পাকিস্তানের লাহোরে জন্ম নেয়া এই সফল রাজনীতিকের পুরো নাম ইমরান আহমেদ খান। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই লাহোরের হয়ে সারগোরার বিপক্ষে প্রথম ফাস্ট ক্লাস ক্রিকেট খেলেন। ১৯৭১ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর ৭৫ টেস্টে ৩০০ উইকেট ও ৩০০০ রান করে রেকর্ড বুকে নাম লিখান। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮২ সময়টা ছিল তার ক্যারিয়ারের সোনালী ক্ষণ। ১৯৮২ সালে মাত্র ৯ টেস্টে ৬২ উইকেট নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে বিস্ময়ের জন্ম দেন ইমরান খান। ওই বছরই তিন স্বীকার করেন সুইং করানোর জন্য বলের একপাশ ঘষে নরম করে ফেলতেন তিনি। তখনই বল টেম্পারিংয়ের কবলে পড়তে হয় তাকে। দীর্ঘ ২১ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ইংলিশ ক্লাব সাসেক্সের হয়েও দারুণ খেলেছেন। ৩৯ বছর বয়সে শেষবার বল হাতে ২২ গজে দেখা যায় এই ক্রিকেট লিজেন্ডকে। ক্রিকেটকেও তখনই গুডবাই জানান তিনি। 

তবে শেষ ১০টি বছর পাকিস্তানের রাজনীতিতে ক্রমশই পাকা অবস্থান তৈরি করেন পিটিআই প্রধান ইমরান খান। এই সময়ে বহুবার বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে খবরের শিরোনাম হন। এরই ধারবাহিকতায় ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিত দেশটির জাতীয় নির্বাচনে জনমত ও বুথ ফেরত সমীক্ষায় ইমরানের জয়ের সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠে। পাক জাতীয় সংসদের ২৭২টি আসলের মধ্যে ১৩৭টি আসন পেলেই এককভাবে সরকার গঠন করা যায়। তবে ইমরান খান নির্দিষ্ট পরিমানের চেয়ে কম আসন পাওয়ায় তাকে কোয়ালিশন সরকার গঠন করতে হচ্ছে।

২৭২টি আসলের মধ্যে ১১৫টি আসন পেয়েছে ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিকে-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৪টি আসন পেয়েছে পাকিস্তান মুসলিম লীগ (পিএমএল), পাকিস্তান পিপলস্ পার্টি (পিপিপি) পেয়েছে ৪৩টি আসন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন ১৩টি আসনে। এখন ইমরান খান কাদেরকে সঙ্গে নিয়ে কোয়ালিশন সরকার গঠন করেন সেটিও বড় বিষয়। 

গত ২৫ জুলাই পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের তুলনায় অনেক বেশি ভোট পায় ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। তবে সেনাবাহিনীর অকুণ্ঠ সমর্থনেই তিনি সরকার গঠনের সুযোগ পাচ্ছেন বলে তার সমালোচকদের দাবি। পাকিস্তানের প্রথম নির্বাচিত সরকারপ্রধান জুলফিকার আলী ভুট্টোর নাতনি ফাতিমা ভুট্টো ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক কলামে লিখেছেন, ‘পাকিস্তানের গণতন্ত্র এখন সার্কাসে পরিণত হয়েছে। আর এই সার্কাসের আয়োজক দেশটির সেনাবাহিনী। ইমরান খান সেই সার্কাসের একজন খেলোয়াড় মাত্র, আর কিছু নন। আমাদের সার্কাসে শক্তিমান রিংমাস্টার আছে, আছে খাঁচায় আটকা সিংহ। এমনকি প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতাও এতে যোগ হয়েছে। এই সার্কাস শেষ হওয়ার আগে শুরু হয়েছে শেষ পারফরম্যান্স। এতে আবির্ভূত হয়েছে ক্লাউন। সাবেক ক্রিকেট তারকা ইমরান খানের রাজনৈতিক রেকর্ড শুধুই সুবিধাবাদ ও আনুগত্যের।’ পিটিআই-সমর্থকদের ‘বর্বরতার একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যদিও নিজে এখনও রাজনীতিতে জড়াননি ফাতিমা। 

এদিকে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক বরাবরই তিক্ত। এখন সেই তিক্ততায় নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইমরান খান কতটা মধু সিঞ্চন করতে পারেন সেটিও দেখতে হবে। যদিও তিনি সরকার গঠনের পথে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে তার সরকার সুসম্পর্ক ফেরাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপে ভারত এক ধাপ এগোলে পিটিআই দুই ধাপ এগিয়ে যাবে বলেও আগাম জানিয়ে রেখেজেন ইমরান খান। 

অপর দিকে বরাবরই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী এবং মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষাবলম্বন করেছেন ইমরান খান। ফলে তার কাছ থেকে আমাদের খুব বেশি প্রত্যাশার কিছু নেই। তবু পাকিস্তানের ধর্মীয় উগ্র জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, স্বেচ্ছাচারিতা, ক্রমবর্ধনশীল বোমা হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি, দুঃশাসন, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অতীত অন্ধকার ভেদ করে বিশ্বমানুষকে আলোর মুখ দেখাতে পারলে বিশ্ববাসী নিশ্চিতভাবেই সাধুবাদ জানাবে নতুন এই প্রধানমন্ত্রীকে।

সর্বোপরি, এখন আলোচনা-সমালোচনা যেদিক থেকেই আসুক- ইমরান খান পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন এটি নিশ্চিত! ফলে দেশটির ভবিষ্যত গণতন্ত্রও এখন তার হাতেই। পাকিস্তানের মতো একটি জঙ্গিবাদী, প্রতিক্রিয়াশীল ও সেনানির্ভর রাষ্ট্রে ইমরান খান গণতন্ত্রের ধ্বজা কতক্ষণ কত উঁচুতে উড্ডীন রাখতে পারেন সেটির হিসাব করবে সময়। 

লেখক: সংবাদকর্মী

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2