শিরোনাম:

সরল রহস্যের আল মাহমুদ

ইমদাদুল হক
১৭ জুলাই ২০১৮, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: 7:09 আপডেট: 7:15
সরল রহস্যের আল মাহমুদ

স্কুলজীবনে তাঁর কবিতার সঙ্গে প্রথম পরিচয়। আর সেই পরিচয় কবির মতোই আমার কাছে ছিলো অপরিচিতের মতো। তাঁর রচিত ‘নোলক’ কবিতার গভীর রস আস্বাদনের ক্ষমতা তখনও আমার হয়ে ওঠেনি। অবশ্য ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’ ছন্দ কবিতায় আবিষ্ট হয়েছিলাম সেই কৈশোরেই। তারপরও তাঁর কবিতার সব রহস্য শব্দ ও ভাব আমার কাছে কবির সেই ‘তোমার অভিসারে যাবো অগম পারের মতোন’ ঠেকে।  

সেই আকর্ষণ থেকে জিনসের প্যান্টের চাপাচাপির মধ্যে মাটির ঢিবিতে খড়ের গম্বুজ গড়ে তোলা এ কবি সম্পর্কে জানার আগ্রহ জন্মে। বুঝতে পারি শুধু কবি নন; সময়ের নকিব তিনি। দেশমাতৃকার টানে যেমনটা অস্ত্র হাতে শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন, তেমনি কলম হাতে দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকা সম্পাদনার মাধ্যমে দ্ব্যর্থহীন ছিলেন অন্যায়-নিপীড়নের প্রতিবাদে। সত্য প্রকাশের আপসহীনতায়।

জীবনের উচ্ছ্বল সময়ে ৫২-র ভাষা আন্দোলনের ঢেউ মফস্বল শহর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আছড়ে পড়লে যুবক আল মাহমুদ এতে নিজেকে জড়িয়ে নেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও গঠিত হয়েছিলো ভাষা কমিটি এবং ভাষা কমিটির একটি লিফলেটে তাঁর চার লাইন কবিতাও উদ্ধৃত করা হয়।

একইভাবে ১৯৭১ সালে শরণার্থী হয়ে কলকাতায় যান মীর আব্দুস শুকুর আল মাহমুদ। সেখানেই তিনি যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেন। তারপর একদিন কবি তার প্রিয় কলমকে ফেলে হাতে তুলে নেন রাইফেল। দেশে ফিরে তিনি মাতৃভূমিকে স্বাধীন করার আশায় রণাঙ্গণের সশস্ত্রযুদ্ধে অংশ নেন। 

মুক্তিযুদ্ধের আগে আল মাহমুদ ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের মফস্বল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সম্পাদক। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে দৈনিক গণকন্ঠ পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব হাতে তুলে নেন তিনি। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের অস্থির রাজনীতি, দুর্ভিক্ষ, সর্বহারা আন্দোলন ও রক্ষীবাহিনী ইত্যাকার পরিস্থিতিতে দেশ যখন বিপর্যস্ত তখন গণকণ্ঠের নিঃশঙ্ক সাংবাদিকতা আজও পরবর্তী সোপানের স্বাক্ষর বহন করছে। অবশ্য এই সাহসিকতার মাশুল দিতে গিয়ে ১৯৭৩ সালে তিনি কারাগারে নিক্ষিপ্ত হন তিনি। তাঁর আটকাবস্থায় সরকার দৈনিকটিও বন্ধ করে দেয়। ১৯৭৫ সালে মুক্তি পান কবি।

এরমধ্যে রাষ্ট্রপতির বাসভবন পর্যন্ত পৌঁছে যায় আল মাহমুদের কবিখ্যাতি। কারামুক্তির পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁকে ডেকে শিল্পকলা একাডেমীর প্রকাশনা বিভাগের সহপরিচালক পদে নিয়োগ দেন। এভাবেই সম্পাদক আল মাহমুদের জীবিকা শিল্পকলা হয়ে কলামিস্টের অপ্রত্যক্ষ নেশায় রূপ নেয়। আল মাহমুদের সাহিত্যচর্চা হয়ে ওঠতে থাকে বৈচিত্র্যময়। 

বস্তুত ষাটের দশক পর্যন্ত মার্কসবাদ বা প্রলেতারিয়েত শ্রেণির মুক্তিকামী বাম দর্শন এই অঞ্চলের আদর্শচর্চার জগত দাপটের সাথে শাসন করছিলো। এতে প্রভাবিত হয়েছিলেন আল মাহমুদও। কিন্তু তাঁর জীবনের যে ঐতিহ্যের শেকড় এবং গ্রামের প্রতি গভীর অনুরক্তি, তা কখনো কবিতাকে শ্লোগান সর্বস্ব করেনি।

আল মাহমুদের এসময়ের কবিতায় অন্যায্য শাসন শোষণের অবসানের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, আমূল পরিবর্তনের ডাকও রয়েছে। কিন্তু সবকিছুকে অস্বীকার করে নাস্তিক্যবাদের ঢঙ্কা উড়ানোরও প্রয়াস তাঁর কবিতায় দেখা যায়নি। এক পর্যায়ে বাম ধ্যান-ধারণা ও দর্শনই মানুষের মুক্তির একমাত্র উপায় হতে পারে, এমন বিশ্বাসে তার চিড় ধরে। আর কবির ভাবনায়, জীবনাচরণে মহাশক্তিকে আবিষ্কার এবং অনুভবের প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়। তিনি অধ্যয়ন করতে শুরু করেন তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব। কোরআন, বাইবেল, রাসূলগণের জীবনী অধ্যয়ন শুরু করেন কবি। এটি ব্যক্তি আল মাহমুদের জীবনে আনে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন।

ব্যক্তি আল মাহমুদের বিশ্বাস নিয়ে নানা সমালোচনাও করা হয়। এসব সমালোচনাকে তিনি খুব একটা পরোয়া করতেন এমন মনে হয়নি কখনও। তাঁর সুহৃদদের মতে, আল মাহমুদের এই পরিবর্তনে নিয়ামক হয়ে উঠে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক দৃশ্যপটের পরিবর্তনও। 

এক স্মৃতিচরাণায় কবির এক সময়ের অনুজ সহকর্মী মাসুমুর রহমান খলীলি লিখেছেন- ‘রাষ্ট্রপতি জিয়ার আদর্শ স্বপ্ন ও ভাবনাকে তিনি বেশ গভীর এবং খানিকটা অন্তরঙ্গভাবে উপলব্ধি করার সুযোগ পান। জিয়া নিজের শক্তি বলে মাথা উঁচু করে সম্মানের সাথে টিকে থাকা যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন সেই স্বপ্নই ছিল অন্যভাবে কবি আল মাহমুদের। দু’জনের লক্ষের এই অভিন্নতা দুটি ভিন্ন ক্ষেত্রে সৈনিকে পরিণত করে উভয়কে। একজন মাটির গভীরের রস আস্বাদনকারী স্বপ্নচারি কবি লেখক সাংবাদিক, অন্যজন সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লড়াই করা এবং দু:সময়ে জাতির কান্ডারি হিসাবে আবির্ভূত রাষ্ট্রনায়ক।’

খলীলি আরও লিখেছেন, ‘পরিবর্তনের এই সময়টাতেই কবি আল মাহমুদের ব্যক্তি পেশা এবং লেখক জীবনের ঘনিষ্ট অনুরক্ত হয়ে কিছু সময় পার করার সুযোগ ঘটে। কবি তখন শিল্পকলা একাডেমির উপ পরিচালক এবং পরে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সুহৃদ আবু জাফর মোহাম্মদ ওবায়েদ উল্লাহ ও বুলবুল সারওয়ারের সাথে তার অফিসে কিছু সময় কাটানো তখন দৈনন্দিন রুটিনের অংশ হয়ে উঠে।’

‘রিপোর্টার হিসেবে সাংবাদিকতার প্রাত্যহিক কাজের বাইরে বড় সময়টাতে কখনো আল মাহমুদ কখনো সৈয়দ আলী আহসান আবার মাঝেমধ্যে আবদুর মান্নান সৈয়দ অথবা ফখরুজ্জামান চৌধুরীর অফিসে যাতায়াত হতো। এসব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে ছিলেন ওবায়েদ ভাই, যাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক করতে না পারার কারণে আনিসুজ্জামান স্যার (বাংলাদেশে লোকপ্রশাসন পাঠের অন্যতম স্থপতি, এখন মরহুম) দুঃখ করতেন, আর সাথে ছিলেন বুলবুল সারওয়ার। যিনি এখন একটি মেডিক্যাল কলেজের প্রথিতযশা অধ্যাপক, একই সাথে ডাক্তার ও ডক্টর। কিন্তু ডাক্তারি বিদ্যার চেয়ে নানামুখি সাহিত্যচর্চা ছিল তাঁর ছাত্রজীবনের নিত্যকর্ম।’

‘আমরা এই তিনজন মিলে বের করি একটি সাহিত্য পত্রিকা ‘অঙ্গীকার’। এর অন্যতম উপদেষ্টা ছিলেন আল মাহমুদ। অঙ্গীকারের কয়েকটি সংখ্যা নিয়ে বেশ আলোচনাও হয়েছিলো। কিন্তু সাহিত্য পত্রিকা ঠেকসই হবার জন্য আবেগের বাইরে যে আর্থিক ভিত্তি ও পরিণামদর্শী পরিকল্পনা থাকতে হয় সেটির অভাবে এটি স্বল্প আয়ুর স্মৃতিতে পরিণত হয়।’

তখন সাহিত্য পত্রিকার পাশাপাশি চিন্তা আসে সাহিত্যাশ্রয়ী সাময়িকী প্রকাশের। জ্যেষ্ঠ বন্ধু প্রতীম ব্যবসায়ী আবদুস সালামের (এখন মরহুম) বিশেষ আগ্রহে এসময় প্রকাশ হয় পাক্ষিক পালাবদল। একই সাথে ওবায়েদ ভাইয়ের বিশেষ উদ্যোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজির শিক্ষক কাওসার হোসেইনকে (পরে সড়ক দুর্ঘটনায় পরলোকগত) ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক করে বের হয় অঙ্গীকার ডাইজেস্ট। দুটি পত্রিকারই উপদেষ্টা সম্পাদক হন আল মাহমুদ।

আসলে একটি র‌্যাডিকেল বিরোধী দলীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদনার ঝড়ো পেশা থেকে শিল্পকলার নীতি-নির্ধারক পর্যায়ের কর্মকর্তা হবার স্বস্তিকর কর্মজীবন আল মাহমুদের লেখালেখিতে এক ধরনের প্রভাব ফেলে। এ সময় বাড়তি আয় এবং সাংবাদিকতা জীবনের ধারাবাহিকতায় তিনি নামে বেনামে সংবাদপত্রে কলাম লিখতে থাকেন। কাব্যচর্চাও চলে সমানভাবে। সেইসাথে ভিন্নধর্মী আত্মজীবনী, গল্পগ্রন্থ, উপন্যাস- এসব আলোচিত লেখা সৃষ্টি হয় এ সময়টাতে। একটি দৈনিকে ধারাবহিকভাবে প্রকাশ হয় আত্বজীবনীমূলক উপন্যাস ‘যেভাবে বেড়ে উঠি’। 

এরপর নতুন ঢাকা ডাইজেস্টে প্রকাশ হয় কবির বহুল আলোচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস ‘উপমহাদেশ’। পরবর্তীতে ব্যতিক্রমধর্মী উপন্যাস ‘ডাহুকি’প্রকাশ হয় পাক্ষিক পালাবদল সাহিত্য পত্রিকায়।  ফকিরাপুলের পালাবদল অফিসের অকটি অরিসর কক্ষে বসে ডাহুকি লেখা শেষ হবার পর আরেকটি বড় ক্যানভাসের উপন্যাস উপহার দেন। এটি কালজয়ী উপন্যাস কাবিলের বোন। এর পর কবি লেখেন নতুন উপন্যাস ‘যে পারো ভুলিয়ে দাও’। অঙ্গীকারে লিখেন আরেকটি উপন্যাস ‘মরু মুষিকের উপত্যকা’।

পালাবদল এবং অঙ্গিকার ডাইজেস্টের এই তিন চার বছর ছিল আল মাহমুদের লেখক জীবনের সবচেয়ে বেশি উৎপাদনশীল সময়। তিনি এ সময়ে বিভিন্ন ঈদ সংখ্য্য়া প্রকাশিত উপন্যাসিকা এবং বখতিয়ারের ঘোড়াসহ কয়েকটি কাব্যগ্রস্থের অধিকাংশ কবিতা লিখেছেন।

তার লেখা উপন্যাস ‘উপমহাদেশ’ ছিল প্রত্যক্ষ ও বিস্মৃত প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধকে ধরার প্রয়াস। অন্যদিকে ‘কাবিলের বোন’ শেষ পর্যায়ে এসে মুক্তিযুদ্ধে উপনীত হলেও এর প্রধান অনুষজ্ঞ মুক্তযুদ্ধ পূর্ববর্তী ও চলাকালীন বাংলাদেশে অবস্থারত বিহারীদের অস্তিত্ব বিপর্যয়ের কাহিনী। সন্দেহ নেই ‘কাবিলের বোন’ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের এক অনালোচিত অধ্যায়ের শব্দরূপ। মুক্তিযুদ্ধের আগের পটভূমি এবং শেষের দিকটা এসেছে ‘কাবিলের বোন’ এ। মাঝখানটা জুড়ে রয়েছে ‘উপমহাদেশ’। এই দু’ উপন্যাস মিলে মুক্তিযুদ্ধের এক সম্পূর্ণ কাহিনি।

কবি আত্মজৈবনিক উপন্যাস ‘যেভাবে বেড়ে উঠি’ যখন লিখেন অনেকের মধ্যে প্রশ্ন ছিল এটি কি আত্মজীবনী নাকি উপন্যাস। কবি এখানে নিজের বেড়ে উঠার কাহিনি বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ঢং ছিল না নিজ জীবনের গতানুগতিক বর্ণনা। একজন কবি তাঁকে বলেছিলেন, ‘এই যে বইটা আপনি লিখলেন এর তো ২০ ভাগই ভুয়া’। জবাবে কবি বলেছিলেন, ‘তার মানে এখানকার ৮০ ভাগ খাটি! এটাকি কি কম নয়?’

‘যেভাবে বেড়ে উঠি’র পর কবির জীবনের পরবর্তী অধ্যায় নিয়ে কবি লিখেছেন উপন্যাস  ‘উপমহাদেশ’। ‘যেভাবে বেড়ে উঠি’র মতো উত্তম পুরুষে লেখা হয়নি এটি। ঢং গতানুগতিক উপন্যাসের। কিন্তু উপন্যাসের নায়কের অন্তরালে কবি ছায়া প্রকাশ নিয়ে কবির ভাষ্য, উপমহাদেশ উপন্যাস একজন মুক্তিযোদ্ধার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ফসল। সত্য ঘটনা অবলম্বনে। 

আর কাবিলের সাথে রোকসানার যে প্রেমপর্ব এবং সে অধ্যায়ের জটিলতা উপন্যাসটির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কিন্তু সেসব কিছুকে ছাপিয়ে ‘কাবিলের বোন’ উপন্যাসে যে প্রসঙ্গটি আরও প্রাসঙ্গিক হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে তা হলো মুক্তিযুদ্ধ প্রাক্কালে বাঙালি-বিহারী দ্বন্দ্ব এবং সে দ্বন্দ্বে বাংলাদেশের অবস্থানরত বিহারী জনগণের নিরাপত্তাহীনতার মর্মন্তুদ চিত্র। জাতিগতভাবে ‘মাইনরিটি’ হওয়ায় একটি পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের জীবন কীভাবে বদলে যায় উপন্যাসটিতে আল মাহমুদ তা গভীর মমতায় আঁকতে সমর্থ হয়েছেন।

কবির স্ত্রী নাদিরার বিদায়ের পর কবি আল মাহমুদ খানিকটা অসহায় হয়ে পড়েন। তাঁর সংসারে আগের সেই শৃঙ্খলা থাকেনি। গুলশানে কবির একটি ফ্ল্যাট ছিল। ছেলেদের ভাগ বাটোয়ারাতে সেটি বিক্রি হয়ে গেছে। কবি থাকেন বড় ছেলের সাথে তার কেনা মগবাজারের ছোট একটি ফ্লাটে।

দৃষ্টিহীন শীর্ণকায় কবিকে দেখে এখন অনেকেই হয়তো চিনতে পারবেন না। তবুও ঠিক আগের মতোই লিখে চলেছেন কবিতা, গল্প, উপন্যাস । নিজের পড়ার বা লেখার সাধ্য নেই। কবি বলেন, ‘আর কেউ একজনকে লিখে নিতে হয়’। তবে লেখা বা কবিতার পাঠকরা ধরতে পারবেন না এই হলো আল মাহমুদের কথা থেকে অনুলিখন করে নেয়া। রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রের সম্মৃদ্ধ ব্যক্তিরা এই গুণী ব্যক্তির খবর রাখার খুব বেশি সময় পান বলে মনে হয় না। গুণগ্রাহীরা আসেন। গল্প করেন, কবিকে সান্নিধ্য দেন। নিঃসঙ্গতার মধ্যেও আল মাহমুদ পরম করুণাময়ের দিকে ফিরে যাবার টানে অবিচল। 

মগবাজারের ‘গৌমতী আয়েশা ভিলা’য় বসে জীবন সায়াহ্নে কবি বললেন, ‘মাঝে মাঝে মায়ের আঁচল ধরে যেন অলক্ষ্যে বলে উঠি, বাড়ি যাব। মাঝে মাঝে ভাবি আমার বাড়ি কই, আমার বাড়ি কি কখনো ছিল। জীবনে মানুষের যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা যেন ফুরোবার নয়। আমি কৃতজ্ঞ এই মা, মাটি আর মানুষের কাছে। আমি আকাশ-পাতাল ভাবতে থাকি। আর এরই মধ্যে তোমরা একদিন শুনবে ‘আল মাহমুদ আর নেই’।’

লেখক: সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2